“গোয়াইনঘাটে সবুজ হয়ে উঠছে ক্ষেতের মাঠ একটু হলেও প্রানবন্ত কৃষক”

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২০

“গোয়াইনঘাটে সবুজ হয়ে উঠছে ক্ষেতের মাঠ একটু হলেও প্রানবন্ত কৃষক”

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট :: এইবার বছরের শুরুতেই মাসের শেষের দিকে প্রথম বন্যার কবলে পড়ে গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসী। এরপর মুহ মুহ চার বারের বন্যায় পুরো উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ঘরবাড়ি স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা সহ যোগাযোগ ব্যবস্থার অবর্ণনীয় অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। করোনার প্রাদুর্ভাবে আর বন্যার আক্রমণে নেতিয়ে পড়েছিল উপজেলার সাধারণ মানুষ। হার না মানা কৃষক বন্যার পানি থেকে বীজ তলা উদ্ধার হতে না হতেই নেমে পড়েছে তারা মাঠে। মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে লালচে আর বাদামী রঙের দোআঁশ মাটি পরিণত হয়েছে সবুজ-শ্যামল ঘাসে। যে দিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকের সোনালী স্বপ্ন লুকিয়ে আছে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে মাথা নাড়াচ্ছে ধানের চারা বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না, তারপরেও থেমে নেই ক্ষেতের কাজ খালি নেই এক কাঠা জমিও। ঘরের ধানের ভাত খাবেন এই আশায়। আবার ধান কেটে ঘরে তুলে জমিতে চাষ করবেন রবি শস্য। অনেকে ধান চাষের লোকসান পুষিয়ে নিতে চান আলু, পটল,শিম চাষ করে।
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবুজ ধান ক্ষেত জানান দিচ্ছে সবুজের সমারোহের। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ ধানের চারা। মাত্র ১৫/২০দিন আগে আমন চারা রোপণ করেছেন এ অঞ্চলের কৃষক। ১৫ দিনের ব্যবধানে বেড়ে উঠেছে আমন চারা। বর্তমানে কোন সংকটে পড়তে হচ্ছে না কৃষকদেরকে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পানির সংকট ও থাকছে না কৃষকদের। সার, বীজ, কীটনাশক সংকট না থাকার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ কৃষকের আমন চাষে গতি বাড়িয়েছে আরো এক ধাপ।
কৃষক এনামুল হক জানান, তিনি শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি আমনের চারা বপণ করেছেন। এবার কোন সমস্যা নাই তাদের। ২০ দিনের মধ্যে চারা বেশ বড় হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ জানান বর্তমান সময়ে কৃষকদের জন্য সরকারি কোন প্রণোদনা নেই তবে কিছু কৃষককে রবি শস্যের বীজ দেওয়া হবে আরও বলেন এই বৎসর তাদের হিসাব অনুযায়ী১৫ হাজার ১৭০ হেক্টর ফসলের জমি আবাদ হবে কিন্তু বাস্তবে ১৬ হাজার হেক্টরের উপরে ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতালেব বলেন নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের সকল কৃষককে আধুনিক পদ্ধতিতে উপশী জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা আবাদের আওতায় এনে ছিলেন। যাতে করে কৃষক কম জমি ক্ষেত করে বেশি ফলন পায় কিন্তু বন্যার কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ