কী কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হচ্ছে, তথ্য চেয়েছে দুদক

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

কী কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হচ্ছে, তথ্য চেয়েছে দুদক

অনলাইন ডেস্ক :;
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শুদ্ধ অভিযানের অংশহিসেবে ডজনখানেক কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে বদলি করা হচ্ছে। কিন্তু কী কারণে তাদের বদলি করা হচ্ছে সেই তথ্যসহ বদলিকৃতদের বিষয়ে জানতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক।

দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে গঠিত টিমের পক্ষ থেকে বুধবার এই চিঠি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, বদলি কোনো শাস্তি নয়। দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেয়া হল দায়িত্ব। আমরা বদলির কারণসহ এ বিষয়ে তথ্য চেয়েছি।

তিনি বলেন, বদলিকৃত একজন কর্মকর্তা দুদকে অভিযোগ করেছেন- সত্য বলার কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। সে কারণে বদলির প্রকৃত কারণ আমরা খুঁজে দেখতে চাই।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুধু বদলির মাধ্যমে যেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি চাপা পড়ে না যায়।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক পরিচালকসহ চার কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। রদবদল হয়েছে সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বদলিকৃত পরিচালকের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার নাম ডা. ইকবাল কবির। তিনি বর্তমানে আইসুলেশনে থাকায় কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। দুদকের অনুসন্ধানেও ডা. ইকবাল কবিরের নাম উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে দুদক ইকবাল কবিরের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে।

সম্প্রতি বদলি হওয়া একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, কেনাকাটায় সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতেই থাকবে।
পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান টিম পুরো স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সামগ্রিক একটি চিত্র তুলে আনতে চায় বলে জানা গেছে।

দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম এ নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে কেনাকাটায় হরিলুটের ঘটনা অনুসন্ধান ও তদন্তের সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত রয়েছেন দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম ও তার নেতৃত্বাধীন টিম।

এ দিকে, এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই সরবরাহের বিষয়ে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই-এর পক্ষ থেকে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে দেয়া লিখিত একটি চিঠির কপি দুদকেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তাতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হযেছে, ‘তারা কস্মিনকালেও অভিযুক্ত এন-৯৫ বা কেএন-৯৫ মাস্ক বাজারজাত করেনি। এর জন্য যে পরিমাণ কাঁচামাল তারা সংগ্রহ করেছিলেন তা ফ্যাক্টরিতে জমা রয়েছে বলে তাদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়’।

গত ২০ জুন যুগান্তরে প্রকাশিত ‘রহস্যেঘেরা কেন্দ্রীয় ঔষধাগার: মাস্ক ও পিপিই নিয়ে কী ঘটেছিল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে জেএমআই গ্রুপ। এতে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের একাংশের বিষয়ে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে আমাদের এন-৯৫ মাস্কের কোনো আদেশ দেয়া হয়নি। মোট ৯০০ কোটি টাকার কাজের মধ্যে আমাদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয় জরুরিভিত্তিতে ৫০ লাখ পিস সাধারণ ফেস মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক) ১০ লাখ পিস হ্যান্ডগ্ল্যাভস ও ৫০ লাখ পিস পিপিই সরবরাহ করার জন্য। এরমধ্যে ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক দুটি চালানের মাধ্যমে ভুলক্রমে এন-৯৫ হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে সরবরাহ করা হয়।’

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অনুসন্ধানে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করি। অনুসন্ধানের অংশহিসেবে জেএমএইসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেয়া হবে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ