করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক :; জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট পেশ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ মহামারী মোকাবেলায় যা করণীয় তার সবকিছুই করবে সরকার। আগামী অর্থবছরে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কোনো জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

বাজেট অধিবেশনে বলা হয়, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে ১৪টিসহ প্রতিটি জেলা শহরে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। করোনা রোগ নির্ণয়ের জন্য এ পর্যন্ত ৫৫টি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহকে আধুনিকীকরণ ও উন্নততর সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এর জন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য খাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছি। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান, প্রণোদনা এবং ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা।

করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ দায়িত্ব পালনকালে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুজনিত কারণে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানী বাবদ মোট ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার, ১ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ৩৮৬ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ২ হাজার ৬৫৪ জন ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব খাতে ১ হাজার ২০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ১ হাজার ৬৫০ মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান এবং ১৫০ কার্ডিওগ্রাফারসহ মোট ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল।

৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জিডিপির ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ