আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন বিএনপির

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন বিএনপির

অনলাইন ডেস্ক

আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রতিবেদনের বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দেশের সব মহানগর এবং জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে দলটি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

মঙ্গলবার বিকালে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদ্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। আল জাজিরা টেলিভিশনে দেশ ও দেশের স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রচারিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জনমনে উত্থাপিত অনিবার্য উৎকণ্ঠা অবসানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তা এখনো না জানানোর নিন্দা জানিয়ে শিগগিরই দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভূঁয়া ও হয়রানিমূলক মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার ১০ জন নেতা-কর্মী এবং পাবনায় ৪৭ জন নেতা-কর্মীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফরমায়েসী সাজা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া দলের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদকে অযথা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সভায় এসব ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এর প্রতিবাদে দলের বৃহস্পতিবার দেশের সকল মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, সভায় এনএসআই-এর পক্ষ থেকে বিশেষ করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি সংগ্রহের জন্য যে ফরম পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাকে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য পূরণের প্রয়াস বলে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মৌলিক অধিকার পরিপন্থী এমন তৎপরতা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনীর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও জরুরি অবস্থা জারির নিন্দা জানিয়ে যথাশীঘ্র প্রতিবেশী দেশের জনগণ তাদের দীর্ঘ সংগ্রামে অর্জিত গণতন্ত্র ফিরে পাবে সে আশা ব্যক্ত করে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ অঘোষিত এক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অধীনে থাকায় গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার অসহনীয় যাতনার অভিজ্ঞতা থেকেই মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে একাত্ম। একই সঙ্গে সভায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে এখনো অক্ষম বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে আরও কৌশলী ও সক্রিয় হওয়ার জন্য দাবি জানায়।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সভায় কয়েকটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও অব্যহত দুর্নীতি অনাচার প্রতিরোধে সরকারী ব্যর্থতা এবং নির্বাচনের নামে ক্রমাগত প্রহসনে জনগণের ভোগান্তি ও উদ্বেগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। এসব অবসানে ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ