ইতিকাফে লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

প্রকাশিত: ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৬, ২০২১

ইতিকাফে লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির নিশ্চয়তা

মুফতি রুহুল আমীন কাসেমী

নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী জগতের সব আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে, সব মোহ মায়া ত্যাগ করে, সব বাধা বন্ধন উপেক্ষা করে নিজের কলুষিত আত্মাকে পবিত্র করার লক্ষ্যে একান্তভাবে দয়াময় আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার নাম ইতিকাফ। ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয় পুরুষের জন্য নিয়তসহ এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত আদায় হয়। আর মহিলাদের জন্য ইতিকাফের নিয়তসহ ঘরের ভিতর নামাজের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করা। এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মাসজিদুল হারাম, এরপর মাসজিদুন নববী, তারপর মাসজিদুল আকসা, তারপর পৃথিবীর সমস্ত জামে মসজিদ ও পাঞ্জেগানা মসজিদ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২। রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শেষ দশকের রাত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রথম ২০ রাতে কিয়ামুল লাইল করার আগে বা পরে কিছু সময় ঘুমাতেন। কিন্তু শেষ দশকের প্রতি রাতে তিনি সারা রাত বা প্রায় সারা রাত জাগ্রত থেকে কিয়ামুল লাইল ও ইবাদতে রত থাকতেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশকের রাত এসে যেত তখন রসুলুল্লাহ (সা.) রাত জাগরিত থাকতেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন, তিনি অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে ইবাদত বন্দেগিতে রত থাকতেন এবং সাংসারিক, পারিবারিক বা দাম্পত্য কাজকর্ম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতেন।’ বুখারি, মুসলিম। কেননা রমজানুল মুবারকের শেষ দশকের রাতগুলোয় রয়েছে লাইলাতুল কদর। এ রাতটি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত। একটি রাতের ইবাদত হাজার মাস বা প্রায় ৮৪ বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম, সুবহানাল্লাহ! কত বড় নিয়ামত যা মানুষের পক্ষে আলাদাভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যদি কেউ ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় খাঁটি নিয়তে এ রাতে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদে জাগ্রত থাকে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেন।’ বুখারি, মুসলিম। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, এরপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশ কর।’ বুখারি)। এ পবিত্র লাইলাতুল কদর লাভে ধন্য হওয়ার জন্য আল্লাহর রসুল তাঁর উম্মতকে ইতিকাফ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে উদ্বুদ্ধ করেছেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। তিনি তাঁর ওফাত পর্যন্ত এভাবেই ইতিকাফ করেছেন। এরপর তাঁর স্ত্রীরা তার পরে ইতিকাফ করেছেন।’ বুখারি। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যদি কেউ তার ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে সামনে অগ্রসর হয় তবে তা তার জন্য ১০ বছর ইতিকাফ করার চেয়েও উত্তম।’

লেখক : গবেষক, ইমাম ও খতিব কাওলার বাজার জামে মসজিদ দক্ষিণখান, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমাদের ফেইসবুক পেইজ