ছাতকে কৃষকের মাথায় হাত!ফাঁটা হাওরে হুমকির মুখে ৩শ’ একর বোর জমি

প্রকাশিত: ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

ছাতকে কৃষকের মাথায় হাত!ফাঁটা হাওরে হুমকির মুখে ৩শ’ একর বোর জমি

 

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: ছাতকে ফাঁটা হাওরের ৩শ’ একর বোর জমিকে চাষাবাদে উপযোগি করা প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাতগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামবাসী। মঙ্গলবার আবদুল কাইয়ুম, মাহবুব হোসেন, হোসেন আহমদ আবুল, জাহের আলম, ছাবুল মিয়া, সবুর আলমসহ গ্রামবাসীর পক্ষে ৯২জন কৃষকের স্বাক্ষরিত পৃথক এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফাঁটার হাওর ছাতল বিলে শ্রীপতিপুর গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩শ’ একর বোর জমি রয়েছে। হায়দরপুর মৎস্য সমিতির সভাপতি বিপিন বিশ্বাস ও সাধারন সম্পাদক রবি বিশ্বাসসহ লোকজন কর্তৃক তাদের স্বার্থ হাসিল করতে ফাঁটার হাওর ছাতল বিলের জলাশয়ের সম্পূর্ণ পানি নিস্কাশন করে বিল শুকিয়ে বোর জমিতে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। ফাল্গুন মাসের পনেরো তারিখে পানি ছাড়ার নিয়ম অমান্য করে প্রায় ৭ বছর ধরে দেড়-দু’মাস অগেই বিল শুকিয়ে মাছ আহরণ করে আসছে এ হায়দরপুর মৎস্য সমিতি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি নিস্কাশন করে ফেলায় হাওরে ৩শ’ একর বোর জমি অনাবাদে হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে শ্রীপতিপুর গ্রামে অসহায় কৃষকরা এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। আবদুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও হোসেন আহমদ আবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, মুরব্বি এখলাছুর রহমান, দুলাল আহমদ, মাহবুব হোসেন, আবদুল হক, সাজিদুর রহমান, তাহির হোসেন, আখদ্দুছ আলী, সুনু মিয়া, দুদু মিয়া, ছবুর আলম, তামজীদ রেজা, নজির আহমদ, আবদুল আউয়াল, সিরাজুল ইসলাম, নানু মিয়া, আফরোজ আলী প্রমূখ। এসময় বক্তারা বলেন, বোর জমিতে চাষাবাদ করে রোপনের উপযোগি করা হয়েছিল কিন্তু পানি নিস্কাশনের কারণে চাষাবাদকৃত জমি এখন মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে। আর্থিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে গ্রামের অসহায় কৃষকরা। হায়দরপুর খারাইয়া বিলের পানি ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে দেয়া হচ্ছে না। এ জন্য পানির অভাবে আবার জমিতে চাষাবাদে রিতিমতো ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।বড় ধরণের ক্ষতির সঙ্কায় আছেন গ্রামের কয়েক শ’ কৃষক পরিবার। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম হাওরের পানি নিস্কাশন করে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওরা (মৎস্য সমিতি) ১০টাকার মাছের জন্য কোটি টাকার ফসলী জমি বিনষ্ট করছে। চাষাবাদ করা না হলে বোর ফসল নির্ভরশীল এসব হাওর পারের কৃষকরা অনাহারে অর্ধহারে সিমাহীন দূর্ভোগে পড়তে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন মাস্টারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টির উপর নজর দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত কোন কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন হাওর পারের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি পরিবারসহ শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ