ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ টর্চার সেল, কান্নায় নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন শিক্ষার্থীরা-(পর্ব-২)

প্রকাশিত: 11:29 PM, November 7, 2019

ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ টর্চার সেল, কান্নায় নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন শিক্ষার্থীরা-(পর্ব-২)

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রশাসন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট। টর্চার সেল ও ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ইন্সটিটিউটের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে সুরমা হোস্টেলে বসবাসকারী ছাত্রলীগ নেতারা। তারা হলেন সৈকত চন্দ্র রিমি, তাওহীদ হাসান, আরিফ, নয়ন, সম্রাট, বাঁধন, রুবেল ও বক্করসহ সুরমা হোস্টেলে বসবাসকারীরা। অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ম্যানেজ করে চলছে এই বেপরোয়া বাণিজ্য। ইন্সটিটিউটের সকল কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গুণতে হচ্ছে নগদ টাকা।

গত ৫ নভেম্বর সিলেটের দিনকালে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিগত দিন নির্যাতনের শিকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা আসেন সিলেটের দিনকাল কার্যালয়ে। এসময় নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহর কাছে নালিশ দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না নির্যাতিত শিক্ষার্থীগণ। ইন্সটিটিউটের টর্চার সেল রয়েছে ২টিÑএকটি প্রকাশ্যে ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় গেইটের সামনে, আরেকটি সুরমা হোস্টেলের ১০৫ নাম্বার রুমে।
স্টাইপেন, ট্রান্সফার, রেগুলার, এডমিট কার্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে তারা। এ টাকা গিয়ে ঢুকছে ওই ছাত্রলীগ নেতাদের পকেটে। টাকা দিতে অগারগতা প্রকাশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনে নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।

সিলেটের দিনকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা সৈকত চন্দ্র রিমি ও তাওহীদ হাসান। তার নির্দেশেই এসব অপকর্ম প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই ভেবেই সিলেটের দিনকাল পত্রিকার স্মরণাপন্ন হয়েছেন। তাদের অভিযোগগুলো যেন দেখার কেউ নেই?

জানা গেছে, প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীকেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে প্রায় ৪,৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ওইসব শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রণী ব্যাংক, বাবনা শাখা থেকে টাকা তুলতে হয়। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তারিখে টাকা প্রদান করে অগ্রণী ব্যাংক। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকে টাকা আনতে গেলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে বসে থাকে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগের ওই নেতারা। শিক্ষার্থীরা যখন টাকা তুলে আসতে চায় তাদেরকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে তদের কাছ থেকে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট।

নির্যাতনের শিকার সিভিল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শফিকুর রহমান জানান, পুরো প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই সিন্ডিকেট সিলেট পলিটেকনিকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমাকেও বহুবার তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। চাঁদা দিতে অপারগতায় আমাকে চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করেছে এই সিন্ডিকেট সদস্যরা।

সিভিল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রকিবুল হাসান জানান, কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ ক্লাসরুম থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালায় ছাত্রলীগ নেতা কামরুল, আরিফ ও বিদ্যুৎ। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাহিদুল। জাহিদুল বলেন, ক্লাসরুমে কোনো কারণে যদি ইন্সটিটিউটের নির্ধারিত ড্রেস পরিধান না করি তাহলেও ছাত্রলীগের নির্যাতনে শিকার হতে হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কম্পিউটার বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান তুহিন বলেন, হঠাৎ আমার সহপাঠীরা সুরমা হোস্টেলে বসবাসকারী ছাত্রলীগের বড় ভাইদের কথা বলে আমাকে নিয়ে যায় ইন্সটিটিউটের টর্চার সেল খ্যাত ‘দেবা উদ্যানে’। সেখানে যাওয়ার পর কোনো কিছু না বলে লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দেয় আমাকে। তারপর হকিস্টিক, জিআই পাইপ, স্ট্যাম্প দিয়ে পুরো শরীরের আঘাত করে। আমি আঘাত নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের কাছে যাই। যাওয়ার পর অধ্যক্ষ মহোদয় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, মেডিকেল সার্টিফিকেট ও এক্স-রে রিপোর্ট নিয়ে আসতে। আমি আশ্চর্য্য হই স্যারের এই ব্যবহারে।

এই বিষয়ে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর সাথে মুঠোফোন প্রতিবেদকের আলাপ হয়। এসময় তিনি বলেন, ইন্সটিটিউটে কি হচ্ছে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন করুন। আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। সরাসরি কথা বলবেন।

নির্যাতনের আরো বর্ণনা জানতে চোখ রাখুন সিলেটের দিনকালের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।

সৌজন্যে : সিলেটের দিনকাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ