আশুরার তাৎপর্য

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

আশুরার তাৎপর্য

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

 

মহান আল্লাহর বাণী, ‘আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো, এর মধ্যে চারটি মাস অতি সম্মানিত।’ সুরা তওবা, আয়াত ৩৬। আশুরা অর্থ দশম। মহান রব্বুল আলামিন যে চারটি মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ তথা অতি সম্মানিত বলে ঘোষণা করেছেন, তার অন্যতম মহররম; যা হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। আর এ মাসের ১০ তারিখের দিনটিকে আশুরা দিবস বলা হয়। পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে অসংখ্য ঐতিহাসিক, অলৌকিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার রাজসাক্ষী এ আশুরা। প্রাচীনকাল থেকে এ দিনটি নানা জনগোষ্ঠীর কাছে পবিত্র ও মর্যাদাবান। আর ইহুদিদের কাছে আশুরার পবিত্র এ দিবসটি ‘জাতীয় মুক্তি দিবস’ হিসেবে পরিচিত। সহি হাদিসসূত্রে স্বীকৃ, এদিন আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়, হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতের চূড়ায় নোঙর করে। বিশেষ করে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে ফিরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি এবং ফিরাউনকে তার দলবলসহ নীল নদে ডুবিয়ে মারার মতো ঐতিহাসিক ঘটনা এদিনেই সংঘটিত হয়েছিল। অধিকন্তু এ দিনে ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। এ ছাড়া আরও অসংখ্য অলৌকিক, ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এ আশুরা। সংগত কারণেই মুসলমানরে কাছে আশুরার গুরুত্ব অপরিসীম। নবী-রসুলগণ এ দিনটিকে রোজার মাধ্যমে উদ্যাপন করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘প্রিয় নবী (সা.) হিজরত করে মদিনায় আগমন করার পর দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, মহান আল্লাহ এ দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে শত্রু বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি দান করেছিলেন। তাই এ দিনে হজরত মুসা (আ.) শুকরিয়া আদায়স্বরূপ রোজা রাখতেন। এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন, হজরত মুসার (আ.) অনুসরণের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। এরপর এ দিনে তিনি রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করলেন। কিন্তু কেবল আশুরার দিন রোজা রাখলে বাহ্যিকভাবে ইহুদিদের আমলের সদৃশ হয়ে যায় তাই প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করলেন, তোমরা রোজা রাখো এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সদৃশ পরিহার কর। অর্থাৎ আশুরার রোজার সঙ্গে মিলিয়ে আগে বা পরের আরও এক দিন রোজা রাখো।’ বুখারি, মুসনাদে আহমদ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সব রোজার (নফল) মধ্যে আশুরার রোজা সর্বশ্রেষ্ঠ।’ তিরমিজি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আশুরার দিনে নবীগণ রোজা রাখতেন, সুতরাং তোমরাও এ দিনে রোজা রাখো।’ মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ মুসলিম। হিজরি ৬১ সনের এই পুণ্যময় দিনে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করায় এ দিবসটি মুসলমানদের কাছে আরও স্মরণীয় ও শোকাবহ।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কোরআন জামে মসজিদ কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস) যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ