গোয়াইনঘাটে বোরো উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার চাইতে বেশি

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১

গোয়াইনঘাটে বোরো উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার চাইতে বেশি

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকেরা কৃষি আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন।দীর্ঘদিন ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এবার কৃষক আমনের দাম ভালোই পেয়েছে। সে কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকরা উৎসাহ উদ্দীপনায় বোরো আবাদ শুরু করেছে। জমি প্রস্তুত করতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
জমিতে পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ উঠানো, ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কৃষকরা।
এ দিকে সকালের শীত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউ বা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন।
কেউ জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার বিতরণ কাজে ব্যস্ত। কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউ বা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন জমিতে।
কৃষকেরা জানান প্রথম দিকের চারায় পোকার আক্রমণে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন উপজেলার কৃষকেরা, তবে উপজেলা কৃষি অফিসার ও মাঠ কর্মীদের সুপরামর্শ আর সুষ্ঠ তদারকিতে চারার ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য বছর ঠান্ডা জনিত কারনে পচন লেগে বীজ চারা নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো চারাও বেশ ভালো হয়েছে।
আমন মৌসুমে ৬ বারের বন্যার আক্রমণের কারণে ধানের উৎপাদন খানিকটা কম হয়েছে। তবে ভালো দাম পাওয়ায় বড় লোকসানে পড়তে হয়নি উপজেলার চাষিদের। আমন মৌসুমের মতো ধানের দাম থাকলে, কৃষকদের ভালো লাভ হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার কয়েকজন কৃষক বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদের। এবার আমন চাষে করে আমরা লাভবান হয়েছি। সেই আশায় পুরোদমে আবার বোরো আবাদ শুরু করে দিয়েছি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আট হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নয় হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ শেষ হয়েছে। এখনও ধান রোপণ কার্যক্রম চলছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার অধিক ধান চাষাবাদ হবে বলে আশাবাদ কৃষি অফিসের।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুলতান আলী বলেন,বিগত বছরের তুলনায় এই বছর কৃষির আবাদ একটু বেশি।সরকারের সকল সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে বরো আবাদ করছে।
চলমান বরো ফসলের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছি। কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন এজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। আশা করি বিগত মৌসুমের মতো এবারও বরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।
তিনি আরো বলেন সরকার কৃষিতে ভুর্তকী দিয়ে যাচ্ছে আর এর সুফল পাচ্ছে শতভাগ কৃষক।
সার বীজ সহ কৃষির নানা উপকরণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ