গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ এবং যা বললেন

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ এবং যা বললেন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

১৭ এপ্রিল শনিবার (২০২১) উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ করলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ। এই উপলক্ষে উপজেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। সেই সাথে নিজ দায়িত্ব পালনে উপজেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা,কর্মচারীসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। দায়িত্ব পালনের দুই বছর উপলক্ষে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ঃ০১ টায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি প্রথমেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা পোষণ করেন। সেখানে তিনি আরো বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ০২ (দুই) বছর পূর্ণ হলো। এই ০২ (দুই) বছরে আপনাদের সেবা কতটুকু করতে পেরেছি এ বিচারের ভার আপনাদের উপর ন্যস্ত। ফেইসবুকের এই লেখাটির ১ টি কপি প্রতিবেদকের কাছে প্রেরন করেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রতিনিধি থেকে প্রাপ্ত লেখাটি হুবুহ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আচ্ছালামুআলাইকুম/ আদাব
সুপ্রিয় গোয়াইনঘাট বাসী , উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ০২ (দুই) বছর পূর্ণ হলো। এই ০২ (দুই) বছরে আপনাদের সেবা কতটুকু করতে পেরেছি এ বিচারের ভার আপনাদের উপর ন্যস্ত।
এ দুই বছরে যে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আপনাদের একান্ত সহযোগীতা ও মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের সঠিক দিক নির্দেশনা ও সদিচ্ছায়, এজন্য মাননীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে, যার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। ধন্যবাদ জানাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ও সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের যাদের সহযোগীতায় আমার এ পথ চলা।
ধন্যবাদ জানাই উপজেলা পরিষদের সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়কে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সকল সম্মানিত চেয়ারম্যান বৃন্দকে তাদের আন্তরিক সহযোগীতার জন্য।
ধন্যবাদ জানাই, বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনকে যারা তাদের ঘাম ঝরা অর্থ দিয়ে গোয়াইনঘাটের অসহায় ও আর্তপীড়িত মানুষদের সেবা দিয়ে যাওয়ার জন্য।
বিগত ০২ (দুই) বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম আপনাদের সদয় অবগতির জন্য তুলে ধরছি। বিগত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) এর আওতায় প্রায় ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) এর আওতায় প্রায় ২ কোটি ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রকল্প সমূহে কাজ চলমান। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) এর আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকার প্রকল্প বিভিন্ন ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে প্রায় ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এর আওতায় (টি আর, কাবিখা/কাবিটা ও সোলার নন সোলারসহ মোট ৪৪,৬৯,৬২৩ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে টি আর ও কাবিটা প্রায় ৯৭ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এর আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক ১০ লক্ষ টাকার প্রশিক্ষণ সমাপ্তি হয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ১০ লক্ষ টাকার ডিজিটাল পাঠদানের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং আরো ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বেকার প্রশিক্ষিত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও সুপেয় পানির জন্য জনসাধারণের মধ্যে নলকূপ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সুপেয় পানির জন্য নলকুপের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়াসহ ১২ জন রোগীদের উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা করে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে 8 লক্ষ প্রদান ও আরো কিছু আবেদন জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে আশা করি অনুমোদন আসলেই যথাযথভাবে প্রদান করা হবে ।
এ সময়ের মধ্যে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি জনগণের সেবা দেয়ার , শারীরকি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে বছরে মাত্র এক মাসের জন্য আমেরিকা যাই। আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল বছরে একবার চিকিৎসা/পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার জন্য দেশের বাহিরে যাবো এবং কথা দিয়ে ছিলাম, আমি উপজেলা সদরে থেকে সাধ্যমত আপনাদের সেবা নিশ্চত করব, আমি আপনাদের সাথে করা ওয়াদা অনুযায়ী উপজেলা কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থান করে সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং বছরে একবার দেশের বাইরে যাচ্ছি।

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যাতে গোয়াইনঘাটে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায় এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরেও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং বিশেষ করে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে (ইউজিডিপি) জাইকা‘র অর্থায়নে ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের মধ্যে ০২টি কলেজ ও বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিজিটাল পাঠদানের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে একটি কলেজ ও ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ শীঘ্রই শুরু হবে।
আমরা চাই সরকারের এসডিজি অনুসারে দৃশ্যমান এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা তারই ধারাবাহিকতায় বিগত অর্থ বছরে ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উপজেলার গোয়াইন বাজারে দৃশ্যমান সবজি শেড ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বাইপাসে ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।
আপনারা শুনে নিশ্চই খুশি হবেন অত্র উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যানের কোনো বাসভবন না থাকায় ইতোমধ্যে মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জননেতা জনাব ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে যা খুব শিঘ্রই দৃশ্যমান হবে।
সারা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে ইতোমধ্যে অসংখ্য লোক প্রাণ হারিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার তুলনামূলক অনেক কম যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। আপনারা জানেন, উপর্যুপরি বন্যা এবং করোনাকালীন সময়ে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে যা অতীতে কখনো কোনো সরকার এরকম মানবিক সহায়তা প্রদান করেনি। সরকারের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করি।
মুজিবর্ষের উপহার হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গৃহহীন কেউ থাকবেনা এরই আলোকে সমগ্র দেশের ন্যায় অত্র উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩০০ টি অসহায় পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে, ২৪০ টি ঘর চলমান রয়েছে, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ০১ টি ঘর এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ০১ টি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
গত অর্থ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় “জমি আছে ঘর নেই” প্রকল্পের মাধ্যমে অত্র উপজেলায় ৩১৫ টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়ে গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার প্রত্যয়ে ইতোমধ্যে অত্র উপজেলা শতভাগ বিদুত্যায়িত হয়ে মানুষ সুফল ভোগ করছে।
আমি দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি যা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন Paid peer Volunteer নিয়োগ। এ নিয়োগে শিক্ষিত বেকার ৮১ জন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে যা বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।
উল্লেখ্য যে, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং ইউজিডিপির (জাইকা) এ্যাসেসমেন্টে সিলেট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করে ১ম স্থান লাভ করেছে এবং পরিবার পরিকল্পনায় এ সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সদন পত্র এবং সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করা হয় যা গোয়াইনঘাটবাসীর জন্য এ সম্মাননা উৎসর্গ করা হলো।
আমি আশা করি আগামী তিন বছরের মধ্যে মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এমপি মহোদয়ের সহযোগিতায় গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করি। বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে বেঁচে থাকার জন্য জনসচেতনতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গোয়াইনঘাটবাসীকে আহবান জানাই এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন এ মহাবিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে আজকের মত শেষ করছি।

“জয় বাংলা”

(মোহাম্মদ ফারুক আহমদ)
চেয়ারম্যান
উপজেলা পরিষদ
গোয়াইনঘাট, সিলেট।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ