এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন নিয়ে দু-চার কথা

প্রকাশিত: ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২১

এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন নিয়ে দু-চার কথা

আহমদ রফিক

[বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক একতা’র আজ ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এই লেখাটি ‘সাপ্তাহিক একতা’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লিখেছিলেন ০৫ আগস্ট, ২০১৮ সংখ্যায়। ‘সাপ্তাহিক একতা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লেখাটি একতা টেলিভিশনে প্রকাশিত হল। -নির্বাহী সম্পাদক।]

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম ও যাত্রা শুরু বিদেশে (তাসখন্দে) ১৯২০ সনের ১৭ অক্টোবর। এর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা এম.এন রায় ও তার সঙ্গীরা। শুভ উদ্যোগ হওয়া সত্ত্বেও এ যাত্রায় ছিল ব্যক্তিক সংঘাত ও বাস্তবতা বিবর্জিত চিন্তা। তা সত্ত্বেও এ সংগঠনের কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের স্বীকৃতি মেলে ১৯২১ সনে। স্বদেশের মাটিতে সাংগঠনিক বীজ বপনে এদের আগ্রহ দেখা যায়নি।

ভারতের মাটিতে অনুরূপ উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯২১-২২ সালে কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও লাহোরে। সহযোগিতার জন্য এদের নজর ছিল, হাত বাড়ানো ছিল বলশেভিক বিপ্লবের কেন্দ্র ভূমি মস্কোর দিকে। বঙ্গদেশে কমিউনিস্ট সংগঠন গড়ার প্রাথমিক উদ্যোগে মূল ব্যক্তি ছিলেন মুজাফফর আহমদ, রেজ্জাক খান প্রমুখ, অব্যবহিত পরে আবদুল হালিম।

ব্রিটিশ ভারতে শাসকশ্রেণির প্রবল বলশেভিক আতঙ্ক ও মার্কসবাদীদের ওপর প্রচণ্ড দমননীতির কারণে নব্য কমিউনিস্টদের কাজকর্ম সম্পাদন যেমন গোপনে ছিল তেমনি পরোক্ষভাবে জাতীয়তাবাদী সংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায়। যেমন ১৯২১ সনে কংগ্রেসের আহমেদাবাদ অধিবেশনে তাদের পার্টির আদর্শ ও কর্মসূচির দীর্ঘ বিবরণমূলক ইশতেহার বিতরণ। কিংবা একই ফোরামে ১৯২৬-এ কৃষি ও কৃষক সমস্যা নিয়ে, মূলত তাদের ‘জমি, রুটি ও শিক্ষা’ নিয়ে লড়াইয়ে নামার আহ্বান।

শাসকশ্রেণিও চুপচাপ বসে থাকেনি। একের পর এক ‘ষড়যন্ত্র মামলা’ সাজিয়ে হয়রান করেছে কমিউনিস্ট নেতাদের। নেতারা এবার ভিন্নপথ ধরেছেন। ‘কমিউনিস্ট’ শব্দটিকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ভিন্ন নামে সংগঠন তৈরি করে কাজে তৎপর হয়েছে, যেমন ‘লেবার স্বরাজ পার্টি’। উদ্দেশ্য শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলনে সংগঠিত করা। পরে নাম পাল্টে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ থেকে ‘শ্রমিক কৃষক পার্টি’। পূর্ববঙ্গে তরুণ মার্কসবাদীরা এতে যোগ দেন। যেমন মণি সিংহ, গোপাল বমাক প্রমুখ।

অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে এদের সংশ্লিষ্টতা কল-কারখানা থেকে রেলওয়েতে। এক্ষেত্রে দুটো নাম উল্লেখযোগ্য মোহাম্মদ ইসমাইল ও তরুণ জ্যোতিবসু। দুঃখজনক যে, এ পর্বেও তারা স্বনামে প্রকাশ্য সংগঠন নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হননি। সম্ভবত নির্যাতন ও দমননীতির ভয়ে। অবশ্য এরপর ১৯৩৬-এ সারা ভারত কৃষক সভা গঠন ও এর সাংগঠনিক বিস্তার ছিল লক্ষ্য করার মতন।

দশক দুই সময় তাদের কাটে স্বনামে গোপন তৎপরতা ও বেনামে প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে। এরপর তো ১৯৩৯ সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু। প্রথমে তাদের যুদ্ধ বিরোধিতা, পরে সোভিয়েত ভূমি আক্রান্ত হবার পর ভূমিকা বদলে ‘জনযুদ্ধ’ ঘোষণা, জেলখানা খালি করে তাদের বাইরে আসা, আগস্ট আন্দোলন (১৯৪২) নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভূমিকা, সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে বাংলাজুড়ে ব্যাপক ত্রাণকার্য ও লঙ্গরখানা পরিচালনা তাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে ওঠার সহায়ক হয়ে ওঠে।

এ সময় তাদের সাংগঠনিক বিস্তার প্রকাশ্যে। উদাহরণ, ১৯৪৩-এর মে মাসে বোম্বাইতে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রকাশ্য সম্মেলন। এতে পূর্ববঙ্গে থেকে উপস্থিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মণি সিংহ, খোকা রায়, নেপাল নাগ ও কৃষ্ণবিনোদ রায় প্রমুখ। স্মরণযোগ্য কৃষক সভার সম্মেলনগুলো হয়েছিল বাঁকুড়া, যশোর, রংপুর, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও খুলনার মতো একাধিক স্থানে।

স্মরণযোগ্য টঙ্ক, হাজং, নানকার ও তেভাগা আন্দোলনের ব্যাপকতা ও বিপুল আত্মত্যাগ। ভুলে যাবার নয় শাসক-বিরোধী ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনে কমিউনিস্টদের বলিষ্ঠ প্রকাশ্য ভূমিকা, আজাদহিন্দ ফৌজের পক্ষে, নৌবিদ্রোহের পক্ষে সঠিক ভূমিকা। শেষোক্ত ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও লীগের বিপরীত ভূমিকা শাসক-বিরোধী অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়া। একা কমিউনিস্টদের সাধ্য ছিল না অভ্যুত্থান ঘটানো এবং স্বাধীনতার আন্দোলন ত্বরান্বিত করা। কারণ ইতোমধ্যে সাংগঠনিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজদের গড়ে তুলতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান নিয়েও লীগ-কংগ্রেসের সংঘাতে …. কুখ্যাত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলো প্রতিহত করার সাধ্য কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে সম্ভব ছিল না। সম্ভব হয়নি রক্তাক্ত ভারত বিভাগ এবং বাংলা ভাগ ঠেকানো।

॥দুই॥

জাতীয়তাবাদীদের স্বার্থে রক্তস্নাত ও উদ্বাস্তুক্লিষ্ট দেশবিভাগ আপাতত ভারত ও পাকিস্তান জেমিনিয়নে নির্দিষ্ট হওয়ার পরও কী পশ্চিমবঙ্গে কী পূর্ববঙ্গে কমিউনিস্টদের ওপর শাসকশ্রেণির নির্যাতন কমা দূরে থাক তুলনামূলক বিচারে আরো বেড়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই কারাগার ভরে থেকেছে কমিউনিস্ট পার্টি ও তাদের গণসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে।

পাকিস্তানি শাসকদের ফ্যাসিস্টসুলভ বর্বর শাসনে কমিউনিস্টদের সাংগঠনিকভাবে প্রকাশ্যে মাথা তুলে দাঁড়াবার মতো অবস্থা ছিল না। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গে। ডান্ডা মেরে তেভাগাসহ কৃষক আন্দোলনগুলো স্তব্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য সাংগঠনিক কাঠামো চুরমার হওয়ার পেছনে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান (১৯৪৮ ফেব্রুয়ারি) কম দায়ী ছিল না। উভয় ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট আন্দোলন বা গণআন্দোলন দমনে শাসকশ্রেণির একটি বড় হাতিয়ার ছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটানো। ১৯৫০ এক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ কুখ্যাত উদাহরণ।

তবু কমিউনিস্টরা চেষ্টা করেছে পূর্ববঙ্গে খাদ্য সঙ্কট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক দুর্দশা, কৃষকদের দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে জনসংযোগ বাড়াতে ও নতুন করে সংগঠন তৈরিতে। চেষ্টা করেছে পূর্ববঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের তাঁত অঞ্চলে বিনষ্ট সংগঠন গড়ে তুলতে, বিড়ি শ্রমিকসহ অন্যদের সংগঠিত করতে। এ উপলক্ষে কমিনকর্মের বিচার-ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সশস্ত্র বিপ্লবের পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী আন্দোলনে নিজদের সংগঠিত করার নীতি গৃহীত হয়। এবং তা শ্রমিক, কৃষক, নিম্নবর্গীয় পেশাজীবী ও নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও জাতীয় বুর্জোয়াদের সমন্বয়ে ফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে।

পরবর্তীকালে পূর্ববাংলায় কমিউনিস্টরা এ পথ ধরেই হেঁটেছেন। জাতীয় বুর্জোয়ার আদলে সুবিধাবাদী শ্রেণির জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আঁতাত, মঞ্চগঠন, কখনো স্ববিরোধী সর্বদলীয় ফ্রন্ট গঠন ইত্যাদির মাধ্যমে পথ-বিপথে চলা; আত্মনির্ভর পার্টি সংগঠন তার ফলে বরাবর দুবলই থেকে গেছে। মুসলিম লীগ রাজনীতির পূর্ব প্রভাবের কারণে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববাংলায় মুসলমান প্রধান নেতৃত্বের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠতে সময় লেগেছে অনেক। হিন্দু প্রধান এখানকার পার্টিতে লীগ-ফ্যাসিস্টদের আক্রমণ সহজ হয়েছে শ্রেণি সংগ্রামী জনচেতনার পশ্চাদবস্থার কারণে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে এ সমস্যা না থাকায় এবং পার্টি নেতৃত্বের প্রধান অংশ কলকাতাকেন্দ্রিক পশ্চিমবঙ্গে থাকার ফলে চাপের মুখেও তাদের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী ওয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ ধরে তারা সেখানে ক্ষমতায়ও এসেছে। যদিও অবশেষে ফলাফল দুর্ভাগ্যজনক। তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরা বা কেরালা তাদের সঠিক পথ দেখাতে পারেনি।

॥তিন॥

পাকিস্তানি আমলে পঞ্চাশের দশকে আত্মগোপনে থাকা ‘কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান কাজ হয়ে ওঠে নেপথ্যে থেকে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পরামর্শ ও সহায়তাদান। ইতোমধ্যে ছাত্রযুব ফ্রন্টে আগত মুসলমান নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলনে নীতিগত প্রভাব বিস্তার তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকে। এর বড় একটি উদাহরণ ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৩-র যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং সেখানে অন্তর্ভুক্ত হতে না পেরে সীমাবদ্ধ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জন। এ পর্বে তাদের প্রকাশ্য শক্তির প্রকাশ মূলত যুবলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন গঠন করে ছাত্র যুব সমাজে কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রচার ও বিস্তার ঘটানো। সেই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও কমিউনিস্ট প্রভাব অনেকটাই দৃশ্যমান ছিল।

শুধু তাই নয়, শ্রমিক ফ্রন্টেও দেখা যায় কমিউনিস্ট আদর্শের বিস্তার। এবং তা মূলত সূতাশ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, রেল শ্রমিক ও প্রেসকর্মীদের মধ্যে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নয়া সংগঠনও তৈরি হয় পঞ্চাশের দশকে। আর এ পঞ্চাশের দশকেরই শেষ দিককার দুটো ঘটনা কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে। প্রথমত ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের বিভাজন এবং দ্বিতীয় ও প্রধানত ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন প্রবর্তন ও প্রচণ্ড দমননীতি এবং সে শাসনের দশকব্যাপী স্থিতি যদিও ভোল পাল্টে।

এর মধ্যেও পার্টির চেষ্টা চলেছে নানা ফ্রন্টে নিজদের সংগঠিত করে তোলার, বিশেষ করে ছাত্র, যুব ও সংস্কৃতি ফ্রন্টে। এর মধ্যেই দুর্বল সংগঠন আরো দুর্বল হতে থাকে ষাটের দশকের আন্তর্জাতিক নীতিগত বিভাজনের প্রভাবে। এ আঘাত সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি, যার পরিণাম একুশ শতকেও দৃশ্যমান। জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বিষয়ক মূল সূত্রে না রেখে বিভাজিত একাধিক অংশের শ্রেণিসংগ্রামই একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা। ফলে ষাটের দশকের শেষার্ধে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একাধিপত্য গড়ে ওঠে। বিভাজিত কমিউনিস্টদের পিছিয়ে পড়ার যাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। তাদের একাংশে আওয়ামী লীগের পেছনে হাঁটার নীতি প্রধান হয়ে ওঠে।

॥চার॥

তবে একথাও সত্য যে, দ্বিভাজিত ও বহুভাজিত হওয়া সত্ত্বেও ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানে কমিউনিস্টদের প্রভাব কম ছিল না বিশেষ করে তাদের ছাত্র যুব ফ্রন্টের কল্যাণে। তবে সে প্রভাব প্রতিনিয়ত বাদীদের প্রতিহত করার মতো যথেষ্ট ছিল না প্রধানত বিভাজনের দুর্বলতা ও নীতিগত বিভ্রান্তির কারণে। সম্ভাব্য স্বাধীনতার পরিণাম এভাবে অবাঞ্ছিত পথ ধরে যা পরবর্তী সময়ে আরো দূষণের শিকার হয়। পরিণামে বর্তমান বাংলাদেশ। সম্প্রদায়বাদ ও জঙ্গিবাদ-অধ্যুষিত বাংলাদেশ।

যদি বাংলাদেশে দুই দশকের (পঞ্চাশ ও ষাটের) কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিচার-বিবেচনা ও মূল্যায়ন করা যায় তাহলে বলতে হয় প্রচণ্ড দমননীতির মধ্যেও পঞ্চাশের দশক রাজনৈতিক বিচারে তাদের জন্য সর্বাধিক ইতিবাচক সময় যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও বটে। সমাজে, বিশেষত ছাত্রযুব সমাজে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি তখন সর্বাধিক। কিন্তু নানামাত্রিক পরবর্তী বিরূপ ঘটনাবলি তাদের জন্য সব রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিঃশেষ করে দেয়। সেখানে নীতিগত বিভ্রান্তির প্রভাবও অনস্বীকার্য।

কমিউনিস্ট রাজনৈতিক শক্তির বর্তমান দুরবস্থা ঐসব পরিস্থিতির দান, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার মতো নীতিগত বিচক্ষণতা তারা দেখাতে পারেনি। বলাবাহুল্য, বিভাজনে এক্ষেত্রে বড় একটি কারণ ন্যাপের প্রবল রাজনৈতিক সম্ভাবনা যেমন তারা একই কারণে এবং একাধিক কারণে কাজে লাগাতে পারেনি, তেমনি পারেনি বিকল্প গণসংগঠন গড়ে তুলতে যা জাতীয়তাবাদীদের সফল মোকাবিলা করতে পারে। আবারও বলি, বর্তমানের বেহাল ওইসব ঘটনা ও ভুলভ্রান্তির পরিণাম।

‘একতা’র প্রতিবার্ষিকীতে সূত্রাকারে এ জাতীয় একটি রচনার উদ্দেশ্য– যাতে করে কমিউনিস্ট সংগঠনের বর্তমান নেতাকর্মীগণ সম্ভাবনাময় দুই দশকের মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বিচার ব্যাখ্যায় বর্তমান বেহালদশার সূত্র অন্বেষণ করেন নীতি ও কর্মের চুলচেরা বিশ্লেষণে। চাই কি ভবিষ্যতের সাংগঠনিক পথ তৈরিতে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ