কালো টাকা কী জিনিস, প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

কালো টাকা কী জিনিস, প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

কালো টাকাটা কী জিনিস- এটি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা এই প্রশ্ন করেন মন্ত্রী।

বন্ডের লিমিটটা বাড়াতে বলা হয়েছে- এর মাধ্যমে আপনি মনে করেন কি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে নাকি বাংলাদেশকে থেকে কোনো টাকাই পাচার হয় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান আচ্ছা কালো টাকাটা আসলে কী জিনিস বলেন তো?

জবাবে প্রশ্নকর্তা সাংবাদিক মন্ত্রীকে বলেন, কালো টাকা হচ্ছে যে টাকার ট্যাক্স দেওয়া হয় না, অপ্রদর্শিত হয়।

তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ। ধরেন আপনি একটা বাড়ি কিনলেন ২ কোটি টাকায়। কিন্তু সরকারি হিসাবে আপনি দেখালেন ৫০ লাখ টাকা। আপনি কিন্তু পেয়েছেন ২ কোটি টাকা। আপনি অফিসিয়ালি ৫০ লাখ পেয়েছেন সেটা দেখাতে বললেন। তো দেড় কোটি টাকা আপনার কালো টাকা হয়ে গেল। এখন যেহেতু এই টাকা দেখানো হলো না কোথাও, আপনিও এটার ট্যাক্স দেননি। এটা আমাদের মধ্যে একটা ঝামেলা। বাড়ির দাম হলো ২ কোটি। আমেরিকাতে মার্কেট রেট যেটা দ্যাট ইট ইজ হোয়াট ইজ দি প্রাইজ, আর আমাদের দেশে মার্কেট রেট একটা আর সরকারি ডাটা আরেকটা। এই যে ডাইফাংশন সিচুয়েশন। এই জন্যই কালো টাকা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কালো টাকা কিন্তু চুরিদারি করে একদম ঘুষটুস খেয়ে একটা হচ্ছে। আরেকটা হচ্ছে আপনি বাড়ি কিনলেন ২ কোটি টাকায় আর অফিসিয়ালি দেখালেন ৫০ লাখ টাকা। আর ৫০ লাখ দেখানোর পরে আপনি হয়তো সরকারকে সবমিলে ৮ লাখ টাকা ট্যাক্স দিলেন। বাকি টাকার ওপর দিলেন (ট্যাক্স) না।

ড. মোমেন তার এক বন্ধুর উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, আমার এক অর্থনীতিবিদ বন্ধু উনি বলছেন এটা ভালো। আমি বললাম কীভাবে ভালো? তখন তিনি বললেন, সরকারকে ট্যাক্স দিলে তো ট্যাক্সের টাকা ঠিকভাবে ইউজ (ব্যবহার) করে না। এটা উনার ধারণা। ওই যে বাকি টাকাগুলো সে পেল। সে তো প্রাইভেট সেক্টর। মোর এফিশিয়ান। সে এই টাকাগুলো পেয়ে আরও বড় বড় বিল্ডিং বানায়। অনেক লোকের কর্মসংস্থান করে। অসুবিধা কী। সে তো ভালোই কাজ করতেছে। তোমরা এর পেছনে এত লেগেছ কেন? তাদের এলাউ কর।

বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনার আত্মীয়-স্বজন এরাই তো টাকা পাঠায়। আর কে যে পাঠায় এটা বলা বড় মুশকিল। আর যারা পাঠায় তারা কিছু বলে না। খালি মুখে মুখে বলে কিন্তু তথ্য দেয় না। আমরা যখন চাই যে কে পাঠিয়েছে, কত টাকা পাঠিয়েছে, কই কী করছে, ওইটা তখন আর বলে না। বলে না আমাকে ম্যানশন করবেন না।

ড. মোমেন বলেন, আর ওই দেশের সরকারসমর্থিত যে দেশগুলো আছে তারা কিন্তু তাদের (পাচারকারী) প্রোটেক্ট করে। আপনি যদি ওখানে টাকা পাঠান সে কিন্তু আপনার তথ্য কখনো দেবে না। এই যে সুইস ব্যাংকের অমুক-তমুক বলে বাংলাদেশিদের টাকা বেড়েছে। তারা কিন্তু কোন কোন লোকে অ্যাকাউন্ট করেছে, কত টাকার করেছে, সেই তথ্য দেয় না। বলে কি প্রাইভেসি। আমরা বহুভাবে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কানাডার কাছে বিভিন্নভাবে আমরা ওদের অ্যাপ্রোচ করেছি যে আপনার দেশে আমাদের বহু লোক ওখানে (কানাডা) টাকা ইনভেস্ট করেছে, বাড়িঘর কিনেছে। আপনারা একটা লিস্ট দিতে পারেন। তারা বলে নো নো, প্রাইভেসি আমরা দিতে পারব না। তো তারা তাদের প্রোটেক্ট করে। করাটাই স্বাভাবিক। তারা চায় অনেক টাকা তাদের দেশে আসুক। তারা সেটা চায়। সুতরাং তারা আপনাকে ডিসক্লোজ করবে কেন? তবে একটা জিনিস তারা বলে, আপনি যদি সুনির্দিষ্ট কোনো ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকে তাহলে আমরা সেটা দেখব। এখন আমরা তথ্য না জেনে কেমনে মামলা করি। আমরা বুঝি বোধহয় টাকা পাচার হচ্ছে। কিন্তু এটা অনেক কঠিন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ