ওসমানীনগরে খুনের ঘটনায় মামলা: পরিকল্পিত দাবি পরিবারের(ভিডিও)

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

ওসমানীনগরে খুনের ঘটনায় মামলা: পরিকল্পিত দাবি পরিবারের(ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের ওসমানীনগরে শিক্ষিকা খুনের ঘটনায় ‘আত্মহত্যাকারী’ গৃহকর্মী গৌরাঙ্গকে বলির পাঠা বানানোর অভিযোগ ওঠেছে।

দুজনকেই খুন করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে নিহত গৌরাঙ্গকে ‘খুনি’ সাজিয়ে জোড়া খুনের ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করার চেষ্ঠা চালাচ্ছে মূল ঘাতকরা- এমন অভিযোগ গৌরাঙ্গের পরিবারের।

এ ব্যাপারে গৌরাঙ্গের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই মোরচাঁদ সরকার। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের ‘খুনিদের’ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন মোরচাঁদ।

উপজেলার সোয়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাপতী রাণী দে লাভলীর মৃত্যুর ঘটনায় একই ঘর থেকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা নিহত গৃহকর্মী গৌর চাঁদ ওরফে গৌরাঙ্গ সরকারকে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষিকার ছেলে তন্ময় দে বিপ্লব মামলার বাদি হয়েছেন। মামলা নং ২০।

জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে শিক্ষিকার বিবস্ত্র ও গলাকাটা লাশ এবং একই ঘর থেকে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গৃহকর্মীর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের লহরী গ্রামে। তিনি প্রায় ৬ বছর থেকে ওই শিক্ষিকার পরিবারে গৃহকর্মীর কাজ করছেন।

রবিবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই রহস্য এখনো পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। শিক্ষিকার পরিবার ও পুলিশের দাবি, শিক্ষিকাকে খুন করে ওই গৃহকর্মী নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে- তপতীর মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ছুরা ও একটি বটি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে এ দু’টি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তপতীর ঘাড়ের ডান দিকে একটি কুপ ও ঘাড়ের পিছনে ছুরির আঘাত রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।

মামলায় অভিযুক্ত গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার নিয়ে রবিবার থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হলেও গৃহকর্মী পরিবারের দাবি- শিক্ষিকাসহ গৌরাঙ্গকে খুন করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে।

গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ সরকারের ভাই অপমৃত্যুর মামলার বাদি গোবিন্দ সরকার বলেন, ময়না তদন্তের কথা বলে পুলিশ আমার স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমি কোনো অপমৃত্যু মামলা করিনি। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষিকাকে খুনের পর আমার ভাইকে হত্যা করে তার লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে খুনীরা। আমি নিজে শিক্ষিকার মেয়ে তন্নীর বাসায় কাজ করার সুবাধে শিক্ষিকার সঙ্গে স্বামী-পুত্রের মধ্যে পারিবারিক কলহের বিষয়টি পূর্ব থেকেই অবগত রয়েছি।
শিক্ষিকাসহ আমার ভাইকে খুন করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে আমার সহজ-সরল ভাইকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে ঘাতকরা। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আমি আমার ভাইয়ের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এই বিষয়ে হত্যা মামলার বাদি নিহত শিক্ষিকার পুত্র তন্ময় দে বিপ্লবের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, শিক্ষিকার ছেলের দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

নিহত গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ সরকারের ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বিক বিষয়গুলো পুলিশের তদন্তে রয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোটসহ সবদিক পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের শোয়ার গাঁও গ্রামের ডা. বিজয় ভুষন দে ও তার স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা তাপতী রানীর এক ছেলে এবং তাপসী দে তন্নী নামের এক মেয়ে রয়েছে। তপতীর স্বামী ও ছেলে-মেয়ে তিনজনই পেশায় চিকিৎসক ।

 

আমাদের ফেইসবুক পেইজ