জনগণের জন্য জনগণের শাসন…..

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০১৯

জনগণের জন্য জনগণের শাসন…..

অ্যাডভোকেট আনসার খান :: শুধু বাংলো বাড়িই ক্ষমতার মাপকাঠির পরিচায়ক নয়।দেশের সংবিধান, রাষ্ট্রাচার ব্যবস্হা,প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতার বন্টন ব্যবস্হা ইত্যাদি মুল্যায়ন না করে এবং এগুলোতে সংস্কার না করে ডিসি,এসপি দেরকে বিরাট বাংলো বাড়ি থেকে বিতারন করে তাদেরকে যদি ৩রূমের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকার ব্যবস্হা করে দেওয়া হয় তাতে কী তাদের জমিদারি ক্ষমতার কোনো কমতি হবে?হবে না।তবে একটা কথা বলা যায় দেশে মানুষের সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে চলেছে, অথচ জমি কমছে কারণে সবার জন্য প্রযোজ্য হবে ছোট ছোট বাড়ি তৈরি করে থাকা যাতে মানুষের বাসস্থানের ও ব্যবস্হা হবে, আবার দেশের কৃষি জমিও কমবে না।

আরো একটা বিষয় হলো বৃটিশরা যখন এই জেলা প্রশাসন বাবস্হা চালু করেছিল তখন কিন্তু জেলা শহর বলতে কিছু ছিলো না কারণে বৃটিশ রাজকীয় অফিসারগণ এই সকল মফস্বল শহরে আসতে একদম রাজী হতেন না।এই সমস্যার মোকাবেলার জন্য বৃটিশরাজ অনেক ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছিল।তার মধ্যে অন্যতম ছিলো বিরাটকায় রাজকীয় অাধা লাটভবন,অত্যধিক সংখ্যায় চাকরবাকর দেওয়া, চলাচলের জন্য রাজকীয় বজ্রা ইত্যাদি নানাবিধ অপ্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাজকীয় অফিসারগণকে মফস্বলে যেতে প্রলুব্দ করতো। আর এসব অফিসারদের হাতে এতবেশী ক্ষমতা দিয়েছিলো শুধু মাত্র বৃটিশ শাসনকে চ্যালেঞ্জমুক্ত রাখার জন্য। কিন্তু আমাদের দুরভাগ্য এই যে,বৃটিশ, পাকিস্তান গেলো আমরা স্বাধীন হলাম প্রায় ৫০বছর,অথচ শাসনে কোনো পরিবর্তন আনা হলো না কেবলমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য। আর একাজে প্রধান সহায়তাকারী হলো এই ক্ষমতাধর আমলাকামলারা।দেশের মানুষ সংস্কার চায়,হোমরা চুমরা,আর জমিদারী শাসক চায় না সাধারণ মানুষ। তাই মাঝে মধ্যে শাসনে সংস্কারের দাবি ওঠে জনগণের পক্ষ থেকে। আর সংস্কারের কথা শুনলে এটা রোধ করার জন্য সকল স্বার্থবাজ আমলা কামলা,রাজনীতিক,পরগাছা পরজীবিরা এক হয়ে শা শা রব তোলে এই বুঝি সব গেল বলে। তাদের এই সূরগোলের সাথে আমরা অনেকেই সুর মিলাই,একাত্মতা প্রকাশ করি কাজেই সংস্কার আর হয় না,আমলাকামলাদের ক্ষমতার দাপট কমেনা,বরং এই সব বেয়াদব সংস্কারওয়ালাদের ঠেংগানোর জন্য ঐসব আমলাকামলাদের আরো বেশি করে ক্ষমতায়িত করা হয়।ভবিষ্যতে পুরো একটা প্রবন্দ এবিষয়ে লেখার ইচ্ছে রইলো যদি সময় করতে পারি।৷ ৷ তবে একটা কথা বলতে চাই, রাজবাড়ীর উচ্ছেদে নয়,রাষ্ট্র আর সমাজ ব্যবস্হার আমুল সংস্কারের মধ্য দিয়েই জনগণের ক্ষমতায়ন হতে পারে, সেক্ষেত্রে রাজবাড়ীগুলো উড়ে যাবে কৃষক, শ্রমিক আর মেহনতী মানুষের ঘামের দ্বারা সৃষ্ট ঘামঝড়ে।গোটা ব্যবস্হাটাকেই উপড়ে ফেলতে হবে এবং এর ওপর গড়ে তুলতে হবে নতুন ইমারত।তবে আসবে জনগণের জন্য জনগণের শাসন।
লেখক : অ্যাডভোকেট আনসার খান ,গণফোরাম সিলেট মহানগর সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ