কনভারসন ডিজওর্ডার অদ্ভুত এই রোগ, প্রয়োজন কাউনসেলিং করা

প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

কনভারসন ডিজওর্ডার অদ্ভুত এই রোগ, প্রয়োজন কাউনসেলিং করা

“হ্যালো, আমি সুমি’র (ছদ্মনাম) আম্মা। আমার মেয়ে কথা বলতে পারতেছে। আজ সকালে সে কথা বলছে। টেবিলের উপর মোবাইল ছিলো। মোবাইল টা দেখিয়ে বললো, ‘মা মোবাইল টি াও। ডাক্তার সাহেব কে একটা ফোন দিবো’। বিশ্বাস হচ্ছিলোনা শুনে। ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বাবা আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। অনেক ােয়া করি, আপনার জন্যে…”

নিতান্ত অসময়ে ফোন দিয়ে এভাবে আবেগে উচ্ছাসে কথা গুলো বলে ভদ্র মহিলা ফুপিয়ে কান্নায় ভেঙে পরলেন। পেশাগত জীবনে এরকম হঠাৎ “কথাবন্ধ” হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা অনেক রোগীই আসে। কেউ রেফার্ড হয়ে আসেন আবার কেউ কবিরাজ, ভন্ড বাবা, কপট সাধু সন্যাসীর, অসাধু পল্লি চিকিৎসক অথবা অনেক সময় কোন চিকিৎসক হতে উপশম না পেয়েও সাইকিয়াট্রিস্ট এর এর কাছে আসেন।

সুমিকে নিয়ে এসছিলেন তার আত্মীয়রা। তার স্বামী বিদেশে াকেন অনেক দিন। ছোট ছোট ু’ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। বের ননদ সবাই সবার যার সংসার নিয়ে ব্যাস্ত। সে কেবল একাই । তাই প্রায় সময় বাবা মা’য়ের সাে থাকে।
সুমির চিকিৎসা কবিরাজ, কোয়াক, ভন্ডপীর, সাধু সন্যাসী সব চিকিৎসাই প্রায় শেষ হয়েছে। ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে কিছু ঔষধ দিয়েছিলেন কিন্তু উন্নতি হয়নি বিধায় সাইকিয়াট্রিস্ট যোগাযোগ করতে বললেন।
সুমির হঠাৎ করে এভাবে কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারাটা ছিলো কনভারসন ডিজওর্ডার রোগের লক্ষন।
“কনভারসন ডিসওর্ডার” (ঈড়হাবৎংরড়হ উরংড়ৎফবৎ) রোগীদের উপসর্গ অনেক টা ব্রেইন স্ট্রোকের মতো। ‘হঠাৎ কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া’, ‘দেহ অবস হয়ে যাওয়া’, ‘ মূর্ছা যাওয়া’ অজ্ঞানের মতো হয়ে যাওয়া’, ‘খিচুনি মতো উঠা’, ‘শ্বাসকষ্টঅনুভব হওয়া’ বা ‘্র“ত শ্বাস প্রস্বাস নিতে থাকা’, ‘হাত পা ছুড়াছুড়া করা’, ‘খানিকটা অজ্ঞান অবস্থায় নানান শারিরীক কসরত করা’ ইত্যাইি প্রধানত এর উপসর্গ।

এ রোগটি রহস্যময়। তবে ভালো হয়ে যায়। কেউ কেউ মনে করেন রোগীর ব্রেইনস্ট্রোক হয়েছে, আবার কেউ ভাবেন রোগী ইচ্ছা করে এমন করছে। অনেকে আবার মৃগী রোগ মনে করে টেগরেটল, সোডিয়াম ভেলপ্রয়েট ঔষধও এডভাইস করেন। আসলে এর কোনটাই নয়।

ঈড়হাবৎংরড়হ উরংড়ৎফবৎ, কনভারসন ডিজওর্ডার রোগীদের মনের মধ্যে প্রায়ই কোন না কোন কষ্ট বা কনফ্লিক্ট থাকে। সেই কষ্ট, কনফ্লিক্ট এক সময় নানান দৈহিক লক্ষনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। রোগী কোন বিশেষ সুবিধা আদায়ের জন্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে এসব উপসর্গ তৈরি করেন, আসলে তেমন টিও নয়। ব্রেইনের এম আর আই (গজও) টেস্ট করলে অনেক সময় আমাদের আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী ব্রেইনের অংশে রক্ত চলাচল সামান্য কম দেখা যায়

কনভারসন ডিজওর্ডার অদ্ভুত এই রোগটির চিকিৎসা হলো এই কারন, কষ্ট, কথা কনফ্লিক্ট উদঘাটন। রোগীর সাথে কথা বলা। কাউনসেলিং করা। সেটা করতে না পারলে, রোগটি কখনোই ভালো হয়না, এবং এ থেকে নানান জটিলতাও তৈরি হয়।
ডা. সাঈদ এনাম
(ডিএমসি)
সহকারী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।
মেম্বার, রয়েল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্ট, ইংল্যান্ড
মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন।
ঞুঢ়ব ধ সবংংধমব…

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ