ইফতারির জন্য খুন ও নির্যাতনে আলোচনায় সিলেটের ওসমানীনগর !

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২১

ইফতারির জন্য খুন ও নির্যাতনে আলোচনায় সিলেটের ওসমানীনগর !

জুনেদ আহমদ ::  ইফতারির জন্য খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিলেটের ওসমানীনগর। কখনো গৃহবধুকে খুন, কখনো নির্যাতন বা গৃহবধুর পরিবার লাঞ্চনা- নির্যাতনের শিকারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সিলেটসহ দেশ-বিদেশে নিন্দার জড় উঠেছে।
গত শনিবার (০৮ মে) উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের তাহিরপুর গ্রামে শরিফা বেগম (২১) নামে এক নববধূকে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন রবিবার (৯ মে)  এই ইফতারির জন্য গৃহবধুর বাবা-মা’কে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। উপজেলার সাদিপুর ইউপির চরসম্মানপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ জায়েদা বেগম (২১) বাদী হয়ে স্বামী মামুন মিয়া (২৫), শ্বশুর আমির আলী (৬০) ও শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমের (৪৮) নামে মামলা করেছেন। মামলায় গৃহবধূর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সূত্র জানা যায়, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন গৃহবধূ জায়দাকে নির্যাতন করে আসছেন। এ ব্যাপারে একাধিকবার সালিস বৈঠকে মীমাংসা হয়। রোববার সকাল ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতারি ও জামা কাপড় না আসায় গৃহবধূ জায়দাকে তার স্বামী মামুনসহ পরিবারের লোকজন রশি দিয়ে খাটের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় গৃহবধূ জায়দার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমসহ তার ঠোঁট কেটে যায়।

নির্যাতিত গৃহবধূর নির্যাতিত বাবা আবদুস শহীদের ভাষ্য, ‘টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মেয়েকে নির্যাতন করত। আমাদের অবস্থা ভালো না। টাকা দিতে পারি না। গতকালও ঈদের কাপড় কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি তাঁদের বাড়িতে গেলে মেয়েকে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় আমি এর প্রতিবাদ জানালে আমাকেও মারধর করা হয়। প্রতিবেশীরা আমাকে উদ্ধার করেন।

সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, গত শনিবার দুপুরেও একই ধরনের ঘটনায় এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় নিহতের স্বামী ও শাশুড়ীকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর এক দিন পর রবিবার অন্য এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ আসে। রবিবারের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলে। এ ঘটনায় করা মামলায় গৃহবধূর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা চলছে।

উল্লেখ্য, সিলেটের ইফতারী প্রথা কালক্রমে মারাত্মক আকারে সামাজিক জুলুমে পরিণত হয়েছে।এটা কখনোই ইসলাম সমর্থন করেনা।আত্বীয়ের হক আদায় করা সুন্নত।রমজান শরীফে রোজাদারদের ইফতার করানো সওয়াবের কাজ। কিন্তু সওয়াব করতে গিয়ে ঋণ গ্রস্ত হওয়া,সুদে ঋণ উত্তোলন করা,শেষ সম্বল জমি জামা ও গৃহপালিত পশু বিক্রী করে নিঃশ্ব হয়ে যাওয়াকে ইসলাম সমর্থন করেনা।আবার ইফতারি না দেওয়ার কারণে মেয়েকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করা, হেয় প্রতিপন্ন করা, সামাজিকভাবে ছোট চোখে দেখা,অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা, বাপের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়া স্পষ্ট জুলুমের কাজ। ইসলাম কখনোই জুলুমকে সমর্থন করেনা। তবে আশার বাণী হল, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ইফতারী প্রথা চায় না।তারা বিভিন্ন সময় সোস্যাল মিডিয়ায় ইফতারি প্রথার বিরুদ্ধে স্টেটাস দিয়ে তাদের মতামত পেশ করছে এবং জনমত গঠন করছে।তবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতা তৈরীর মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

আমাদের ফেইসবুক পেইজ