কানাইঘাট হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি : পরিত্যাক্ত ভবনের ভাড়া কার পকেটে

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

কানাইঘাট হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি : পরিত্যাক্ত ভবনের ভাড়া কার পকেটে

পর্ব-৩
কানাইঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম দুর্নীতির হাত থেকে পরিত্যাক্ত ভবনগুলোও ছাড় পায়নি। সরেজমিনে জানা যায় ২০১৭ সাল হতে কাগজে কলমে ভবনগুলো পরিত্যাক্ত ঘোষণা করলেও ভাড়াটিয়ারা রয়েছেন ঠিকমত। অনুসন্ধানে জানা যায় প্রতিমাসে ভাড়াটিয়ারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন। তাহলে সেই ভাড়ার পয়সা সরকারী কোষাগারে না গিয়ে যাচ্ছে কার পকেটে এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন পরিত্যাক্ত ভবনের ভাড়া টাকা প্রতি মাসে চুপিচারে উত্তোলন করছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক শামীম আহমদ। তবে বাস্তবে এই টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না হয়ে কার পকেটে যাচ্ছে তা জন সম্মূখে বেরিয়ে আসবে বলে অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন।

হাসপাতালের কর্মকর্তাদের এমন র্দুনীতির কারনে আশপাশের মানুষ ক্ষুব্দ হয়ে বলেন নাঈম এন্ড ফাহিম রেষ্টুরেন্টের নামে ভুয়া মেমো তৈরী করে দেড় লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন, হাসপাতালের পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনের ময়লা আর্বজনা পরিষ্কারের কাজ দেখিয়ে গায়েবী শ্রমিকের নামে ৭১ হাজার টাকা উত্তোলন। হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও স্টেশনারী মালমাল ক্রয় দেখিয়ে কাদির ভেরাটিজ ষ্টোরের মেমো দিয়ে আরো ১ লক্ষ ২২ হাজার ৮৬৪ টাকা উত্তোলনের খবর শুনে আমরা হতবাক হয়েছি।

তারা প্রশ্ন রেখে বলেন এই যদি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা হয় তাহলে আমরা কোন ভরসায় এখানে সেবা নিতে পারি। আনোয়ার হোসেন নামের একজন জানান আমাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা সেবা। তাই এই খ্যাতকে দুর্নীতি মুক্ত করার জন্য তদন্তপূর্বক দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানান।

এদিকে হাসপাতালে শুধু দুর্নীতি নয়, চিকিৎসা সেবা সহ হাসপাতালে রোগীরা আসলে নানা বিড়ম্ভনার মুখে পড়তে হয়। চিকিৎসা সেবায় অবহেলা, পকেট চোরদের দৌড়াত্বের কারনে চিকিৎসা সেবা ছেড়ে রোগীরা নিঃস্ব হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরতে হয়। গত কয়েক বছর থেকে হাসপাতালে পকেট চোরদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন রোগীরা। প্রায় বছরখানিক পূর্বে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। কিন্তু ক্যামেরায়ও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং বেড়েই চলছে পকেট চোরদের দৌড়াত্ব। হাসপাতালে অহরহ চলছে চুরির ঘটনা।

গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য যান পৌরসভার ডালাইচর গ্রামের সালেহা বেগম নামে এক মহিলা। তিনি ডিসপেনসারি থেকে ডাক্তার দেখানো স্লিপ সংগ্রহকালে তার হাতে থাকা কাপড়ের ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে নগদ সাড়ে ১২ হাজার টাকা চুরি হয়ে যায়। টাকা হারিয়ে সালেহা বেগম হাসপাতালে ছুটোছুটি শুরু করেন, কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে তার চাচাতো ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিন ও ভাই উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল হককে ঘটনাটি জানান।

তারা হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরা দেখতে গেলে পরিসংখ্যানবিদ সুবোধ চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ ঢাকায় অবস্থান করছেন। সিসি ক্যামেরায় মনিটর তার অফিস রুমে রয়েছে, সেটির হার্ডডিক্স নষ্ট।

এ সময় এনামুল হক, শাহাব উদ্দিন সহ হাসপাতালে আগত অনেকে জানিয়েছেন, সরকার হাসপাতালের উন্নয়নে ও বিভিন্ন খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিলেও সিসি ক্যামেরা কেন মেরামত করা হয় না। এটার পিছনে কার হাত রয়েছে।

 

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ