ছাতক সিমেন্ট কোম্পানিতে হরিলুট

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

ছাতক সিমেন্ট কোম্পানিতে হরিলুট

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট কোম্পানিতে চলছে এখন হরিলুট। অবস্থা অনেকটা দেখার কেউ নেই এর মতো।

ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি আধুনিকায়নে ব্যালেন্সিং মডার্নাজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন (বিএমআরই) প্রকল্পের ৮৯২ কোটি টাকার কাজ একদিকে শুরু হয়েছে অন্যদিকে পুরাতন কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে বিনাকর্মে বেতন-ভাতাসহঅভারটাইম নিচ্ছেনকর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সিমেন্ট কোম্পানিতে উৎপাদন চালু রেখে নতুন প্রকল্পের কাজ করার কথা থাকলেও পুরাতন কোম্পানিটি বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসায় নতুন- নতুন খাত তৈরি করে পুরাতন কোম্পানিটি লুটে-পুটে খাচ্ছে একশ্রেণীর কর্মকর্তা -কর্মচারী ও সিবিএ নেতারা।

আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ পেয়ে চীনের নানজিং সি-হোপ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৮৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্পের কাজে হাত দেয়। কাজ শুরুর পর থেকেই পুরাতন কোম্পানিটি যেমন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড ব্রান্ডের সিমেন্ট কোম্পানিটি চালু রেখেই নতুন প্রকল্প নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও চুনাপাথর সংকটের কারণ দেখিয়ে কোম্পানিটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ওই কারখানাটিকেই পুজি করে একটি মহল প্রকল্পের টাকা লুটপাটে মেতে উঠেছে। কারখানার বিভিন্ন অংশ কেটে ও ভেঙ্গে দেয়ার অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রাংশ ও স্ক্রাপ মাল চোরাই পথে বিক্রি করা হচ্ছে। কোম্পানির ভূমি, জলাশয়,বাসা ভাড়া, ঘাট ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

কোম্পানি বাসাভাড়া নিয়ে কোম্পানিতে বসবাস করছেন বহিরাগত অর্ধ শতাধিক লোক। ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এডভান্স দিয়ে এসব বাসা ভাড়া দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছে। চাকরীজীবিরা ও তাদের নিজ নামে বাসা বরাদ্দ নিয়ে ওসব বাসা উচ্চ মুল্যে বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। তদন্ত হলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

তথ্য নিয়ে জানা যায়, মসজিদ বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় এফ ৫, এফ ৫, ৪র্থ তলার এফ ৫, এফ ৫, এফ ৬, এফ ৬ বাসায় বহিরাগতরা ভাড়ায় থাকেন। ৪র্থ তলার এফ ৫, বাসা ভাড়া দিতে ৫০ হাজার টাকা এডভান্স নিয়ে ইতিমধ্যে জনৈক এক বহিরাগত লোকের সাথে চুক্তি করেছেন সিকিউরিটি রুয়েল। পুরান বিল্ডিং, পাশের আরো একটি বিল্ডিং সহ নদীরপাড় এলাকার বিভিন্ন বিল্ডিং ভাড়া দেয়া হয়েছে বহিরাগতদের কাছে। সিমেন্ট কোম্পানি যেন এক মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। কোম্পানির ভূমিতে ইট, বালু, পাথরের ডাম্পিং করছে ব্যবসায়ীরা। নামমাত্র কিছু কংক্রিট বা স্ক্যাপ মালের টেন্ডার দেখিয়ে কোম্পানির লক্ষ -লক্ষ টাকা মূল্যের মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কংক্রিটের টেন্ডার হয়েছে শুনেছি, তবে মাসব্যাপী কোম্পানি থেকে বের করে মুল্যবান লোহা-তামাসহ মালামাল ওই টেন্ডারের উছিলায় বিক্রি কয়া হয়েছে।

কোম্পানির সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, যারা কোম্পানি সাইডে ইট বালু ড্রম্পিং করেছে তাদের দ্রুত সরিয়ে দেয়া হবে।

মালামাল বিক্রির ব্যাপারে তিনি জানান, টেন্ডার গ্রহিতারা তাদের মালামাল নিয়েছে। এতে কোন অনিয়ম হয়নি। মালামাল নিতে তাদের সময় একটু বেশি লেগেছে।

এ ব্যাপারে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল বিশ্বাসের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হয়েছে।

তিনি মোবাইল রিসিভ করে ব্যস্ত আছেন বলে কেটে দেন।

সিলনিউজবিডি ডট কম / এস:এম:শিবা

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
27282930   
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ