গোয়াইনঘাট পর্যটন কেন্দ্রে ঢাকঢোল বাজিয়ে গাড়ি সাজিয়ে যাচ্ছে পর্যটকরা ফিরছে হতাশ হয়ে।

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

গোয়াইনঘাট পর্যটন কেন্দ্রে ঢাকঢোল বাজিয়ে গাড়ি সাজিয়ে যাচ্ছে পর্যটকরা ফিরছে হতাশ হয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক গোয়াইনঘাটঃঃ
লকডাউনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তাদের অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে পর্যটনে ছুটে এসেছেন। তবে টুরিস্ট পুলিশ বলছে, কড়াকড়ি না করে পর্যটনে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা ভাড়া করা যানবাহন নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন। পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কোনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।

জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ গেইট থেকে আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে ঈদের দিন চোখে পড়ে পর্যটক মুখর পরিবেশেে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। লকডাউনের কারণে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না কেউ।

জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ গেইট পয়েন্টে রয়েছে বিট কর্মী ও টুরিস্ট পুলিশের কড়া পাহারা। অনেক দর্শনার্থী এই পাহারা অমান্য করে ভিতরে ঢুকার চেষ্টা করছেন। আর যেসব পয়েন্টে নজরদারি নেই সেসব পয়েন্টে অবাধে যাতায়াত করছেন। তার ওপর মাস্ক ব্যবহার কিংবা সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই।
শনিবার বিকেলে সরেজমিন দেখা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজিয়ে কেউ কেউ গাড়ী সাজিয়ে নানা বয়সী পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন। ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। কেউ এসেছেন পরিবার–পরিজন নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে। বাদ যায়নি পরিবারের শিশু সদস্যও। কোলের শিশুদেরও সঙ্গে করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে চা-বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে অনেককে। ভিড় বাড়লেও চা-বাগানে ঘুরতে আসা অধিকাংশ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। অধিকাংশের মুখে ছিল না মাস্ক।

এক পর্যটক বলেন, ‘ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য পষর্টনে বেড়াতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেড়াচ্ছি।’

আরেক পর্যটক বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও কান্না করতেছে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে আসলাম।’

দর্শনার্থীদের জিরো পয়েন্টে নামতে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানালেন টুরিস্ট পুলিশ জাফলং সাব-জোনের ওসি রতন শেখ।

এদিকে টুরিস্ট পুলিশ জাফলং সাব-জোনের ওসি রতন শেখ জানালেন মোঃ আলতাফ হোসেন পিপিএম, পুলিশ সুপার ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেটে রিজিয়নের নির্দেশনা মোতাবেক, পর্যটন কেন্দ্রের ভিতর কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে প্রকৃতি কন্যা জাফলং এ হাজার হাজার পর্যটকের ডল।
করোনা মহামারী ঠেকাতে জাফলংয়ের প্রবেশদ্বারে বাংলাদেশ পুলিশের একাদিক চেকপোস্ট।
চেকপোস্টের মাধ্যমে আগত পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে ফিরিয়ে দিচ্ছে বিছানাকান্দি ও জাফলং টুরিস্ট পুলিশ সাব-জোনের ওসি রতন শেখ ও বিছানাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রের ওসি মইন উদ্দিন।
১৬ মে তাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ঈদের দিন বিকাল থেকে শুরু করে কাল পর্যন্ত আমরা পর্যটকদের নিরুৎসাহী করে যাচ্ছিলাম আজ আমরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কঠোর অবস্থানে থেকে পর্যটকদের পর্যটন কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছি।
গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ বলেন, স্থানীয়রা পর্যটন কেন্দ্রের আসছে না, বহিরাগত পর্যটকরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন তিনি বলেন গোয়াইনঘাট থানা ও প্রশাসন পর্যটকদের নিরুৎসাহী করতে কাজ করছে। প্রতি বিট পুলিশ কর্মকর্তা প্রতি পয়েন্টে অবস্থান করে পর্যটকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসমাগম এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ওই নির্দেশনার কারণে গত কয়েক মাস থেকে পুরোপুরি পর্যটকশূন্য ছিল জাফলং ও বিছনাকান্দি এলাকা। এবারের ঈদেও আমরা পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ