গোয়াইনঘাট সালুটিকর সড়কে ৫ ট্রাক ইট দিয়ে সংস্কার!

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১

গোয়াইনঘাট সালুটিকর সড়কে ৫ ট্রাক ইট দিয়ে সংস্কার!

নিজস্ব প্রতিবেদক গোয়াইনঘাট সিলেটের পর্যটন এলাকা নামে পরিচিত- বিছনাকান্দি, জাফলং, পান্থুমাই এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে যাবার প্রধান রাস্তার অবস্থা দেখলে সহজেই আপনার মনে আসবে এই-রাস্তার কোন অভিভাবক নেই।
এই প্রধান রাস্তাটি দিয়ে শুধুই দেশের সাধারণ জনগণ যাতায়াত করে তাই এইরাস্তাটি কর্তৃপক্ষের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ
বলে মনে হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী।অভিভাবক হারা এতিম রাস্তাটি প্রতিদিন হাহাকার করে কাঁদছে!আর আহবান করছে-কেউ এসে যেন তাঁর ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেয়! বিগত বছরের ছয় বারের বন্যায় ২৪ কিঃ মিঃ রাস্তার বেহাল দশা।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে এলাকার ভোগান্তীর শিকার ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ দুই বছর যাবত এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বেহালদশা, রাস্তার অধিকাংশ জায়গা ভাঙ্গা ও বেশ কিছু স্থানে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিন্ম মানের কাজের ফলে রাস্তাটির পিচ, খোয়া, বালুর সাথে বৃষ্টির পানি মিলেমিশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বড় গর্তে যখন ট্রাক বা ভারী যানবাহন আটকে যায়, তখন সৃষ্টি হয় যানজট। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে যায় এতে চালকদের সমস্যা দ্বিগুন বেড়ে যায়।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ লাখ মানুষের সড়ক পথে চলাচলের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক।

অপর দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যভূমি হওয়ায় সম্প্রতি উপজেলাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন উপজেলা হিসেবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছে। টিলা, নদী, ঝর্ণা, হাওর, চা বাগান ও দেশের বৃহৎ রাতারগুল জলার নিয়ে গোয়াইনঘাট গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। অথচ সম্ভাবনাময় এসব পর্যটনকেন্দ্র উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা এবং সড়ক সংস্কার না করায় । এখানকার পর্যটন খাত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পৌঁছাতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ জন্য দর্শনার্থী আসার হারও কমছে। এসব কারণে এ পর্যটন শিল্প মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না।

পর্যটকদের কাছে গোয়াইনঘাটের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল জলারবন,মায়াবী ঝর্ণা ও পান্তুমাই।এসব পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই ঝর্ণার যাতায়াতেরএকমাত্র সড়ক সালুটিকর -গোয়াইনঘাট সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে সড়কটি। বিগত বছরের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বন্যায়ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, সিলেট- ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে সালুটিকর বাজার পার হলেই ভোগান্তির শুরু। সালুটিকর বাজার থেকে গোয়াইনঘাট পর্যন্ত ২৪কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা। মাঝে মধ্যেই দুই-তিন ফুট গর্ত। বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। সালুটিকর বাজার পার হলেই সড়কের ভয়াবহতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবছর আবার আসছে বর্ষা মৌসুমে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর এবং জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কায় আছেন এলাকাবাসী।
গোয়াইনঘাট উপজেলায় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উক্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের জন্য বহুবার প্রতিবেদন করেছেন। পাশাপাশি উক্ত রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও উপজেলা পরিষদের সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৫/৬ ট্রাক ভাঙা ইট দিয়ে সড়কের কয়েকটি গর্ত ভরাট করে তাদের কাজ সম্পন্ন করেন। উক্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য কত টাকা বাজেট ছিল বিষয়টি জানাতে অনিহা প্রকাশ করেছেন এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। উপজেলা সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সংস্কারের বাজেট বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণকারী এক জনপ্রতিনিধি।
সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সংস্কারকাজ করছেন সিলেটে জেলা এলজিইডি অফিস। বাজেটের বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা।গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, সালুটিকর – গোয়াইনঘাট সড়কের সংস্কার কাজ প্রয়োজন। তাই উক্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ