উপমহাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, বৃহত্তর কুষ্টিয়ার কিংবদন্তী বাম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

উপমহাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, বৃহত্তর কুষ্টিয়ার কিংবদন্তী বাম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা কমরেড শেখ রওশন আলি’র আজ প্রয়াণ দিবস। আমাদের বিপ্লবী শ্রদ্ধা………………।। [ ১৯০৫ সালের ১৮ জুলাই কুষ্টিয়ায় প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শেখ রওশন আলি’র জন্ম। মাতা মতিজান নেছা, পিতা শেখ এলাহী বকস। প্রতিভাবান, হৃদয়বান ও সাহসী নেতা কমরেড শেখ রওশন আলি ছিলেন কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিল শ্রমিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৩৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পাবার পর থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন একজন খাঁটি কমিউনিস্ট। স্কুলে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে লেখাপড়া বেশিদূর তিনি আগাতে পারেননি। ১৯১৬ সালে রুটি তৈরির কারখানায় সহযোগী শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। ১৯৩২ সালে মোহিনী মিলে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকেই মোহিনী মিলের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে কমরেড রওশন আলি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হয়েছেন ইতিহাস। এ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জন্য অবশ্যই অনুকরণীয়। মোহিনী মিলের শ্রমিকদের সংগঠিত করে রওশন আলি ১৯৩৪ সালে গঠন করেন “মোহিনী মিল সুতাকল মজদুর ইউনিয়ন”। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে ও নেতৃত্বে গড়ে উঠে দূর্বার শ্রমিক আন্দোলন ও বিক্ষোভ। মালিক পক্ষের ভাড়াটিয়া গুণ্ডাদের সশস্ত্র আক্রমণে নিহত শ্রমিক নেতা জমির উদ্দিনের নামে সুসজ্জিত লালঝাণ্ডার ‘জমির উদ্দিন ব্রিগেড’ গঠন করে আন্দোলনকে আরো জোরাদার করে তুলেন। ১৯৩৬ সালে মিল কর্তৃপক্ষ রওশন আলিকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করলে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যান। তুমুল বিক্ষোভ আর আন্দোলনের মুখে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। আন্দোলনে শ্রমিকদের বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতজুড়ে। রওশন আলি হয়ে উঠেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি শ্রমিক নেতা। ১৯৩৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পাবার পর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হিয়নি। কুষ্টিয়া অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির কাজের পাশাপাশি কৃষক সমিতি, জেলে সমিতি, ধাঙ্গড় সমিতি, বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, ঠেলাগাড়ী শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গণসংগঠন গড়ে তোলা এবং এ ধরনের নানা কাজে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। জেল খেটেছেন, আত্মগোপনে থেকেছেন, আবার এর মধ্যেও বিরামহীনভাবে পার্টির দায়িত্ব সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করেছেন। দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষের মুখে অন্ন জুগিয়েছেন। ’৭১ এর স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ তাঁর নেতৃত্বে কুষ্টিয়া থানা ও টেলিফোন অফিসে হামলা চালানো হয়। ১৫ দিন কুষ্টিয়াকে পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত রেখেছেন। যুদ্ধ পরবর্তীতেও যুদ্ধবিধবস্থ দেশ পুনর্গঠনে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। নিজে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, অন্য প্রার্থির পক্ষে জান বাজি রেখে প্রচারণা চালিয়েছেন। অংশ নিয়েছেন তেভাগা আন্দোলনে, রুখেছেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় কুষ্টিয়াতে কোনো দাঙ্গা হয়নি। যুক্ত থেকেছেন পার্টির উচ্চতর সাংগঠনিক কাজকর্মে। কি না করেছেন তিনি। কুষ্টিয়া অঞ্চলের সকল প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে আজীবন তাঁর সাহসী অংশগ্রহণ ছিল অগ্রগণ্য। কমিউনিস্ট পার্টির কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠন হলে তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং আজীবন এ পদে বহাল ছিলেন। কোনোদিন আদর্শচ্যুত হননি। পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্টদের উপর দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়ায় পার্টির সিদ্ধান্তক্রমে ১৯৪৯ সালে কমরেড রওশন আলিকে সম্পাদক করে পার্টির ৩ সদস্যের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হয়। ১৯৫১ সালের সম্মেলনে কমরেড মণি সিংহ সম্পাদক নির্বাচিত হলে রওশন আলি এ কমিটির অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৯ সালের শেষ দিকে কমরেড রওশন আলি গ্রেফতার হয়ে টানা সাত বছর জেল খেটেছেন। আরও অনেকবার জেল খেটেছেন তিনি। কমরেড শেখ রওশন আলি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, পূর্ব জার্মানি সফর করেছেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের সপ্তম কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার তাঁকে আবার জেলে পুরে। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতায় এলে এর বিরুদ্ধে কমরেড রওশন আলি স্কপ ও ১৫ দলের প্রধান নেতা হিসেবে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এমন কি মৃত্যুশয্যায়ও তিনি পার্টি সংগঠন ও আন্দোলন নিয়ে ভাবতেন। ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আজীবন সংগ্রামী ও ত্যাগী এই নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ] (শেখ রওশন আলিঃ জন্ম: ১৮ জুলাই ১৯০৫ — মৃত্যু: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪) কৃতজ্ঞতা: কমরেড তুহিন কান্তি

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ