উজ্জীবিত সিলেট আওয়ামী লীগ-সাংগঠনিক ব্যস্ততায় নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: 11:07 PM, November 17, 2019

উজ্জীবিত সিলেট আওয়ামী লীগ-সাংগঠনিক ব্যস্ততায় নেতাকর্মীরা

মো. আইনুল ইসলাম

উজ্জীবিত সিলেট আওয়ামী লীগ। সিলেটে উপজেলা, পৌর ও ওয়ার্ডে চলছে সম্মেলন। দীর্ঘ ৮ বছর পর আগামী ৪ঠা ও ৫ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলন কে ঘিরে সমগ্র আওয়ামী লীগের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দলীয় লবিং। সবমিলিয়ে সাংগঠনিক ব্যস্ততায় সময় পার করছেন দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে ইতিমধ্যে অর্ধডজন প্রার্থী আলোচনায় এসেছেন। চলছে জোর লবিং। পাশাপাশি জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ডজনখানেক। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
৮ বছর নেতৃত্ব পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রত্যেক নেতাকে। দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন।
এর মধ্যে ৪ ডিসেম্বর মহানগর ও ৫ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনকে ঘিরে সিলেট আওয়ামী লীগের ভেতরে লবিং আর গ্রুপিংয়ের অন্ত নেই। পুরাতনদের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছেন নতুনরাও। তারাও এবার দুটি ইউনিটেরই সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াইয়ে নেমেছেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের বাকি থাকা ৬টি ইউনিটের সম্মেলন শেষ করেছে। এরপর তারা বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্মেলনের জন্য গঠন করা হয়েছে উপ-কমিটিও। নগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে তেমন কোন্দল নেই। পাশাপাশি বহিরাগত কিংবা লুটপাটকারীর সংখ্যাও কম।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন, তিনি কর্মী। নেত্রী যেখানে তাকে দায়িত্ব দেবেন সেই দায়িত্ব তিনি পালন করবেন। দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো স্থানে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে এবার কামরান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে এবার প্রার্থী অর্ধ ডজন।
ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার জানিয়েছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শৃঙ্খলাপূর্ণ। আমাদের ভেতরে একতা থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে। ভবিষ্যতেও সেটি বিরাজমান থাকবে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে এবার মহারণ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইতিমধ্যে ডজনখানেক প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। কেউ কেউ গণমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। জেলায় সভাপতি পদে ৫ প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, সাধারণ সম্পাদক পদে যারাই ইতিমধ্যে প্রার্থী হওয়ার আভাস দিয়েছেন তারা অনেকেই যোগ্য নেতা। তবে এবারের উপজেলা সম্মেলনে চমক দেখাচ্ছেন তরুণ নেতা নাসির উদ্দিন খান। উপজেলা ইউনিটের প্রায় প্রতিটিতেই তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।
দীর্ঘ ৮ বছর ধরে একই কমিটির অধীনে চলার কারণে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিভক্তি ও কোন্দল জমাট বেঁধেছে। এ কারণে বর্তমানে সম্মেলন হওয়া ৮ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় কোন্দল মিটমাট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে কেবল গোলাপগঞ্জ ছাড়া অন্য উপজেলাগুলোতে সফলতা পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। গোলাপগঞ্জ থেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার কারণে তার মতামতের উপর নির্ভর করছে এ উপজেলার কমিটি। জেলার নেতারা জানান, উপজেলা ও পৌর সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট আওয়ামী লীগ পরিশোধিত হচ্ছে। বহিরাগত ও আদর্শ বিরোধীদের বর্জন করা হচ্ছে। জেলার সম্মেলনে একই অবস্থা দেখা দেবে। যারা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ ও ত্যাগী কর্মী তাদের করা হবে মূল্যায়ন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ