গোলাপগঞ্জে মন্দিরের সেবায়েত গোবিন্দ দাস ষড়যন্ত্রের শিকার

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

গোলাপগঞ্জে মন্দিরের সেবায়েত গোবিন্দ দাস ষড়যন্ত্রের শিকার

সিলেট প্রেসক্লাবে ভক্তবৃন্দের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গোলাপগঞ্জের শ্রী শ্রী গিরিধারী জিও মন্দিরের সেবায়েত প্রাণ গোবিন্দ দাসের বিরুদ্ধে আনিত অনৈতিক অভিযোগ পুরোটাই সাজানো এবং পূর্ব পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন মন্দিরের ভক্তবৃন্দ। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মন্দিরের সেবায়েতকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলায় স্থানীয় স্বর্গীয় চতুল চন্দ্র দেবের ছেলে দিপংকর দেবকে পরিকল্পিতভাবে আসামি করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। এ সময় ভক্তবৃন্দের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিংকন দেব।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিবাদীনির পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন থেকে মন্দির দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের নির্মাণ কাজে তারা বাধা প্রদান করেছে। এমনকি তারা সেবায়েতের উপর হামলা করেছে। ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট মন্দিরের নির্মাণ কাজ চলাকালে ওই পরিবারের লোক ঋষিময় দেব ও তাদের পরিবারের অন্যান্যরা এসে বাধা প্রদান করে এবং দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে নারী নির্যাতন মামলা ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় তারা। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর পুনরায় মন্দিরে ঢুকে তারা চাঁদা দাবি করে এবং সেবায়েতের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় মন্দিরের সেবায়েত গোবিন্দ দাস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে প্রথমে পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এই পরিবার মন্দির বিরোধী এবং মন্দিরের নানাকাজে প্রায়ই উৎপাত করে আসছে। বিষয়টি এলাকার সকলেই অবগ আছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে ও সখ্যতায় এ ধরণের একটি ঘটনার সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আগে ওই মহল মন্দিরের ভূমি দখল করতে ভূমিদাতা দিপংকর দেব তপনকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয়। দায়েরকৃত মামলায় এজাহার ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সাথে তথ্যের কোনো মিল নেই। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বের হলে বিবাদীরা তাকে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বাদীর সুরচিৎকারে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। অপরদিকে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, বাদী ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য সন্ধ্যা ৭টায় মন্দিরের সেবায়েতের কাছে যান। এ সময় সেবায়েত ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ থেকেই বুঝা যায় পুরো ঘটনাই সাজানো ও পরিকল্পিত। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় প্রকৃত ঘটনা আড়ালে রেখে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান মন্দিরের ভক্তবৃন্দ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিত দাস, বিধান দেব, সত্যরঞ্জন বিশ্বাষ, নিরেশ বিশ্বাস, উজ্জ্বল দেব, টিপু দেব, সাধন দেব প্রমুখ।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ