ক্যাসিনো নিয়ে ভাসানচরে চলে যান : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

ক্যাসিনো নিয়ে ভাসানচরে চলে যান : প্রধানমন্ত্রী

সিলনিউজ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা জুয়া খেলা, ক্যাসিনো যাদের নেশায় ঢুকে গেছে তারা ভাসানচরে চলে যান। ক্যাসিনো চালিয়ে এদেশ ধবংশ করার কোন প্রয়োজন নেই। জুয়াখোররা ভাসানচরে চলে যান। ওখানে সব ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

পুলিশ অভিযান চালাবে, আপনারা কয়েকদিন ক্যাসিনো থেকে দূরে থাকবেন। কয়েকদিন পর আবার ক্যাসিনো চালাবেন। দেশের যুব সমাজকে ধবংশ করবেন, পরিবেশ নষ্ট করবেন। এর চেয়ে ভাল আপনার ভাসানচরে চলে যান।
আজ গণভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আমরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি, সেটা এলপিজি, বোতল গ্যাস। এটা বিদেশ থেকে আমদানি করে নিজেদের দেশে সরবরাহ করছি। আর কিছুটা ত্রিপুরায় দিচ্ছি।

বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ থেকে ৬ অক্টোবর—এই চার দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে তিনি ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হল তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হল দখল করে রেখে মাস্তানি করা চলবে না। সারা দেশে খোঁজ-খবর নেয়া হবে।

বুধবার বিকালে গণভবনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধামনন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একজন এক রুমে থেকে জমিদারি করতে পারবে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এসব করা চলবে না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একজন শিক্ষার্থীকে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার বানাতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয় বলে জানান।

নিজ ঘরের শুদ্ধি অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সতর্ক করিনি আমি অ্যাকশনে গেছি।

আবরার হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরার হত্যার ঘটনায় আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে ফুটেজ সংগ্রহ করতে। সেখানে আলামত সংগ্রহ করতে। পুলিশ আমাকে ফোন করে জানায় তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হচ্ছে না। তাহলে তাদের মধ্যে কি হামলাকারী কেউ ছিল?

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ছাত্রলীগকে ডেকেছি। তাদেরকে বলেছি অভিযুক্তদের বহিষ্কার করতে। আমি জানি স্বজন হারানোর বেদনা কী? আমি আমার স্বজন হারিয়েছি। কত বছর পর বিচার পেয়েছি তা দেশের জনগণের ভুলে যাওয়া উচিত না।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জেরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ