এবারের ঈদ আনন্দটা সুরুজা বিবির জীবনে সত্যিই অন্য রকম ছিলো

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

এবারের ঈদ আনন্দটা সুরুজা বিবির জীবনে সত্যিই অন্য রকম ছিলো

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের বড়লেখার সুরুজা বিবির নিজের মাথা গোঁজার ঠাই নেই। গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে এতকাল থেকে আসছেন সুরুজা বিবি। এভাবে তাঁর কেটে গেলো প্রায় ৫০ বছর। কিন্তু এবার দীর্ঘ ঠিকানাবিহীন জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে সুরুজা বিবির।
এবার নিজের একটা ভিটে হচ্ছে। ঈদের আগ মূহূর্তেই পেয়েছেন এ সুখবর। ফলে এবারের ঈদ বাড়তি আনন্দ নিয়ে এসেছে সুরুজার জীবনে। তিনি বলেন- ‘জীবনে এইরকম আনন্দের ঈদ আর আইছে না’।
সুরুজা বিবি জেলার বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মরহুম সিরাজ উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয়ে থাকতেন। সম্প্রতি সেই বাড়ি বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন সিরাজ উদ্দিনের উত্তরসূরীরা। তাই সুরুজা বিবিকে ঈদের পর বাড়ি ছাড়ার কথা বলেছেন।
তাই আবার শঙ্কায় পড়েন সুরুজা বিবি। কোথায় গিয়ে আবার আশ্রয় নেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। সুরুজার এই দুশ্চিন্তার কথা সামাজিক যোযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন এলাকার কিছু তরুণ। বিষয়টি উঠে আসে কয়েকটি গণমাধ্যমেও। এতেই বদলে যায় সুরুজার ভাগ্যের চাকা।
গণমাধ্যমে খবর আসার পর সুরুজার দুঃখের কাহিনী নজরে আসে বড়লেখার ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরার।
গত বুধবার বিকেলে (১২ মে) বড়লেখার ইউএনও পরামর্শে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা বৃদ্ধা সুরুজা বিবির অস্থায়ী বাড়িতে খাদ্যসাগ্রী ও শাড়ী নিয়ে হাজির হন। তিনি সুরুজা বিবির হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের দুই প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী ও নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদের উপহার হিসেবে একটি নতুন শাড়ী। এসময় তিনি ‘মুজিব শতবর্ষে’ প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন সুরজবা বিবি ও তার ছেলের পরিবারকে দুটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
সুরুজার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুরুজা বিবির স্বামী দিনমজুর ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর খানেক আগে বর্তমান উত্তর শাহবাজপুর এলাকায় এসেছিলেন। এরপর থেকে এই গ্রামেই তাদের বাস। তিনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। পরিবারের অসচ্ছলতায় কোনো বাড়ি করতে পারেননি। মানুষের বাড়ি বাড়ি ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতে হয়েছে। একসময় স্বামী মারা যান। ছেলে বিয়ে করেন। ছেলের পক্ষের তিন মেয়ে ও ১ ছেলে। সংসারের অনটনের মধ্যে নিজের মাথাগোঁজার ঠাঁই করা হয়নি। প্রায় ৯ বছর আগে মারা যান সুরুজার ছেলে আব্দুল মান্নান। এরপর দুর্দিন নেমে আসে সুরুজা বিবির পরিবারে। নিজে ও ছেলের বউসহ মানুষের সাহায্যে, কখনো বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা শনিবার (১৫ মে) রাতে বলেন, ‘ভূমিহীন বৃদ্ধা সুরুজা বিবির সংবাদ দেখে তাদের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাই। ঈদের পর ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ওই এলাকায় সুরুজা বিবি ও তার ছেলের জন্য দুটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ