ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সিসিক মেয়রের বক্তব্য ভাইরাল : দেশজোড়ে তোলপাড়

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৯

ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সিসিক মেয়রের বক্তব্য ভাইরাল : দেশজোড়ে তোলপাড়

প্রতিবেদক : রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে স্মরনোৎসবের সদস্য সচিব আরিফুল হকের বক্তব্য শুনে সিলেট জোড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের কল্যাণে এই বক্তব্য এখন সিলেটের গন্ডি পেড়িয়ে চলে গেছে দেশ এবং দেশের বাহিরে। চলছে সমালোচনার ঝড়। রবীন্দ্র বিষয়ে উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিবের এমন বক্তব্য শুনে আয়োজক কমিটির ব্যর্থতাকে দায়ি করেছেন অনেকেই। মেয়রের অজ্ঞতাসুলভ বক্তব্যে সিলেটবাসীর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি কেউ। প্রশ্ন তোলেছেন সিলেটে রবীন্দ্র চর্চার বিষয়েও। রবীন্দ্রনাথ না জানা এবং রবীন্দ্রনাথকে না মানা লোককে কেনো এই কমিটিতে জড়ানো হলো-এমন বিষয়েও খেদোক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

রবীন্দ্র গবেষক আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন রবীদ্রনাথ সিলেট ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও যাননি! সিলেটে নতুন রবীন্দ্র গবেষক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি যে এত বড় রবীন্দ্র অনুরাগি এই" রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্বরণোৎসব" না হলে সিলেটবাসির আজানাই থেকে যেতো।একটি বেসরকারী টিভি চ্যানলকে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন রবীন্দ্রনাথ সিলেট ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও যাননি! মাননীয় মেয়র মহুদয় আপনার এত গুন! এবার এই উৎসব অনুষ্টানের পরে আপনাকে রবীন্দ্রনাথের উপর পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হোক!জাতির জনকের শাহাদৎ বার্ষিকীর দিন সময় হয় না,সেদিন হয় নানা বাড়ী চলে যান নয়তো শশুর বাড়ী।অথচ যেখানে মামুর গন্ধ পান সেখানে আপনি হাজির!নিচে ভিডিওটি দেখুন।

Posted by Shajlu Laskar on Tuesday, November 5, 2019

মঙ্গলবার রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরনোৎসবের আয়োজনে আগমনী অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে একটি ইলেকট্রনিকস মাধ্যমে কথা বলেন পরিষদের সদস্য সচিব মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের আর কোথাও যাননি, একমাত্র সিলেটেই এসেছিলেন। সিলেটের রুপে মুগ্ধ হয়ে ভালবেসে তিনি সিলেটকে শ্রী ভুমি আখ্যা দিয়েছিলেন’। উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের পর নিন্দার ঝড় উঠে সারাদেশে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলেছেন, এই বক্তব্যে মধ্য দিয়ে সিসিক মেয়র প্রমাণ করে দিলেন, রবীন্দ্রনাথ কখনোই তাদের অধ্যয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিলেননা। এমনকি রবীন্দ্র সংস্কৃতি বিরোধীদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত-এমনটিও বলেছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে পরিবেশ সংগঠক আবদুল করিম কিম নিজের ব্যক্তিগত টাইম লাইনে বলেন, কবিগুরু পারিবারিক জমিদারী পরিদর্শনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসরে ১৮৮৮ থেকে ১৯১৫ পর্যন্ত প্রায় প্রতিবছর ছুটে এসেছেন। ১৯৩৭ সনে শেষবার পুণ্যাহ উপলক্ষে জমিদারি ঘুরে যান তিনি। তবে ১৯১৯ থেকে তিনি জমিদারির দায়িত্বের বাইরে বিশ্ববরেণ্য কবি ও বাঙালি সমাজের মহানায়ক হিসেবে পূর্ববঙ্গের অন্যান্য জেলায় নানা উপলক্ষে এসেছেন। ১৯০৭ সালে তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন। সেবারে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা ও চাঁদপুর হয়ে আগরতলা যান। পরে সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ, পাবনা, খুলনা, কুমিল্লা, রাজশাহী সফর করেছেন। ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রনাথের সপ্তাহব্যাপী ঢাকা সফরের বিস্তারিত বর্ণনা আছে চিন্তাবিদ আবুল ফজলের আত্মজীবনী রেখাচিত্র-তে।
মাননীয় মেয়র কবিগুরুর এই বঙ্গভ্রমণ বিষয়ে হয়তো জানেন না । উনাকে এই কাজে যারা নীজ স্বার্থসিদ্ধির অভিপ্রায়ে যুক্ত করেছেন, তাঁরা হয়তো প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেননি । সেটা না করাই স্বাভাবিক । এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক মাননীয় মেয়রকে শুধরে দিতে পারতেন, যেহেতু এটি লাইভ সাক্ষাৎকার ছিলো না । আমি এই লেখা মেয়র সাহেবকে বিব্রত করার জন্য লিখছি না । শুধু তাঁকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য লিখছি । তিনি সব ভুলে গেলেও বিশ্বকবির ময়মনসিংহ সফরের কথা ভুলে যাওয়া বা না জানাটা ঠিক হয়নি । মাননীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শ্বশুরবাড়ি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় । তাই মেয়রের এই অজ্ঞতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে শালা-শালীরা যদি তাঁদের দুলাভাইয়ের উপর ক্ষেপে ওঠে ? শ্বশুরবাড়ির সুনামের গল্প জামাইদের জেনে রাখা উচিৎ ।

ময়মনসিংহের খ্যাতিমান জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী’র আমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে আসেন। সেসময় কবির সফরসঙ্গী ছিলেন তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ, পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ইতালির অধ্যক্ষ জোসেফ তুচি প্রমুখ। ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কবি গুরু সূর্যকান্তের বাগান বড়ি আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলে অবস্থান নেন । সেই আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল এখন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । ১৯২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলা সাহিত্যের দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আঠারবাড়ি এসেছিলেন।

কবিগুরুর সম্মানে শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী প্রমোদচন্দ্র রায় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। ওই দিন কবির সম্মানে বাউল ও জারি-সারি গানের আসর বসেছিল জমিদারবাড়িতে। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভের শুভেচ্ছা বিনিময় ও শান্তিনিকেতনকে বিশ্বনিকেতন করে গড়ে তুলতে আর্থিক সমর্থনের লক্ষ্যে ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রায় এক সপ্তাহ ঢাকায় অবস্থান শেষে তিনি ময়মনসিংহ ভ্রমণ করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি কবিগুরু ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে পৌঁছেন। সেখানে কবিকে বরণমালা পরিয়ে দেন মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজ শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী। ওই সময় কবির পাশে ছিলেন তার পুত্র রথীন্দ্রনাথ, পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ইতালির অধ্যক্ষ জোসেফ তুচি প্রমুখ। কবিগুরু ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি জমিদারবাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেদিন কবিগুরুকে দেখার জন্য ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুরের হাজার হাজার মানুষ ঈশ্বরগঞ্জ সদরে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দেয়।

এরপর আঠারবাড়ি রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর কবিকে হাতির পিঠে চড়ানো হয়। শত শত মানুষ জয়ধ্বনি করতে করতে কবিকে জমিদারবাড়ির মূল ফটক পর্যন্ত নিয়ে যায়। মূল ফটকের কাছে কবিকে সোনার চাবি উপহার দেন জমিদার প্রমোদচন্দ্র রায়চৌধুরী। ওই চাবি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ কাছারি ঘরের মূল ফটক খোলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ