গল্প পিশাচ : পর্ব – ২

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

গল্প পিশাচ : পর্ব – ২

সাগর ইসলাম রাজ :: “এই ভাইয়া ওঠ আর কত ঘুমাবি??সেই কখন থেকে ডাকছি।” সাগর ধড়ফড় করে উঠে বসে।মনিকে সামনে দেখে তার মুখে হাত দেয়।মনি তখন বলে “খারাপ কোনো স্বপ্ন দেখেছিস ভাই?”

সাগর মনির কথা শুনে কিছু বলেনা।।তাকে এসব না বলাই ভালো।ছোট মানুষ সে ভয় পেতে পারে।

“না তেমন কিছুনা।জোরে ডাক দিয়েছিস তাই।” “আচ্ছা ঠিক আছে।খাবার রান্না করা আছে।আমি সবার সাথে স্কুলে চলে গেলাম?
“সাবধানে যাস।” “ঠিক আছে।তুই উঠে খেয়েনে।”

মনি স্কুলের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।সাগর উঠে বাথরুমে ফ্রেশ হতে যায়।চোখে তখনও ঘুম আছেই।আবার স্বপ্নের কথাটা মাথার মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে।হঠাৎ সে এমন স্বপ্ন কিজন্য দেখলো??স্বপ্নের কোনো মানে আছে??নাকি এমনি স্বপ্ন?

বাথরুমে ফ্রেশ হতে হতে সাগর খেয়াল করে বাথরুমটা কেমন শীতল হয়ে গেল।মনে হচ্ছে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে।কিন্তু হঠাৎ এমন কেন হলো?
তখন হঠাৎ আয়নার দিকে চোখ যায়।তখন সেখানে দেখে।

আয়নাটা কেমন বরফের আস্তরনের মতো হয়ে যাচ্ছে।আর সেখান দিয়ে হঠাৎ রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগে। সাগর ভয় পেয়ে যায়।এবং সেখান থেকে পিছিয়ে যায়।রক্ত দিয়ে সেখানে লেখা উঠেছে
“১০ দিন।আমি আসছি”

আবার সেখানকার আবহাওয়া ঠিক হয়ে যায়।সাগর তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে বের হয়ে যায়।কিন্তু তার সাথে হঠাৎ করে এমন কেন হচ্ছে সে বুঝতে পারছেনা।।মনে ভয় কাজ করছে।কিছু হবেনা তো??তাদের সাথে কি হতে চলেছে?মাথায় কাজ করছেনা সাগরের কি করবে এখন??

গতকালকে স্কুলে কিছু ম্যাগাজিন দিয়েছিল লুইস।সবকিছু রিসার্চের অংশ।কিছুদিন যাবত লুইস স্বপ্নে দেখছে লন্ডনের সেই রাজপরিবারের কাহিনী।তারা আবার ফিরে এসেছে।।আর তারা বাংলাদেশে আছে।তাই লুইস লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসেছে।যখন প্রথম পিশাচ কাহিনী ডাইরিটা পড়েছিল তখন থেকেই লুইসের এ ব্যাপারে জানার খুব আগ্রহ।

লুইস আজ আবার সে স্কুলে যাবে।সেখান থেকে কোনো ক্লু খুজে পায় কি।বাংলাদেশে এত মানুষের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটা মানুষকে খুজে বার করা অনেক কষ্টকর।তারপরের হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয় লুইস।তাকে সফল হতে হবেই।

স্কুলের সব ক্লাসের বাচ্চাদের থেকে যা তথ্য নেয়ার নিয়েছে লুইস শুধু ক্লাস ১০ বাদ আছে।ক্লাসে ১০ এ প্রবেশ করে লুইচ।তাকে দেখে সবাই উঠে দাড়ায়।লুইস সবাইকে জিগ্যেস করে তারা ম্যাগাজিনটা কাকে কাকে দেখিয়েছে আর তাদের অনুভূতি কেমন।

সবাই যখন তাদের অনুভুতি বলছিল তখন লুইসের চোখ যায় মনির দিকে।কেমন গুটিশুটি মেরে বসে আসে।তখন লুইস মনিকে জিগ্যেস করে

“তোমার নাম কি??তুমি এভাবে মন খারাপ করে বসে আছ কেন?
লুইসেরর কথা শুনে চমকে উঠে মনি আর থতমত খেয়ে উত্তর দেয়
“আর আমার মনি আর আমি এমনি এভাবে বসে আছি।
“তোমার অনুভুতি বল ম্যাগাজিনটার ব্যাপারে।”
“ম্যাগাজিনটা সত্যি অস্বাধারন।আর দেখলে মনে হয় যেন বাস্তবে দেখছি বাড়িটা।”
“তোমার পরিবারে কে কে আছে?”
“আমি আর আমার বড় ভাই”
“তোমার ভাইয়ের সাথে আমাকে দেখা করাবে?”
“অব্যশ্যই দেখা করাবো।”

লুইস স্কুলের হেডমাস্টারের কাছ থেকে মনির জন্য ছুটি চেয়ে নেয় আর মনিকে নিজের জিম্মেদারিতে নিয়ে যায়।

লুইস মনির সাথে তার বাড়িতে আসে।লুইস শুধু মনের ধারনাতে মনির সাথে তার বাড়িতে এসেছে।জানেনা তার ধারনা সঠিক হবে না ভুল। তাও লুইস এসেছে কারন এ পর্যন্ত এতটুকু ক্লু একবারও পায়নি।

লুইস বাড়ির মধ্যে যখনি প্রবেশ করে তখনি দমকা শীতল বাতাস বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে যায়।লুইস ভিত হয়ে যায়।হঠাৎ বাতাস বয়ে যাওয়াতে তবে তাতে কিছু মনে না করে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে।

“এটাই হলো আমার বাড়ি স্যার।”
মনির কথা শুনে লুইস বাড়িটার চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নেয় আর বলে

“তোমাদের বাড়িটা অনেক সুন্দর।বাড়ি হিসেবে মানুষ অনেক কম।”
“আমি বাড়িটাকে সব সময় গুছিয়ে রাখি।মানুষ কম হলে কি করবো বলেন।এক সময় মানুষ বেশি ছিল এখন কম।”
“যাই হোক তোমার ভাই কোথায়?”

মনি তখন পুরা বাড়িটা খোজে কিন্তু কোথাও সাগরকে খুজে পায়না।মনি পাসের বাসার মানুষকে জিগ্যেস করে তারাও বলতে পারেনা কোথায় গেছে।তখন মনি লুইসের কাছে আসে আর বলে

“ভাই মনে হয় বাহিরে গেছে।আপনার শুধু কষ্ট হলো।”
মনির কথা শুনে লুইস হাসে।আর বলে
“কোনো ব্যাপার না।তোমার বাড়িটা চিনা থাকলো।আমি বাংলাদেশে কিছুদিন আছি।পরে একদিন না হয় এসে তোমার ভাইয়ের সাথে দেখা করে যাব।”
“ঠিক আছে।”
“আজ তাহলে আমি আসি?”
“আমার বাসায় প্রথম এলেন কিছু খেয়ে যান?”
“ঠিক আছে এক গ্লাস পানি দাও।”

মনি লুইসকে পানি দেয়।পানি খেয়ে লুইস বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।বেরিয়ে যাওয়ার সময় লুইস খেয়াল বরে প্রথমের মতো এবারও ঠান্ডা হিমশীতল বাসাত বয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেলো।লুইস বাড়ির বাইরে থেকে বাড়িটার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো তারপর সে সেখান থেকে চলে যায়।

সাগর গতদিনের কফিবারে গিয়েছে।একটাই লক্ষ্য এনার সাথে দেখা হবে।।মেয়েটার চোখে মায়া আছে।এনা আগেই বলেছে সে প্রতিদিন কফিবারটাই কফি খেতে আসে।সাগর গতদিনের জায়গাতে বসে কফি খাচ্ছে ঠিক তখন এনার আগমন।

“কি মিষ্টার আপনারও কি কফি খাওয়ার রোগ হয়েছে নাকি?”
এনার কথা শুনে সাগর মুচকি হাসে আর বলে।

“সেরকম কিছু না ভালো লাগছিলনা তাই ভাবলাম কফি খেয়ে আসি।আর যদি আপনার সাথে দেখা হয়ে যায়।”
“আমার সাথে দেখা হয়ে যায় তো কি?”
“কি আবার কথা হবে আর কফিও খাওয়া হবে।”

দুজনেই তখন হাসে।এনা যখন কফিতে চুমুক দিচ্ছিল তখন সাগর মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কফি খাওয়া দেখছিল।তার নরম ঠোটে গরম কফি।চোখের মায়া হৃদয় ছোয়া হাসি মনে উড়ে যায় আকাশ বাতাস নেই যে তার নীড়।

“কি মিষ্টার কোথায় হারিয়ে গেলেন?”

এনার কথা শুনে সাগরের ভাবনার জগৎ ভাঙে।আর কফিতে চুমুক দিয়ে বলে

“আপনার চোখে অস্বম্ভব রকমের মায়া।”
“ফ্লার্ট করছেন?”
“তেমনটা করার ইচ্ছা নেই।”
“তাহলে এই মায়ায় জড়িয়েন না ভষ্ম হয়ে যাবেন।”
“ভয় নেই পুলিশ কেস করবনা।”

দুজনেই হেসে উঠে।

“আপনি অনেক মজার মানুষ।আপনার সাথে আড্ডা দিতে ভালোই লাগে।তবে আজকে আবার যেতে হবে সময় নেই।”
“এত তাড়াতাড়ি।”
“এত তাড়াতাড়ি কোথায়?আপনার ঘড়ি আটকে আছে কিন্তু সবার ঘড়ি চলছে।”

এনা আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সেখান থেকে উঠে চলে যায়।সাগর এনার পিছে পিছে কফিবারের বাইরে চলে আসে।আর এনার যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকে।আস্তে আস্তে এনা মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়।সাগর সেখান থেকে চলে আসে।

সারাদিন এদিকে সেদিকে ঘুরে বাড়ির দিকে যেতে থাকে সাগর।চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেছে।ল্যাম্পপোস্টের আলোতে রাতের আধারে হাটার মজাই আলাদা।সাথে মৃদু হালকা শীতল বাতাস।পাশে কেউ থাকলে আরও ভালো লাগতো।হঠাৎ আকাশে বিজলী চমকায়।হঠাৎ আকাশে মেঘ কোথায় থেকে আসলো।এই তো আকাশ পরিষ্কার ছিল।যাই হোক প্রকৃতির নিয়ম কখন পাল্টায় ঠিক নেই।

হঠাৎ সাগরের মনে আসে বাসায় মনি একা আছে।তাকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে।তখন জোরে হাটতে শুরু করে সাগর।কিছু দুর যাওয়ার পরে একটা নির্জন জায়গাতে পৌছায় সাগর।সেখানে কোনো বসতি নেই।দিনের বেলা অনেক মানুষ আসে এখানে।অনেক মনোরম পরিবেশ চারিদিকে গাছে ভোরা।কিন্তু রাতের বেলা এমন শুনশান জায়গা হয়ে উঠে ভয়ানক।

হঠাৎ বিজলী চমকায় আর সাগর দেখতে পায় একটা সাদা পোশাকের কোনো মানুষ বসে আছে।আর হাত দিয়ে কিছু একটা করছে
সাগরের তখন ভয় করছিল।তবুও সামনের দিকে যেতে থাকে।যদি কোনো মানুষ বিপদে পড়ে তখন?সাগর সামনের দিকে যেতে থাকে।বিজলীর আলোয় পরিবেশটা অনেক বেশি ভয়ংকর করে তুলেছে।সামনের দিকে যত জায় ততো বুক ধুকধুক করতে থাকে।

সাগর ঐ সাদা পোশাকের লোকটার পিছনে দাড়িয়ে আছে।মনে হচ্ছে সে কিছু করছে।সাগর জিগ্যেস করে
“কে ওখানে?”
কিন্তু ওপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসেনা।
সাগর আবার জিগ্যেস করে
“কে ওখানে?এত রাতে এই খারাপ আবহাওয়ায় এখানে কি করছে?”

এবারও ওপর প্রান্ত নিরব ভূমিকা পালন করছে।কিন্তু তার হাত নড়ছে।

সাগর সাহস করে আরেকটু এগিয়ে যায়।আর সাগর ঐ সাদা পোশাকের লোকটার ঘাড়ে হাত দেয় আর তার হাত থেমে যায়।দুই এক সেকেন্ড নিরবতা হঠাৎ সে সাগরের দিকে ফিরে তাকায়

সাগরের বুক ধুক করে উঠে।একটা মেয়ে তার মুখে রক্ত জাতীয় কিছু।এমন ভাবে হঠাৎ এই রকম বিভৎস্ব রুপে তাকিয়ে যে সাগরের বুক ধুক ধুক করছে।

সাগর এক ধাপ পিছিয়ে আসে।তার শীর দাড়া দিয়ে ভয়ের স্রোত বয়ে যাচ্ছে।ভালো করে খেয়াল করে দেখে আরেকটা মেয়ে নিচে পড়ে আছে।আর তার মাথার অর্ধেক এই মেয়ে খেয়ে ফেলেছে।আর তখনও তার মাথা খাচ্ছে সাগর যখন বলে
“কে তুমি এভাবে মানুষের মাথা খাচ্ছো কেন?”
মেয়েটা আবার সাগরের দিকে তাকায় আর হাসতে থাকে।
রক্তে দাঁত লাল হয়ে আছে।আর বিজলীর আলোতে এমন ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে যে হার্টের রোগী থাকলে তার মারা যেতে এক সেকেন্ডই যথেষ্ট।

মেয়েটা হঠাৎ হাসি থামিয়ে কান্না শুরু করে।আর কান্না করতে করতে বলে
“আমি এমনটা করছিনা ও আমাকে দিয়ে করাচ্ছে।”
সাগর তখন বলে
“ও কে?কার কথা বলছো?
তখন মেয়েটা তার পেটের দিকে ইশারা করে বলে
“ও আমাকে দিয়ে করাচ্ছে।”
“তুমি কি পাগল হয়েগেছো?পেটে খুদা তো লাগবেই তাই বলে কোনো মানুষের মাথা খাবে?”

এবার মেয়েটা রাগান্বিত গলায় বলে
“তোমার মাথা তো খাচ্ছিনা চুপ থাকো।নয়তো তোমারও খাব।”
কথাটা বলে মেয়েটা হাসতে শুরু করে।

সাগর তখন বলে
“এই মেয়েকে তুমি কোথায় পেলে?”
“রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল মেরে দিয়েছি।”

সাগর কথাটা শুনে আরও পিছিয়ে যায়।হঠাৎ বিজলী চমকায় আর বিজলী মেয়েটার ওপর পড়ে আর বৃষ্টি শুরু হয়।ততোখনে পুরা মাথা খেয়ে ফেলেছে।

বিজলীর আলো সরে গেলে দেখে সেখানে শুধু মাথা বিহীন লাশ পড়ে আছে।আর কেউ নেই।সাগর অনেকটা ভয় পেয়ে যায়।মেয়েটা কোথায় গেলো?সে বি আসলে মানুষ নাকি অন্য কিছু।এখানে বেশিখন থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে।

সাগর সেখান থেকে দৌড়াতে থাকে।বৃষ্টির সাথে বিজলী দমকা হাওয়া শুরু হয়েঠে।মনে হচ্ছে সে নড়তে পারছেনা।অনেক কষ্ট হচ্ছে তার দৌড়াতে।একদিকে ভয় আরেক দিকে খারাপ আবহাওয়া।মনে হচ্ছে পুরা শরীর অবশ হয়ে আসছে।

বাড়ির কাছেই চলে এসেছে সাগর।দরজার কাছে গিয়ে একটা ধাক্কা দেয়।তারপর সাগর সেখানে পড়ে যায়।তারপর আর তার কোনো হুশ নেই।যখন সাগর চোখ খুলে তখন সকাল হয়ে গেছে। আর দেখে সে তার বিছানায় শুয়ে আছে আর তার বোন তার পাশে বসে আছে।দুচোখ লাল হয়ে আছে।মনে হয় সারা রাত ঘুমাইনি।

সাগর বিছানায় উঠে বসতে চেষ্টা করে কিন্তু পুরা শরীর ব্যাথা হয়ে আছে।মাথাটা ভারী হয়ে আছে।তখন মনি বলে
“এখন উঠা লাগবেনা।শুয়ে থাক আমি খাবার বানিয়ে আনি খেয়ে ঔষধ খা।”

সাগর আবার শুয়ে পড়ে।আর শরীর খারাপ থাকায় আবার ঘুমিয়ে পড়ে।আর ঘুমের মধ্যে দেখে সে মাথা খাওয়া লাশটার পাশে শুয়ে আছে আর তার সামনে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে তার চুল গুলো সামনে ঝুলে পড়া তাই মুখ দেখা যাচ্ছেনা।আর সে বলছে
“আর ৯দিন।আমি আসছি।

চলবে….

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ