গোয়াইনঘাটে তরিকারি বাজারে জ্বলছে দাবানল

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

গোয়াইনঘাটে তরিকারি বাজারে জ্বলছে দাবানল

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট
দুদিনের মধ্যে বৃহস্পতি তুঙ্গে। কেজিপ্রতি ১৫ টাকার আলু এখন ধুম করে ৫০ টাকা! তিন গুণ দাম তড়াক করে বেড়ে গেছে!!ক্রেতা জয়নাল আঙুলে বারবার হিসাব কষে।
হিসাবে গরমিল নাকি ভাইজান?’ ‘না না, ঠিক আছে’। ‘ভাইজান, খুচরা বাজারে পাইকারি হিসাব কইরা লাভ নেই। মাল ছাড়তে হবে!’
ভাব সম্প্রসারণ এর ভাষায়, চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন? ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে, কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে?
যারা সব সময় সুখ শান্তিতে থাকে দুঃখ-কষ্ট তাদের নাগালের বাইরে থাকে,তারা কি করে অন্যের ব্যথা বুঝবে।
তরিতরকারির বাজারে এ যেন রীতিমতো অরাজকতা শুরু হয়েছে। মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে হাট-বাজার শুধু পিঁয়াজ আর আলুর নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের তরিতরকারির দাম আকাশচুম্বী। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের উপর কেউ তোয়াক্কা করছেন না, ভোক্তা অধিকার আইন ও নিয়ম নীতির উপর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতিটা বাজারে এমন কি? অলিতে গলিতে ক্রেতা কম হলেও জিনিসপত্রের দামের কোন কমতি নেই। গোয়াইনঘাটের বর্তমান সময়ের সিনিয়র সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন উনার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন জাফলং বাজারে আলুর প্রতি কেজি ১২০ টাকা আর পেঁয়াজের দাম নিয়ে মাতামাতি করতে করতে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন এর সাংবাদিক এম এ রহিম বলেন আমরা সবাই আছি বাজার মনিটরিং এর অপেক্ষায় কিন্তু কেন? সাংবাদিক মহল সচেতন মহল তারা কেন মুখ খুলছেন না। সরকারদলীয় স্থানীয় প্রতিনিধি নেতা ও কর্মী বৃন্দ বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উপর প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে অসন্তোষ বা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কিন্তু মুখ খুলছেন না কারণ সাধারণত জনতাকে বোঝানো যায় না যে এটা শুধু সরকারের দায়ভার না এটা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একটা কারসাজি। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি তারাও জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের উপর হাঁপিয়ে উঠেছেন। বছরে দুই একবার বাজার মনিটরিং হলেও এর প্রভাব কিন্তু ব্যবসায়ীদের উপর পড়ে না, দুই একটা দোকান মনিটরিং করার পর পুরো বাজারে জানাজানি হয়ে যায় আর চতুর ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যান।
হেলাল নামে একজন খুচরা ব্যবসায়ী বলেন আমাদের দোষ কি ভাই পাইকারি বাজার থেকে আমরা যেভাবে ক্রয় করে থাকি তা থেকে ২/১ টাকা লাভে বিক্রি করি, পাইকারি এবং আড়তদার ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করুন মূল হোতাদের ধরুন।
সরকার বাজার এর দরদাম ঠিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিপণন করে কিন্তু সেটা ক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতা সাজিয়ে কম মূল্যে টিসিবির মাল ক্রয়ে তৎপর হয়ে ওঠে।সরকার বরাবরই চায় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক রাখতে। এ ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর ও সচেতন। শুধুমাত্র কার্যকর তৎপরতা ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। বাজারদরও যেন এক প্রকার গোলক-ধাঁধায় নিক্ষিপ্ত! কখন, কী কারণে, কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ কার্যত খুঁজে পাওয়া যায় না। বন্যায় জিনিসপাতির দাম বাড়ে, খরা হলেও বাড়ে, দুর্যোগ হলেও বাড়ে, আবার না হলেও বাড়ে। রমজান, ঈদ, পুজা-পার্বণে তো কথাই নেই। তখন ষোলআনাই বাড়ে। এবারো কর্তৃপক্ষের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতিতে সাধারণ জনগণ আশান্বিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ দেখছে না। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যের মূল্য বেড়ে এমন স্তরে পৌঁছেছে, মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের কাছে বাজার এখন এক আতঙ্কের নাম। আজকের মূল্য আগামীকাল পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে- এ নিশ্চয়তাটুকুও কেউ দিতে পারছে না। আজকাল অনুমান করে, কিংবা হিসাব কষেও হাট-বাজারে যাওয়া এক ধরনের বোকামি। একটা স্বাধীন দেশের নাগরিকদের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বলগাছাড়া অবস্থা সহ্য করা নিঃসন্দেহে বজ্রাঘাততুল্য।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব বলেন, সত্যিই বাজারদর সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়সীমার বাহিরে। উপজেলা প্রশাসন থেকে আমরা বাজার মনিটরিং কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, গতকাল গোয়াইনঘাট উপজেলার কয়েকটা বাজার মনিটরিং করা হয়েছে আজও চলছে, বাজার মনিটরিং আরো বৃদ্ধি করা হবে, উপজেলার প্রতিটা বাজার এর দরদাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ