ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার আমাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে: এমডি

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার আমাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে: এমডি

অনলাইন ডেস্ক :: গত ১০ বছরের ঢাকা ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার তাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির টানা ষষ্ঠ মেয়াদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান।

শুক্রবার ঢাকা ওয়াসার গত ১০ বছরের অর্জিত সফলতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি দাবি করেন।

সামান্য বৃষ্টি পড়লেই রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি বহুদিনের সমস্যা। পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। কিন্তু রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নানা অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সাবেক ও বর্তমান মেয়ররাও ওয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন যে, নগরীতে জলাবদ্ধতার দায় ঢাকা ওয়াসার। ওয়াসাকে একটি ব্যর্থ সংস্থা হিসেবে অবহিত করেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। এমনকি তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনও ওয়াসাকে ব্যর্থ সংস্থা আখ্যা দেন।

তবে ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের দাবি, গত ১০ বছরের ঢাকা ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার তাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে। উল্টো তিনি বলছেন, ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই ঢাকা ওয়াসার সমালোচনা করছে।

প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ২০০৯ সালে প্রথম ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর পাঁচবার তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। পঞ্চমদফা চুক্তির সময়সীমা শেষ হয় গত ১৪ অক্টোবর। এর আগেই গত ১ অক্টোবর সরকার তাকে ষষ্ঠবারের মতো আরও ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। তার এই পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের হয়েছে, আগামী রোববার হাইকোর্টের আদেশ জানা যাবে। এছাড়া তার পুনঃনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি।

এরমধ্যেই তার গত ১০ বছরের সফলতা তুলে ধরতে শুক্রবার মতবিনিময় সভা ডাকেন এমডি। সভার শুরুতে তার অর্জনের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ওয়াসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তাসকিম এ খান।

তিনি বলেন, গত ১০ বছরে ওয়াসার অনেক সাফল্য আছে, অর্জন হয়েছে। সরকারও অর্জন চায়, সাফল্য চায়। এ কারণেই আমাকে আবার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সাফল্য হয়েছে এবং সরকার সেটাই চাচ্ছে। ওয়াসার সাফল্যের কারণেই ‘একটি গোষ্ঠী’ সমালোচনা করছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

তাসকিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসার নেয়া দাঁড়াও কর্মসূচির পাঁচটি চ্যালেঞ্জের একটি হচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল। ওয়াসার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘অনৈতিক, অবৈধ, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি’ যারা করতে পারছে না তারাই এসব সমালোচনা করছে। তিনি বলেন, আমাদের পাঁচটা চ্যালেঞ্জর মধ্যে পঞ্চমটা হচ্ছে ভেস্টেড ইন্টারেস্টেড গ্রুপ। সব জায়গায় এই ধরনের একটা গ্রুপ থাকতে পারে, যেটা আমাদের ভেতরেও আছে, বাইরেও আছে। সরকারের মধ্যে আছে, সরকারের বাইরে আছে। যাদের স্বার্থে আঘাত পড়ে তারাই এই সমালোচনা করে। তারা একটা সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রচারণাও চালায়।

গত ১০ বছরের ওয়াসার কর্মকাণ্ডে অস্বচ্ছতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ওয়াসায় সুশাসন ফিরেছে। এটা হতে গিয়ে অনেকের স্বার্থে লেগেছে, অসুবিধা হয়েছে।

সভায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ওয়াসার এমডি বলেন, আপনি যখন সুশাসন কায়েম করেন তখন যারা সুশাসন চায় না সে কী করবে? আপনি যখন দুর্নীতিবিরোধী কাজ করেন, তখন যে দুর্নীতি করে সে কী করবে? তার পথ হল প্রচারণা চালানো আর আমাকে সরিয়ে দেয়া যায় তাহলে তো ভালো। আমি যদি না থাকি তাহলে ওই গোষ্ঠী, যারা আগে অনৈতিক কাজটা করতে পারত, তারা আবারও একই কাজ করতে পারবে।

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হলেও রাজধানীর সেবাসংস্থাগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করা সাংবাদিকরাই সেখানে আমন্ত্রণ পাননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার এমডি বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। সবাইকে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানান তিনি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ