এক বছর পরও রিফাত হত্যার বিচার হয়নি

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

এক বছর পরও রিফাত হত্যার বিচার হয়নি

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার (২৬ জুন)। গত বছরের (২০১৯) এই দিনে বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে (রিফাত শরীফ)। এরপর থেকে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আসছেন রিফাতের পরিবার।

তবে আলোচিত এই হত্যার এক বছরে অতিবাহিত হলেও এখনও আটকে আছে এর বিচার। তবে কবে তা শেষ হবে? আইনজীবীরা বলছেন, করোনার ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠলেই শেষ হবে বিচার।

এর আগে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জানা যায়, ফেসবুকভিত্তিক ০০৭ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হত্যাকারীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। এই গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছিল জেমস বন্ড সিরিজের ০০৭ নামের সাথে মিল রেখে।

এই বন্ড গ্রুপের প্রধান ছিলেন নয়ন বন্ড এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরায়েজী এ গ্রুপটি পরিচালনা করতেন।

এদিকে বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। এ ঘটনায় ২৭ জুন ১২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

এক এক করে যখন আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছিল ঠিক সে মুহূর্তে ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মামলার প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

এরপর ঘটনা নতুন মোড় নেয়। এই দিন সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নিয়ে এসে রাতে রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন স্ত্রী মিন্নি।

এছাড়া গতবছর পহেলা সেপ্টেম্বর মিন্নিকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামী করে দুই ভাগে বিভক্ত মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালত ও শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো: হাসান, মো: মুছা, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো: সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন। আসামীদের মধ্যে মো: মুছা এখনও পলাতক রয়েছেন।

আর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, মো: রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো: রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো: আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো: ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো: নাইম, মো: তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো: সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।

দায়রা জজ আদালতে ৭৬ স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। শিশু আদালতে মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি। করোনার ক্রান্তিকাল কেটে গেলে আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

এ মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামীদের মধ্যে মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামীদের মধ্যে সাতজন জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগার ও যশোর শিশু কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ