‘ক্বীনব্রীজে হকারদের বসিয়েছেন আরিফ’ ক্ষুব্ধ জনসাধারণ

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

‘ক্বীনব্রীজে হকারদের বসিয়েছেন আরিফ’ ক্ষুব্ধ জনসাধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ক্বীনব্রীজ হলো সিলেট শহরের ঐতিহ্যবাহি স্থাপনার মধ্যে অন্যতম। নগরীর প্রবেশদ্বার সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বীনব্রীজ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। সেই ক্বীনব্রীজটি সংস্কারের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর যান চলাচল বন্ধ করা হয়। যদিও সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছে ঐতিহ্য রক্ষার জন্যে এই সেতু দিয়ে যানচলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে তা পথচারীরদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কিন্তু লক্ষ্য করা যায়, যান চলাচল বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই হকারদের দখলে চলে গেছে পুরো ক্বীনব্রীজ। দীর্ঘ এই ব্রীজ জুড়ে নানা ধরণের পণ্যেও পসরা নিয়ে বসা হকারা। এদিকে ব্রীজে হালকা যানচলাচলের জন্য খুলে দিতে দাবী জানিয়ে আসছেন দক্ষিণ সুরমাবাসী। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিও পালন করেছেন দক্ষিণ সুরমাবাসী। দক্ষিণ সুরমা বাসীর দাবী ব্রীজ দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে তিনি ব্রীজের উপর হকার্সদের পূর্ণবাসন করেছেন যা সম্পন্ন বেআইনী। আন্দোলনকারীদের দাবী বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে আমরা দাবী জানিয়েছি হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য ব্রীজটি খুলে দেওয়ার। তবে এই হকার্সদের কারণে ব্রীজ দিয়ে পারাপারকারী পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

হকারদের কারণে ক্বীনব্রীজ অনেকটা ভ্রাম্যমান বাজারে পরিণত হয়েছে। ক্বীনব্রীজ ঘুড়ে দেখা যায় যে, মাছ, সুটকি, কাঁচামরিচ, শাক-সবজি, পান-সুপারি, টিশার্ট, মশারি, মোবাইল সিম, চার্জার, হাতঘড়ি, বেল্ট, হ্যাডফোনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের বাজার বসেছে সেখানে।

ব্যবহারকারী অনেকেই জানালেন, হকারদের কারণে ব্রীজ দিয়ে হাঁটা মুশকিল হয়ে পড়েছে। সেতুটি পার হওয়ার সময় হকাররা ডাকাডাকি ও নানা ধরণের আওয়াজ ব্যবহার করার ফলে বিরক্তিকর পরিবেশ দেখা দিয়েছে। অনেকই এই হকারদের সামনে জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকেন। যার ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্রীজটি ব্যবহার করা যায় না। দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে হকারদের উৎপাত।

ক্বীনবীজ সিলেটের সুরমা নদীতে স্থাপিত প্রথম সেতু। দৃষ্টিনন্দন এ সেতুর লোহার কাঠামোয় তৈরি ব্রীজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৩৩ সালে। ক্বীনব্রীজের নাম করন কারা হয় আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নও মাইকেল কিনের নামে। সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৩৬ সালে। প্রায় আট দশক ধরে সচল থাকা সেতুটি মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সংস্কারকাজ শেষে আবারও সচল হয় দৃষ্টিনন্দন এ ক্বীনব্রীজ। নব্বই দশকের পর সিলেটে সুরমা নদীর ওপর আরও চারটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ক্বীনব্রীজ সিলেট নগরের মধ্যভাগে হওয়ায় যানবাহন চলাচল কখনো বন্ধ হয়নি। লোহা দিয়ে তৈরি ব্রীজের আয়তন হচ্ছে ১,১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৮ ফুট প্রস্থ ।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ক্বীনব্রীজ সিলেটের একটি প্রতীক। ঐতিহ্যবাহী এই সেতু টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ করে শুধু পায়ে হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এখন এই জায়গাও হকাররা জনগণের হাঁটাচলায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। প্রতিদিনই নগরের কোনো না কোনো এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান করছি। কিন্তু এখন এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা দরকার। নাগরিক সমাজ যদি এগিয়ে না আসেন তাহলে একা কিছু করা সম্ভব না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ