ইতিকাফের গুরুত্ব

প্রকাশিত: ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০২১

ইতিকাফের গুরুত্ব

মুফতি মাহমুদুল হক জালীস

ইতিকাফ এটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা, অবস্থান ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় জাগতিক কার্যকলাপ ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদ বা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করা বা স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। রসুল (সা.) নিজে ইতিকাফ করেছেন এবং সাহাবিদেরও করতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। হাদিসে এ প্রসঙ্গে এসেছে, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মসজিদ মুত্তাকিদের ঘর। যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবে আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত নাজিল করবেন এবং পুলসিরাত পারপূর্বক বেহেশতে পৌঁছানোর জিম্মাদার হবেন।’

রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা-ই-কিফায়া। মহল্লা বা এলাকার কোনো একজন ইতিকাফ আদায় করলে সবার পক্ষে আদায় হয়ে যাবে। কেউ যদি ইতিকাফ না করে তবে সবাই সুন্নত ত্যাগের জন্য দায়ী থাকবে এবং গুনাহগার হবে। কোরআনে ইতিকাফ সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১২৫।
হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকে এবং তার জন্য নেকিসমূহ লেখা হয় ওই ব্যক্তির মতো যে বাইরে থেকে যাবতীয় নেক কাজ করে।’ ইবনে মাজাহ। রসুল (সা.) প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুল (সা.) ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। এমনকি রসুলের পর তাঁর স্ত্রীরাও এটি আদায় করেছেন।’

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘জিবরাইল (আ.) প্রতি বছর রসুল (সা.)-কে একবার কোরআন শোনাতেন। কিন্তু যে বছর তার ওফাত হয় সে বছর দুবার শোনান। রসুল (সা.) প্রতি বছর ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি ২০ দিন ইতিকাফ করেন।’ বুখারি।

ইতিকাফের অনেক উপকারিতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় ফেরেশতারা তোমাদের একজনের জন্য দোয়া করতে থাকেন যতক্ষণ সে কথা না বলে, নামাজের স্থানে অবস্থান করে। তারা বলতে থাকে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন। যতক্ষণ তোমাদের কেউ নামাজের স্থানে থাকবে এবং নামাজ তাকে আটকে রাখবে, তার পরিবারের কাছে যেতে নামাজ ছাড়া আর কিছু বিরত রাখবে না, ফেরেশতারা তার জন্য এভাবে দোয়া করতে থাকবে।’ মুসলিম।

ইতিকাফ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির-আজকার করা। বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা। কোরআন ও হাদিসের কথা বেশি বেশি শোনা। সর্বশেষ ধর্মীয় গ্রন্থাবলি বেশি বেশি পাঠ করা।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদরাসা, কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ