এক বৃষ্টিতেই বদলে দিল প্রকৃতির রঙ : চার আনা বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১

এক বৃষ্টিতেই বদলে দিল প্রকৃতির রঙ : চার আনা বোরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট

এক বৃষ্টিতেই বদলে দিল প্রকৃতির রঙ আর রূপ। গাছপালা লতাপাতা ফিরে এলো সজীবতা। নদ-নদী খাল-বিল ফিরে পেল হারানো যৌবন। হাওরের জমিনে চৌচির ফাটা এখন পরিপূর্ণ বৃষ্টির পানিতে। বৃষ্টির পানিতে খাল খন্দক ভরে কলকলানি শব্দে গড়িয়ে যাচ্ছে হাওরের বিলে। নর্দমা কাঁদাযুক্ত ধুলোবালির গ্রামীণ রাস্তা। প্রবল হিমেল হাওয়ায় দুলছে কৃষকের এক গাদা ঘাম ঝরানো সোনালী ফসল ধানের গাছ। হাতছানি দিয়ে ডাকছে আর কৃষককে বলছে সবুর কর একটু সময় অপেক্ষা কর, আমি যাব তোর ঘর। বাতাসের সাথে দুলছে আর এক গাছে অন্য গাছের সাথে গলাগলি করছে এ যেনো এক অনন্য অপূর্ব মিতালী। নোয়াবার তবু কিন্তু ভাঙার নয়। চোখ জুড়ানো মন ভোলানো সবুজের খেলা যেকোনো মানুষের হৃদয়ে দেয় নাড়া। স্বচক্ষে অবলোকন করলে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। সাগরের ঢেউ যেমন খেলা করে কিনারে ভিড়ে ঠিক তেমনি সাগরের ঢেউয়ের মতো সবুজ ধানের খেলা দিগন্তে হারিয়ে যায়।
তাইতো কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী তাঁর ‘চাষী’ নামক কবিতায় লিখেছেন, ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা। মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ, সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।’
তারপরও কৃষকের মনে হাহাকার দুঃখ ব্যাথা। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, পোকামাকড়, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শঙ্কা, ভয়, সংকটময় মুহুর্ত গুলো কাটিয়ে বুকে সাহস নিয়ে বারবার কৃষক মাঠে কাজ করে ফসল ফলায়।
সোমবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় বয়ে যায় বজ্রসহ বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি। এই শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার চার আনা বরো ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন উপজেলার কৃষকরা উপজেলার কিছু হাওয়ারের ২৮ জাতের ধান পেকে এসেছে, কেউ কাটতেও শুরু করেছেন আবার কেউবা সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করছেন। লম্বা খরায় পানির অভাবে উপজেলার নন্দীরগাঁও ও তোয়াকুল ইউনিয়নের হাওরের কিছু ফসল জ্বলে সাদা হয়ে গেছে এমন খবরও পাওয়া গেছে।
নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁওর কৃষক ইলিয়াছ মিয়া বলেন, চার কিয়ার জমিতে আটাইশ জাতের ধান লাগিয়েছিলেন, কাটতেও শুরু করেছেন কিন্তু গত পরশু রাতের শিলাবৃষ্টিতে ধানের ছড়া থেকে অর্ধেক ধান পড়ে গেছে।
কৃষক মিসবাহ উদ্দীন বলেন, আর মাত্র এক সাপ্তাহ পরে ধান কাটা শুরু করতে পারতাম। বর্তমান শিলাবৃষ্টিতো ছয় আনা ধান মাটিতে পড়ে আছে।
৪ নং ওয়ার্ড সদস্য কৃষক আপ্তাব আলী বলেন, ক্ষতিটা এখন বুঝা যাবে না, ৪/৫ দিন পরে দেখা যাবে অনেক ধানের গাছ সাদা রং ধারন করে মরা ছড়া বাহির হবে। সব মিলিয়ে চার আনা ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী জানান, উপজেলার নম্দীরগাঁও ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নে কিছুটা শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ