করোনায় মৃতদের অমর্যাদায় ক্ষুব্ধ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

করোনায় মৃতদের অমর্যাদায় ক্ষুব্ধ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: করোনায় এবং বেওয়ারিশ হিসেবে মৃতদের সৎকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের গড়িয়ার শ্মশানে নিয়ে যাওয়া একের পর এক বিকৃত লাশ দড়ি দিয়ে টেনে পৌরসভার গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও ঘিরে বৃহস্পতিবার তোলপাড় হয়েছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গে। শুক্রবার সেই ভিডিওর প্রসঙ্গ উঠল ভারতের সুপ্রিম কোর্টও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সামনে ভিডিওর প্রসঙ্গটি তোলেন। এর পরই করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও মৃতদেহের অমর্যাদার কারণে পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যের পরিস্থিতি ‘ভয়ানক’ বলে আখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

নোটিস জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার এবং গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মুখ্যসচিবদের এ ব্যাপারে জবাব দিতে আদালত নির্দেশ দেয়।

বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে। রোগীর আত্মীয়রা মৃত্যুর বহু দিন পরও কোনও খবর পাচ্ছেন না।

কখন সৎকার হচ্ছে, তাও বাড়ির লোককে জানানো হচ্ছে না। পরিবারের লোকেরা সৎকারের সময় হাজির থাকতে বা শেষকৃত্য করতে পারছেন না।

যদিও গড়িয়া শ্মশানে সৎকারের জন্য নেয়া যে মরদেহগুলি নিয়ে এত শোরগোল, সেগুলো করোনায় মৃতদের নয় বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ ও নীলরতন সরকার হাসপাতাল (এনআরএস)।

এনআরএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেওয়ারিশ ওই লাশগুলো তাদের মর্গ থেকেই সৎকারের জন্য পাঠানো হয়েছিল গড়িয়া শ্মশানে।

পাঁচ রাজ্যের তালিকায় রয়েছে মোদি-অমিত শাহের গুজরাতও। সুপ্রিম কোর্ট পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যসচিব অথবা স্বাস্থ্যসচিবের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে।

তুষার মেহতা বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরায় বিচারপতি এমআর শাহ’র প্রশ্ন করেন, আপনারা কী করেছেন? বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাল্টা দাবি, ‘অন্য রাজ্যে কী হচ্ছে তা বলতে পারব না। তবে বাংলার অবস্থা যে শোচনীয়, তা অনেক আগে থেকে আমরা বলছি।

দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে করোনা রোগীদের হেনস্থা ও মৃতদেহের অমর্যাদা দেখে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবডে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলার সিদ্ধান্ত নেন।

নোটিসে করোনা রোগীদের দেখাশোনা ও মৃতদেহের সৎকার নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালের হাল, রোগীদের দেখাশোনা, কর্মী, পরিকাঠামো নিয়ে বিশদভাবে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, আদালত এত দিন কেন সক্রিয় হয়নি? এত দিন কেন মানুষের দুর্দশা দেখল না?

বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, সরকার এবার জনগণকে কী জবাব দেবে?

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ