কর বৃদ্ধির বাজেট প্রত্যাখান করে সিলেটে বামজোটের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

কর বৃদ্ধির বাজেট প্রত্যাখান করে সিলেটে বামজোটের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক :: বাজেট প্রত্যাখান করে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকেল ৪ টায় নগরের কোর্ট পয়েন্টে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট জেলা সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়।

বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা শাখার নেতা রেজাউর রহমান রানার পরিচালনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি সিরাজ আহমেদ, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মোখলেছুর রহমান, বাসদ নেতা মামুন ব্যাপারী প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে করোনা মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। করোনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা বেরিয়ে এসেছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষার বাজেট বলে যতই ঢোল পেটানো হোক, করোনা মহামারীতে জীবন রক্ষার জন্য স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর কোনো পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বাজেটে নেই। ১৭ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের মাত্র ৫.৪%,অথচ অনুৎপাদনশীল প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬.২%। জিডিপিতে স্বাস্থ্যখাতে ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ করা হয়েছে, যা লজ্জাকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হতে হবে জিডিপির ৫ শতাংশ ও মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণ যখন দীর্ঘদিন ধরে কালো টাকার মালিকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব দুর্নীতিগ্রস্ত এ ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সরকারের চরিত্র আরও একবার উন্মোচিত হয়েছে।

বাজেটে কর্পোরেট কর এ ব্যাপক হারে ছাড় ও সাধারণ মানুষের উপর কর বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার একদিকে যখন কর্মহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তখন তাদের উপর এ কর মরার উপর খাঁড়ার ঘা স্বরূপ। বাজেটের সিংহভাগ অর্থ আসবে সাধারণ মানুষের দেওয়া ভ্যাট-আমদানি শুল্ক ইত্যাদি পরোক্ষ কর থেকে। বড় ব্যবসায়ীদের বছরে ৩ কোটি টাকা টার্নওভারে শতকরা ৫০ ভাগ থেকে ২৫ ভাগে নামিয়ে নতুন কর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা ধনীদের অবাধ লুটপাট ছাড়া আর কিছু নয়।’

বক্তারা বলেন, করোনাকালে মানুষের আয় কমে গিয়েছে, এর উপর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা মানুষকে দুঃসহ অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে। টিসিবিকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, জনবল দিয়ে সক্রিয় করা ও শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করার কোনো পরিকল্পনা ও বরাদ্দ প্রস্তাবিত বাজেটে নেই। নেতৃবৃন্দ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ