ইফতারের সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’

প্রকাশিত: ১:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

ইফতারের সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’

সিলনিউজ ডেস্ক :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ইফতারের সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ খাইয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের বোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিপন মিয়াসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র রিপন মিয়া একই ইউনিয়নের বোগলা গ্রামের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ফুপাতো ভাই ফয়সালের (১২) মাধ্যমে বাংলাবাজার ইউনিয়নের উরুরগাঁও গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের পুত্র জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে নেশার ওষুধ কিনে তা ইফতারসামগ্রীতে মিশিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে পাঠায়। নেশা মেশানো ইফতারসামগ্রী খাওয়ার পর ওই ছাত্রী এবং তার দাদা অজ্ঞান হয়ে গেলে মধ্যরাতে তাদের ঘরে এসে রিপন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ভোর রাতে ওই ছাত্রীর ঘুম ভাঙার পর তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে মেয়েটি ঘটনা খুলে বলে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপনসহ মেয়েটির ফুপাতো ভাই ফয়সাল এবং নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রেতা জসিম উদ্দিনকে আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের আলামত হিসেবে পোশাকসহ ইফতারসামগ্রী ও একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। ভিকটিমকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। এতিম মেয়েটির একমাত্র আশ্রয় তার বৃদ্ধ দাদা। বাড়িতে তার বৃদ্ধ দাদা ব্যতিত আর কেউ নেই। এই সুযোগে ধর্ষক রিপন মেয়েটির ফুপাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ইফতারসামগ্রীর সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে মধ্যরাতে ধর্ষণ করেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, রিপন এলাকার চিহ্নিত একজন অপকর্মকারী। তার বিরুদ্ধে চুরি, চোরাকারবারিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। এসব অপকর্মের কারণে কিছুদিন পর পর সে জেল খেটে ফের এলাকায় ফিরে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ধর্ষকসহ আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রেতা জসিম দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত। সে অজ্ঞান পার্টির বড় হোতা। সে এলাকায় শিশুদের দিয়ে নেশার ওষুধ বিক্রি করে এবং চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। তার সহযোগী এবং নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রেতাকেও আটক করা হয়েছে। রিপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

আমাদের ফেইসবুক পেইজ