করোনা দূর্যোগের মাঝেই ২০ কোটি টাকা করে পাচ্ছেন এমপিরা

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

করোনা দূর্যোগের মাঝেই ২০ কোটি টাকা করে পাচ্ছেন এমপিরা

অনলাইন ডেস্ক :; করোনা দূর্যোগে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেশ, জীবন ও জীবিকার সংকটে দেশের মানুষ। মহামারি পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অন্যসব দেশের মতোই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকেও। কঠিন এই পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রামীণ সড়ক আর কালভার্ট নির্মাণে এমপিদের দেয়া হলো মাথাপিছু ২০ কোটি টাকা।

রোববার (২১ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ নামে এ প্রকল্পে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের (এমপি) ২০ কোটি করে টাকা বরাদ্দ দেয়ার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট খরচে ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে।

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, শহরের সংসদ সদস্য ছাড়া অন্যদের ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেয়ার একটা কর্মসূচি আছে। সেটা আজকে আমরা পাস করেছি। এটা গ্রামীণ কিন্তু, যে সব সংসদ সদস্যদের এলাকা গ্রামীণ, পৌর এলাকার বাইরে থাকেন। সম্পূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এটা। এর মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, ছোট ছোট সেতু, কালভার্ট ইত্যাদির উন্নয়ন করা হবে। আমরা মনে করি, জনগণের কল্যাণে এটা খুবই কাজে লাগবে।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে সংকটকালীন এই সময়ে অর্থ বরাদ্দে সরকারকে প্রয়োজন বুঝে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দাবি, জনগণের চাহিদা আছে বলেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

করোনা সংকটে টানা প্রায় আড়াই মাস সাধারণ ছুটিতে অনেকটাই স্থবির ছিলো দেশের অর্থনীতি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে। শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরেই ঘাটতি প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

অথচ, এমন প্রেক্ষাপটেই ২৮০ সংসদ সদস্যকে মাথাপিছু ২০ কোটি টাকা করে রাজনৈতিক বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণের নামে সম্পূর্ণ এডিপি বহির্ভূত প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা, যা অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

সংকটে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য নাকি অবকাঠামো, এমন প্রশ্নে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের জবাব, জনগণের চাহিদা আছে বলেই দেয়া হয়েছে অনুমোদন। অবস্থা খারাপ আপনারা বলছেন। আমরা তো বলছি না। আমিও বলছি না।

যদিও, দীর্ঘমেয়াদী সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প গ্রহণের পক্ষে অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, এখান থেকে অর্থ সাশ্রয় করে স্বাস্থ্যখাত বা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজে লাগানো যেতো।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২০টি আসনের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ এই আর্থিক সুবিধার বাইরে থাকছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ