এশিয়ার প্রথম সারকারখানা কিনলো সিলেটের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

এশিয়ার প্রথম সারকারখানা কিনলো সিলেটের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’

অনলাইন ডেস্ক :: বিক্রি হয়ে গেল এশিয়ার প্রথম সারকারখানা ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’। ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা নামেই এটি বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিন থেকে যন্ত্রপাতি বিকল থাকা ও অব্যাহত লোকসানের মুখে অবশেষে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত এই সারকারখানাটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সিলেটের ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকায় সারকারখানাটির সকল যন্ত্রপাতি কিনে নেন। দরপত্রে দেশের ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল।
জানা যায়, ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নে স্থাপন করা হয় ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’। জাপানের কোবে স্টিল কোম্পানি এটিকে জাপানি প্রযুক্তি দ্বারা নির্মাণ করে। শুরুতে এই কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হতো।

১৯৬৯ সালে কারখানাটিতে এমনিয়াম সালফেট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। দেশের সারের চাহিদা পূরণে একসময় এই কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দিন দিন যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ায় ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ায় কমতে থাকে উৎপাদন। একপর্যায়ে কারখানাটির উৎপাদন কমে আসে ৭০ মেট্রিক টনে। এতে অব্যাহত লোকসান গুনতে থাকে সারকারখানাটি। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কারখানার প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় কারখানার উৎপাদন। ট্রান্সফরমারটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হলেও তা আর ফিরে আসেনি। ফলে একসময় যন্ত্রের শব্দ আর মানুষের কোলাহলে যে কারখানা রাতদিন মূখরিত থাকতো সেটিতে নেমে আসে স্তব্ধতা। একপর্যায়ে ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’র পাশেই স্থাপন করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সারকারখানা ‘শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি’। সেই কারখানায় সংযুক্ত করা হয় ‘ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড’র কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সার কারখানাটি সংস্কার করে পুণরায় চালু না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে আহ্বান করা হয় দরপত্র। গতকাল বুধবার দুপুরে দরপত্র খোলা হয়। এতে অংশ নেন ৯টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১০৩ কোটি ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন সিলেটের ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’ নামক প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় দরদাতার দেয়া মূল্য ছিল প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ মূল্যদাতা ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’র কর্ণধার ও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী করিমউল্লাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউল্লাহ সাকের জানান, তার প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে। এখন কার্যাদেশ পেলেই তিনি সারকারখানার যন্ত্রপাতি সরানো শুরু করবেন।

ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা দীপংকর দে জানান, টেন্ডারে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘মেসার্স আতাউল্লাহ’ নাম প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছেন।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ