এবারের শীতে সিলেটের ডাকাতরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

এবারের শীতে সিলেটের ডাকাতরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি

ওয়েছ খছরু , অতিথি প্রতিবেদক :: শীত কিংবা বর্ষা। দুই মৌসুমেই বদলে যায় সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ডাকাত আতঙ্ক দেখা দেয় সিলেটজুড়ে। সিলেট কিংবা বাইরের ডাকাতদলের কারণে ঘুম হারাম হয়ে যেত সিলেটবাসীর। ডাকাতির জন্য পরিচিত এলাকায় মানুষজন রাত জেগে পাহারা দিতেন। ডাকাত দলের টার্গেটে থাকতেন প্রবাসীরা। ঘটতো ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা। এ কারনে কয়েক মাস আগেও সিলেটের বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের ছাতক ও জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিলো ডাকাত আতঙ্ক।

কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবারের শীতে সিলেটের ডাকাতরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।

বরং ভয়ে ডাকাতরা এসেও পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছে। একই অবস্থা সিলেটের মাদক রাজ্যেও। এখনো পুরোপুরি মাদক বিক্রি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রনে এসেছে। পুলিশের নির্দেশনার পর কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। আর পরিস্থিতি বদলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। তিনি এসে ডাকাতি ও মাদক বিকিকিনি বন্ধ করতে সাঁড়াশি অভিযান চালান। ক্রসফায়ারে মারা যায় দুই ডাকাত। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অপরাধীদের মধ্যে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক।

এখন পর্যটন এলাকার জন্য এই রুটে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলে। কোম্পানীগঞ্জের বর্নি এলাকা ডাকাতের জন্য বিখ্যাত। সন্ধ্যা নামলেই গাড়ি আটকে ঘটে ডাকাতির ঘটনা। এ কারনে সন্ধ্যার পর খুব জরুরি না হলে কেউ চলাচল করতেন না। সম্প্রতি বর্নি এলাকার ১০ ডাকাত পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছে। তারা নিজেদের অপরাধের ঘটনা স্বীকার করেছে। পুলিশ আগের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করেছে। এর বাইরে গত তিন মাসে কোম্পানীগঞ্জে আরো কয়েকজন পরিচিত ডাকাত ও তাদের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়েছে।

থানার ওসি সজল কুমার কানু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- বেশ কদিন থেকে উপজেলাব্যাপী চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশের অভিযানে কয়েকজন ডাকাতকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। এই ভয় থেকে ডাকাতরা আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণকৃত ডাকাতরা হলো- উপজেলার বর্ণি কান্দিপাড়া গ্রামের মৃত ইছহাক আলীর ছেলে মুহিবুর রহমান, বর্ণি গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে কয়েছ মিয়া, একই গ্রামের মৃত আহাদ মিয়ার ছেলে হোসেন আহমদ, গোলাম আলীর ছেলে রইছ মিয়া, মৃত সোনা উল্লাহর ছেলে রুবেল আহমদ, মনু মিয়ার ছেলে আল আমিন, এরশাদ আলীর ছেলে লায়েছ মিয়া, আক্রম আলীর ছেলে আল আমিন, ফারুক মিয়ার ছেলে জোবেদ আহমদ, আব্দুস সালামের ছেলে রাসেল মিয়া।

তিনটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর থমকে দাড়িয়েছে সিলেটের অপরাধ রাজ্য। এর মধ্যে গত ২৩শে আগস্ট জকিগঞ্জের মরিচা এলাকায় প্রবাসী আবদুল করিমের বাড়িতে ডাকাতির প্রস্ততি নিচ্ছিল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে ডাকাতরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে আবদুল শহীদ ফুলু নামের এক ডাকাত মারা যায়। নিহত ফুলু ডাকাতের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ধর্মদেহী গ্রামে। তার বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৬টি মামলা আছে। এ সময় তার সহযোগী কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, দুটি ছোরা ও দরজা ভাঙার সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

একই সময়ে র‌্যাব ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত সরদার ও এক মাদক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় গডফাদারদের মাঝে বিরাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক। বিয়ানীবাজারের শেওলা সেতু এলাকায় ডাকাত সরদার মিসবাহ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। সে জকিগঞ্জের শরীফাবাদ এলাকার আবদুল মালিকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ফজর আলী নামের এক মাদক ব্যবসায়ী মারা যায়। তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ গৌখালপাড় এলাকায়। সে ওই এলাকার মৃত আবদুল গফুরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও চোরাচালানসহ ২১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এই তিন ঘটনা ও জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সিলেটে এবার ডাকাতরা মাথা দিয়ে উঠেনি। এ নিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তবে- এখনো মাদকের বিষয়ে পুরোপুরি সফলতা আসেনি। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবার চালান।

সিলেট জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য মতে- গত দেড় মাসে ডাকাতি ও মাদক বিক্রির ঘটনায় ১৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন- জেলা পুলিশ ডাকাতি ও মাদক রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে। এ ব্যাপারে কোনো কম্প্রাইজ নয়। ফলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে- ডাকাতির অন্যতম স্থান সিলেটের ওসমানীনগর এলাকা। গত বছর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার শহীদ ও সুহেলকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা ডাকাত দলের দুটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করতো বলে জানায় পুলিশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ