এ লড়াই জিততে হবে

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

এ লড়াই জিততে হবে

উজ্জ্বল চৌধুরী :: শত বাধা, বিপত্তি আর অমাবস্যার অন্ধকার জয় করে আসা, আন্দোলনের অগ্নিবীণা হলেন জনক কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। পিতা পরিজন হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে সমগ্র বিশ্বে বাঙালির অস্তিত্ব জানান দেওয়ার কারিগর শেখ হাসিনার আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনের ইতিহাস কি এতটাই মসৃন? শত সমালোচনা আর ষড়যন্ত্রের বিষদন্ত ভেঙে নীলকন্ঠ একজন শেখ হাসিনা যখন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে তখন কারা সেই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়? এরা কি সেই শকুনের দল যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, এরা কি তারা যারা পিতা মুজিবকে শুধু হত্যা করেনি তার হত্যার যাতে বিচার না হয় তার জন্য শকুনি আইন জারি করেছিল? এরা কি তারা যারা এদেশে মুক্তমতের চর্চাকে করেছে বাধাগ্রস্ত? এদের চিহ্নিত করার এখনিই সময় নয় কি?

জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়া তৃণমূলের কর্মীদের শ্রম, ঘাম আর রক্তের উপর দিয়ে এসে তথাকথিত নেতাদের চামচামির পুরস্কারস্বরূপ রাতারাতি অতি আওয়ামী লীগার বনে যাওয়া কাউয়াদের টুটি চেপে ধরতেই পেঁয়াজের বাজারে আগুন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা এই ষড়যন্ত্রের খেলা আর কত?

অপপ্রচার, সাম্প্রদায়িক উস্কানী আর প্রাসাদ ষড়যন্ত্র জয় করে শেখ হাসিনা যখন স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দ্বারপ্রান্তে তখন আমাদের কি হাত গুটিয়ে থাকলে চলে? আমাদের কি ভাবা উচিত নয় জনক কন্যা যখন বলেন ‘আমাকে ছাড়া সবাইকে কেনা যায়’ তখন কাদের গাত্রদাহ হয়? ক্রিকেটের সাকিব থেকে বুয়েটের আবরার সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দায়িত্ব কি শুধুই দেশরতœ শেখ হাসিনার? আমরা কি চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, দলকানা, হলুদ সাংবাদিক আর হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়াদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারিনা? শহিদ মতিউর, নুর হোসেন, আসাদ, মিলন ওয়াজিউল্লাদের প্রতি আমাদের কি কোনো দায় নেই? সত্যের কলম হয়ে লিখে যাওয়া পীর হাবীবরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিদ্রাহীন না মরে বাঁচে আর ভদ্রতার লেবাছে শত কোটি হজম করার তৌফিক পেয়ে যাওয়ারা ঘুমায় আভিজাত্যের বিছানায়!

একজন শেখ হাসিনা যখন দুর্নীতির বরপুত্রদের ধরতে শুরু করলেন আমরা কেবল বাহবা দিলাম। আমাদের কি আরো আগে প্রতিবাদী হওয়া উচিৎ ছিলনা! লোক দেখানো শুদ্ধি অভিযান না করে তিনি যখন শুরু করলেন ঘর থেকে। আমরা যাদের বিরুদ্ধে এক কলম লিখার সাহস করিনা তিনি তাদের মুখোশ দিলেন খুলে। এটা তার দ্বারাই সম্ভব যিনি এদেশের আপামর জনসাধারণকে ভালোবেসে বলেন, ‘প্রয়োজনে পিতার মত জীবন দিয়েও আপনাদের ঋণ সুদ করে যাব’।

যাদের জন্য তিনি জীবনের ঝুঁকি নিলেন বা নিচ্ছেন, তার প্রতি আমরা কতটা দায়িত্ববান তা দেখার সময় এখনই। বিশ্ব ইতিহাসে অন্য কোনো নেতাকে এতবার হত্যার চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র হয়েছে কিনা আমার জানা নেই, তবুও যিনি নির্ভীক। এ লড়াই কি তার একার? শেখ কামাল, জামাল, রাসেলের হাসু আপা’র পাশে থেকে দেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় আমরা কি ভাই হয়ে দাঁড়াতে ভয় পেলে চলবে? এ লড়াই কি আমাদের নয়? তাই আসুন ৫২, ৬৯, ৭১-এর চেতনায় মুজিবকন্যার পাশে থেকে অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লড়াইয়ে অংশ নিয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিকের ভূমিকা পালন করি। কেননা এ লড়াই জিততে হবে, আর উচ্চকণ্ঠে বলতে হবে-

‘তোমার হাতেই সন্ত্রাস আর দুর্নীতি হোক শেষ। তোমার মাঝেই জনক দেখি তুমিই বাংলাদেশ॥’

লেখক : রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল, (প্রধান স্বমন্বয়ক, সাপ্তাহিক হৃদয়ে ৭১ পাঠচক্র। সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের দিনকাল)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ