ছাতকে পৈত্রিক বাড়ি সংস্কারে বাঁধা, সৎ ভাইয়ের চাঁদা দাবিতে হামলা ও মামলা (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২১

ছাতকে পৈত্রিক বাড়ি সংস্কারে বাঁধা, সৎ ভাইয়ের চাঁদা দাবিতে হামলা ও মামলা (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার কালারুকা ইউনিয়নে সংকুরপুর গ্রামে নিজ পৈত্রিক বাড়িতে সংস্কার কাজে বাঁধা দিয়ে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়।  গত শনিবার (১২জুন) সংকরপুর গ্রামের সামছুন্নুর এর ছেলে মো: মুন্না মিয়ার বাড়িতে সৎ ভাইয়েরা এই ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় মো: মুন্না মিয়া ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে ছাতক জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-।

আসামীরা হলেন, কালারুকা ইউনিয়নের সংকরপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আজিজুর রহমানের ছেলে ১/জহিরুল ইসলাম (৫৮) ২/ সামিউল ইসলাম (৫২) ৩/ আনোয়ারুল ইসলাম (৬২)।

ফরিয়াদী মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামীরা ফরিয়াদী মুন্না মিয়ার সম্পর্কে সৎ ভাই। ফরিয়াদী দাদা ছিলেন মহামান্য হাইকোর্টের একজন বিচারপতি। তিনি মারা যাবার পর পারিবারিক আপোষ বন্টনে বাদীর পক্ষে মূল বাড়ীর ভাগ পড়ে। সম্পত্তি বন্টনের পর থেকে ফরিয়াদী পিতা সেই জায়গা ভোগ দখল করেন এবং বিভিন্ন ঘর সংস্কারের কাজ করেন। পিতা অসুস্থ হওয়ার কারণে চিকিৎসার সুবিধার্থে সিলেটে বসবাস করেন ফরিয়াদী মুন্না মিয়া। মাঝে মধ্যে সম্পত্তি দেখাশুনার জন্য বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে ফরিয়াদী বাড়িতে সংস্কার কাজ করতে গেলে আসামীরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে ফরিয়াদীর সংস্কারে বাঁধা প্রদান করেন। ফরিয়াদী  এসব কারণ জানতে চাইলে আসামীরা নগদ পাঁচ লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করে। ঘটনার দিন মামলার প্রধান আসামী জহিরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে আসমীরা রামদা, ছুরি, ডেগার, লোহার রড নিয়ে জনমনে ভয় সৃষ্ঠি করে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। প্রধান আসামী জহিরুল ইসলাম ফরিয়াদীর বুকে ছুরি ধরেন, আসামী সামিউল ইসলাম হাতের রামদাটি মাথায় ধরেন প্রাণে মারার হুমকি দেন। এ সময় আসামীরা বলতে থাকেন পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে এই জায়গায় কোন ধরণের নির্মাণ ও সংস্কার করা যাবে না। ভয়ে প্রাণ রক্ষার্থে বাদী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজনরা আসামীদের কবল থেকে মুন্না মিয়াকে (ফরিয়াদী) উদ্ধার করেন। আশ-পাশ থেকে লোকজন আসা দেখে ঘটনাস্থল থেকে আসামীরা পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামীরা উচ্চ কন্ঠে বলে কোন মামলা মোকদ্দমা করা কাউকে প্রাণে বাচতে দিবে না।

এ বিষয়ে ফরিয়াদী মুন্না মিয়া জানান, আমার ঘটনার বিষয়টি এলাকার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের অবগত করলে তারা কোন সুরাহা দিতে পারেনি। আমি ব্যর্থ হয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার্থে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে আমি আদালতে ফরিয়াদী নালিশ মামলা দায়ের করি।

এ বিষয়ে সামিউল ইসলাম শামীম জানান, আমি ৩০ বছর আমেরিকায় বসবাস শেষে দেশে এসে সিলেটস্থ তালতলায় বসবাস করছি। কালারুকায় আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। এই ভূমির মালিক আমি মুন্না গংরা আমাদের ভূমি জোর পূর্বক আত্মসাত করতে চাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।  চাঁদা দাবির প্রশ্নেই উঠে না, মুন্নার অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক।

 

 

 

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ