কে আছে মধ্যবিত্তের পাশে?

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

কে আছে মধ্যবিত্তের পাশে?

মোঃ আসাদুল হক আসাদ : বাসা ভাড়া, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল- পানি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি বেতন পরিশোধের চাপ, অনাদায়ে জরিমানা আদায়ের মতো অমানবিক কাজের ঘটনাও ঘটে চলেছে।

সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছে – কিন্তু কিভাবে মানুষের পাশে আছে-পাশে দাঁড়িয়েছে, যদি কোনো বিবেকবান মানুষ আমার প্রশ্নটির উত্তর দিতেন তবে কৃতার্থ হতাম। আমাদের আজকের এই কষ্ট, শুধুই কি বিরোধী দলের ও সমর্থকদের নাকি সার্বজনীন?

মানুষের জীবনে পাঁচটি মৌলিক চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র ত্রাণের চাল নিয়ে পাশে দাঁড়ালেই কি জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। আমরা দেখেছি -ত্রাণ বিতরণে কত অনিয়ম, কত দুর্নীতি। দুর্নীতিবাজদের লুটতরাজের মহোৎসব হয়ে উঠেছিল সরকারী সাহায্য সহযোগিতা ও ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা। প্রকৃত অর্থে, মধ্যবিত্ত হয়েছে নিষ্পেষিত।

লকডাউন পরবর্তীতে মধ্যবিত্তের যখন একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, তখন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলসহ, গত ৩-৪ মাসের গ্যাস ও পানি বিল এককালীন পরিশোধের নোটিশ, মানুষের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলেছে।

কোনদিকে যাবে সাধারণ মানুষ -কোনদিকে যাবে মধ্যবিত্ত? বকেয়া ঘরের ভাড়া দিবে, নাকি সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও পানি বিল পরিশোধ করবে। নাকি ছেলেমেয়ের স্কুল -কলেজের বেতন পরিশোধ করবে। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, স্কুলের বেতন পরিশোধ না করায় অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ক্ষেপে উঠেছে অভিভাবকমহল- ক্ষেপে উঠছে দেশের আপামর জনতা।

কিন্তু তারা যাবে কোথায়? অভিযোগ করবে কার কাছে? কারণ তাদের ঠুটি যে চেপে ধরা হয়েছে -কেঁড়ে নেওয়া হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার। চিকিৎসা সেবায় চরম হযবরল অবস্থা। সরকারের সমন্বয়হীনতা ও স্বাস্থ্যখাতে ভয়ংকর নৈরাজ্য ও লুটপাটের খেসারত দিচ্ছে আপামর জনতা।

বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দেশের তৃণমূল থেকে শীর্ষমহল। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা কারোরই জানা নেই। যে প্রতিবাদে এগিয়ে আসবে সেই ষড়যন্ত্রকারী। নেমে আসবে চাকুরীচ্যুতি, অমানুষিক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নির্যাতন। মিডিয়া এবং টকশোতে ও সত্য ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।

সুতরাং অনেকটা নিরুপায় হয়েই সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত অশ্রুসিক্ত নয়নে ভাসাচ্ছে বুক। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন অথবা উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয় করোনা আক্রান্ত হচ্ছে অথবা মারা যাচ্ছে।

যেইবা সুস্থ হচ্ছে, তাও কি বিনা পয়সায়? বিনা দুর্ভোগ ও হয়রানিতে। এই হসপিটাল থেকে ঐ হসপিটাল -এই ক্লিনিক থেকে ঐ ক্লিনিক, রিপোর্ট পেতে পেতে আর দৌড়ঝাঁপ করতে করতেই মৃত্যুকোলে মানুষের জীবন। পাশে কেউ নেই – কোথাও কেউ নেই!!!

প্রবাসী রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতি এখনো টিকিয়ে রেখেছে অথচ তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে।

লকডাউন না কারফিউ? সীমিত পরিসর- নাকি মুক্ত জীবন?
কিন্তু আমরা মধ্যবিত্তরা বেঁচে থাকবো কিভাবে? কে থাকবে আমাদের পাশে ?

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ