কয়েকজন নারীকে ‘কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন’ সেই পুরোহিত

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

কয়েকজন নারীকে ‘কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন’ সেই পুরোহিত

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে মন্দিরে এক তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যে পুরোহিতের বিরুদ্ধে তিনি এর আগেও কয়েকজন নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যদিও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মন্দিরের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পুরোহিতকে ফাঁসানো হয়েছে।

পুরোহিতকে বৃহস্পতিবারই আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযুক্ত পুরোহিতের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের কালাকোনা গ্রামে শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দিরের বৈষ্ণবের (পুরোহিত) দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এলাকাবাসী তাকে বাবাজি বলে ডাকতেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হাসান শুক্রবার বিকেলে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার মামলা করেন বাঘা এলাকার এক তরুণী। মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এরইমধ্যে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

 

ওসি বলেন, ‘এজাহার অনুসারে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বুধবার। আর মামলা হয় বৃহস্পতিবার। এই সুযোগে এক আসামি পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’

মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের কথা আমিও শুনেছি। তবে ওই পুরোহিতের চারিত্রিক সমস্যা আছে বলেও এলাকার অনেকে জানিয়েছেন। আরও কয়েকজন নারীকে তিনি কুপ্রস্তাব দেন। এমনকি যে তরুণী মামলা করেছেন তার বড় বোনকেও ওই পুরোহিত কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। সবকিছুই আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

এজাহারে তরুণী অভিযোগ করেন, বুধবার সন্ধ্যায় মন্দিরের পাশের বাড়ির এক তরুণী ওই মন্দিরে যান। ওই রাতে পুরোহিত ও তার সহযোগী তরুণীকে জরুরি কাজের কথা বলে মন্দিরের পাশে নিয়ে যান। সেখানে তার মুখে চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশ এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে পুরোহিতকে ফাঁসানোর অভিযোগ যারা তুলেছেন তাদের কয়েকজন জানান, ২০১৯ সাল থেকে এই মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই মন্দিরের জায়গা তার দাবি করে মন্দির নির্মাণ কাজেও বাধা দেন। এর পেছনে প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতা সম্পৃক্ত বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় দুলন দেব জানান, আমরা এ এলাকার লোক, মঙ্গলবার রাতে যদি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতো আমরা অবশ্যই শুনতে পেতাম। তাছাড়া গণধোলাই ও সেবায়েতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি পরিকল্পিত।

তিনি জানান, সেবায়েত বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল অনুমান ৫টার দিকে মন্দিরের পূজোর জন্য ফলমূল কিনতে বাঘা অধিরের দোকান এলাকায় আসেন। বাজার শেষ করে আমার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসলে সেখান থেকে সাদা পোষাকে আসা গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ