জকিগঞ্জে বন্যায় দুর্ভোগে দিনাতিপাত, সাথে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২২

জকিগঞ্জে বন্যায় দুর্ভোগে দিনাতিপাত, সাথে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

জকিগঞ্জে বন্যায় দুর্ভোগে দিনাতিপাত, সাথে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : জকিগঞ্জ উপজেলার সব কটি ইউনিয়ন বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। ঘনঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সীমান্তবর্তী উপজেলার মানুষ। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে দেয় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বন্ধ রাখে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিপাকে পড়েছেন বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। একদিকে ঘরে বন্যার পানি, চুলা বন্ধ অন্যদিকে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা।

উপজেলার ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকার মসজিদে আজান বন্ধ থাকে। মোটর চলে না, তাই পানির অভাবে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বিঘ্ন ঘটে।

ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ব্যাংক, বিমাসহ সরকারি একাধিক অফিসের কার্যক্রম ইন্টারনেট নির্ভর হলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেগুলো বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধনকারীরা সনদ সংগ্রহ করতে গিয়েও বিদ্যুৎ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলে থাকে না নেটওয়ার্ক। জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দুর্ঘটনা ঘটলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো গণমাধ্যমে সংবাদ পাঠানো সম্ভব হয় না।

জানা গেছে, বন্যা শুরুর পর থেকেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে গেছে। মাঝে-মধ্যে ১ / ২ মিনিটের জন্য ফিরলেও আবার চলে যায়। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকে উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা। পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলেও গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।

গৃহবধূ রুনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জকিগঞ্জকে দেখার যেন কেউ নেই। অভিভাবক না থাকলে যেমনটা হয় তেমনটাই এখন হচ্ছে। ভোট এলে সরকার দলের নেতা-কর্মী উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। কিন্তু বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সমস্যা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে সীমান্তের লোকজন। এমন পরিস্থিতির দায়ভার কে নেবে?’

ব্যবসায়ী মুনিম আহমদ বলেন, রাতেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থাকে অন্ধকারে। ফ্রিজের মাছ-মাংস পচে যায়। উপজেলায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিম আহমদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ হয়রানির ঘটনা সরকারের প্রতি মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন অসাধু কর্মকর্তারা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও আমরা থাকি অন্ধকারে।’

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আবুল কালাম বলেন, লাইনে সমস্যা থাকার কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
27282930   
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ