এস.আই আকবর : যা বলছেন এলাকার মানুষ

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

এস.আই আকবর : যা বলছেন এলাকার মানুষ

অনলাইন ডেস্ক :: সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ আখালিয়া এলাকার রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন নিজ গ্রামেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এস.আই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। কীভাবে আলিশান বাড়িসহ সম্পদের মালিক হয়েছেন- সেই আলোচনা এখন তার গ্রামের সবার মুখে মুখে। অনেকেই পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রায়হানের মৃত্যুর ঘটনার পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনের আলিশান বাড়িও এবার আলোচনায়। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আকবরের সেই আলিশান বাড়ির ছবি। এসআই’র মতো ছোট পদে চাকরি করে কীভাবে ওই বাড়ি তৈরি করলেন- সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সবাই।

পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগৈর গ্রামে। বাবা জাফর আলী ভূইয়া স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হন জাফর আলী। এরপর স্কুল থেকে চাকরিচ্যুত হন তিনি। আর মামলায় জড়ানোর পর সহায়-সম্পদ যা ছিলো- তা সবই খুইয়েছেন জাফর আলী।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৫ সালে উপজেলার ফিরোজ মিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন আকবর। এরপর ২০০৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে চকরি নেন তিনি। কয়েক বছর চাকরি করার পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দেন আকবর। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে আকবর ও তার পরিবারের ভাগ্য।

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আকবর। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামে বাড়ি ও জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদ গড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুরনো ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে আলিশান বাড়ি। ইতোমধ্যে বাড়ির প্রথম তলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে আধুনিক ফটক তৈরির কাজ। পুলিশে চাকরির বদৌলতে বাবার খোয়ানো সব সম্পদই যেন ফিরে এসেছে আকবরের হাত ধরে।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন নিজ গ্রামেও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আকবর। কীভাবে আলিশান বাড়িসহ সম্পদের মালিক হয়েছেন সেই আলোচনা এখন গ্রামের সবার মুখে। অনেকেই পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

বগৈর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পরই অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আকবর। তিনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন সেটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং আশুগঞ্জের মানুষের জন্য কলঙ্ক। তাই আশুগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আকবর যে ঘটনা ঘটিয়েছেন- সেটি পুরো আশুগঞ্জের জন্য লজ্জাজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আকবর যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ