চাই অন্তরের বিশুদ্ধতা

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

চাই অন্তরের বিশুদ্ধতা

মুফতি জাওয়াদ তাহের :; আমরা যখন অসুস্থ হয়ে যাই তখন রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই। অনেক সময় নিজে অলসতা করলে অন্যরা জোর করে নিয়ে যায়। এর কারণ কি?

নিজেকে সুস্থ রাখা, সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করা। তাই যত টাকা হোক প্রথমেই চিকিৎসা করাই। শরীরের রোগ সবাই দেখে, তাই এ পদ্ধতি অবলম্বন করে।

আমাদের অন্তরও মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে যায়, তারও রোগ ব্যাধি হয়। তাই তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন। বরং শরীরের অসুস্থতা থেকে অন্তরের ব্যাধি আরো ভয়ংকর। যা একজন মানুষের জীবনকে তীলে তীলে শেষ করে দেয়।

শরীরের অসুস্থতা হচ্ছে, জর,সর্দি,কাশি ইত্যাদি। আর অন্তরের ব্যধি হচ্ছে কুফর,শিরক,হিংসা,অহংকার, দুনিয়ার মুহব্বত ইত্যাদি।

মানুষের অন্তর যখন ঠিক হয়ে যায় তখন তার পুরো দেহ ঠিক হয়ে যায়। কারণ অন্তর হচ্ছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রাণী, সে যেভাবে চাবে সেভাবেই হবে। আর যদি এর ব্যতিক্রম হয় তার অন্তর নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এই অসুস্থতা ধীরে ধীরে তার শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে যায়।

গোটা দেহ তার অকেজো হয়ে যায়। তখন সে ভালো জিনিস উপলব্ধি করার বোধ শক্তি হাড়িয়ে ফেলে। কোরআন ও হাদীসের বাণী শোনালে তার মাঝে কোন পরিবর্তন ঘটেনা। দিগভ্রান্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছুটে বেড়ায়। তখনই কিছু মানুষ প্রশান্তি খুঁজে বেড়ায় নেশার মাঝে।

এর মাধ্যমে ভুলে থাকতে চায় সব ব্যাথা-বেদনার রথী-মহারথী। আর এভাবে সুস্থ জীবনটাকে নিজ হাতে টেনে নিয়ে যায় মরণ-পথে। প্রশান্তির পরিবর্তে ঘরে ফিরে আনে অশান্তি।

এটাকে এক হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মু’মিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে।

এরপর সে ব্যক্তি তওবাহ্ করল ও ক্ষমা চাইল, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে গেল (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে।

এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কোরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেন, ‘এটা কক্ষনো নয়, বরং তাদের অন্তরের ওপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে’ (সুরা আল মুতাফফিফীন ৮৩ : ১৪)। (আহমদ, তিরমিযী)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, তাদের অন্তরে আছে ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাবাদী। (বাকারা:১০)

অন্যত্র বলেন, তাদের কলব আছে, কিন্তু তারা বোঝে না।’ (সুরা: আরাফ : ১৭৯)।

রাসুল সা. এরশাদ করেন: নিশ্চয় মানবদেহে এমন একটি গোশতের টুকরা আছে যেটা পরিশুদ্ধ হলে পুরো শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর যখন তা ময়লা হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীর দূষিত হয়ে যায়। জেনে রাখ! সেটা হচ্ছে কলব তথা আত্মা। (বুখারি ও মুসলিম)

এই ব্যাধি হচ্ছে অন্তরের ব্যাধি যার ঔষধ আল্লাহ তায়ালা কোরআন ও হাদীসে রেখেছেন। সুরা ইসরার ৮২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি কোরআন হতে (ক্রমশঃ) অবতীর্ণ করি যা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।

মহান আল্লাহ তায়ালা কলবকে নির্মল করে সৃষ্টি করেছেন। আর সেই কলবকে সব রকম মলিনতা ও কলুষমুক্ত রাখতে আদেশ করছেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে: যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্তুতি কোনো কাজে আসবে না, সেদিন উপকৃত হবে কেবলমাত্র সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ কলব নিয়ে। (সুরা শুয়ারা ৮৮-৮৯)

যুগে যুগে রাসুল ও নবীগন এসে এই ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করেছেন। অশান্ত হৃদয়কে প্রশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে নবী রাসুল নেই। তাদের ওয়ারিশ আছে তাদের কাছে নিজেকে সোপর্দ করে অন্তর কলুষমুক্ত করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক। (সুরা তাওবাহ:১১৯)

অন্যত্র বলেন: হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (সুরা আহযাব:৭০-৭১)

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আমরা খুব কম মানুষই নিজের অন্তর বিশুদ্ধ করার চিন্তা করি। আল্লাহ তুমি আমাদের ক্বলবকে বিশুদ্ধ করে দাও। আমীন

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক জামিয়া বাবুস সালাম,বিমানবন্দর ঢাকা-১২৩০
সুত্র : যুগান্তর

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
      1
3031     
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ