চিকিৎসা দিতে অনীহায় রোগীর মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

চিকিৎসা দিতে অনীহায় রোগীর মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক :; চিকিৎসা দিতে অনীহায় রোগীর মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ: হাইকোর্টসরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখালে এবং এতে রোগীর মৃত্যু হলে তা ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক রিকুইজিশান করার পক্ষে মত দিয়েছেন আদালত।

বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রিকুইজিশন এবং ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ স্থাপন, ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু এবং রাজধানী ঢাকায় দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে করা তিনটি রিটের শুনানির পর কিছু নির্দেশনা ও অভিমত দিয়ে সোমবার এ আদেশ দেয় আদালত।

আদালতে রিটগুলোর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান, আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল ও মেহেদী হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আইসিইউতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক যেন মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় করতে না পারে সেজন্য নজরদারির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে আদেশ।

এছাড়াও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রিতে ‘মনিটরিং’ জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা ও রি-ফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়ে আদেশে আদালত বলেছে, সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান/দোকানে প্রদর্শন করতে হবে।

কৃত্রিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর পরিচয়পত্র ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রি বন্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে বলে অভিমত দিয়েছে আদালত।

গত ১১ মে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে সাধারণ (নন-কোভিড) রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করে।

এছাড়াও ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যা বিশিষ্ট সরকারি, বেসরকারি হাসপতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য পরে গত ২৪ মে আরেকটি নির্দেশনা জারি করে।

এ তিনটি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আদালত আদেশে বলেছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তা জানিয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসব নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলেছে আদালত।

এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে সোমবার নাগাদ কত জন কোভিড-১৯ রোগী এবং সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে সে প্রতিবেদনও ৩০ জুনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

আদালত আদেশে বলেছে, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক ও বিস্তৃত করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে এ সেবা দ্রুত ও সহজে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে কতজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিইউ শয্যা কী অবস্থায় আছে, তার সর্বশেষ অবস্থা প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য ‘আইসিইউ হটলাইন’ নামে আলাদা একটি হটলাইন চালু করতে হবে। হটলাইন নম্বর প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কি না, সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পর পর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৫ দিন পর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আদালতে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আদেশে অভিমত দিয়ে বলেছে, “দেশে বিদ্যমান সামগ্রিক পরিস্থিতি অর্থাৎ বর্তমানে দেশে বিরাজমান করোনা পরিস্থিতি একটি দুর্যোগ বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ধারা-১৪ অনুসারে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অরডিনেশন গ্রুপ’ এর কার্যক্রমকে সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।”

আদালত মনে করে ওই কমিটি কার্যকর হলে কমিটির সুপারিশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক রিকুইজিশান করা যেতে পারে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ