জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা!

প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা!

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: কানাডার আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল সতর্ক করে বলেছেন, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বন্যা পূর্বাভাসের নানা তথ্য উপাত্ত এবং বাংলাদেশের নদীগুলোর জলপ্রবাহের এই মুহূর্তের গতি প্রকৃতির বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ইতিমধ্যে চিলমারি থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি প্রবাহ বিপদ সংকেত দিতে শুরু করেছে। তিনি সরকার এবং জনগণকে আগাম সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মতামত দেন। কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে এই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল সিলেটের বন্যার আগেই বন্যা নিয়ে পূর্বাভাস করেছিলেন যা পরবর্তীতে সঠিক হয়। বর্তমানের বন্যা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোয় তার মতামত গুরুত্বসহকারে প্রতিদিনই উল্লেখিত হচ্ছে হচ্ছে।

’শওগাত আলী সাগর লাইভে’ এর আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষক মোস্তফা কামাল সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভবসহ নানাদিক তুলে ধরেন। গবেষক মোস্তফা কামাল সাম্প্রতিক সময়ের আবহাওয়া গতিবিধির নানা দিক তুলে ধরে বলেন, চেরাপুঞ্জিতে যে সময় বৃষ্টি হয়েছে ঠিক একই সময়ে আসামেও প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিতে সিলেটে তাৎক্ষণিক বন্যা হলেও আসামের বৃষ্টি বাংলাদেশের এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি। তিনি বলেন, আসামের যে অংশে ব্রক্ষ্মপুত্র নদী সেটি অত্যন্ত মসৃণ এবং ঢালু অতোটা খাড়া নয়। যেটি চেরাপুঞ্জি এলাকায় একেবারে খাড়া। তিনি বলেন, একই সময়ে দুই জায়গায় বৃষ্টিপাত শুরু হলেও আসামে নদীটা যেহেতু ঢালু এবং মসৃণ, ফলে ওই বৃষ্টি নেমে আসতে সময় লাগছে। তবে পানি নামছে।

গবেষক মোস্তফা কামাল বলেন, তিস্তা এবং চিলমারি বন্দর যেখানে ভারত থেকে ব্রক্ষ্মপূত্র প্রথম প্রবেশ করে, সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যমুনা নদীর দুই পাড়ে নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে এবং আসাম থেকে পানিটা নামছে দুটি মিলে কুড়িগ্রাম, গাইবন্ধা, সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গবেষক মোস্তফা কামাল বলেন, গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা মেঘনা এবং যমুনা এক সাথে মিলিত হয়। সিলেট থেকে নেমে যাওয়া পানি মেঘনার মাধ্যমে গোয়লন্দর কাছে আসবে, একই সঙ্গে যমুনার পানি এসে গোয়ালন্দে মিশবে। তিনি বলেন, আগামী ২/৩ দিন পরই দেশের মধ্যাঞ্চলে তথা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, চাঁদপুর এবং মুন্সীগঞ্জের চর এলাকায় পানি প্রবাহ বাড়তে থাকবে। এই মাসের শেষ সপ্তাহে মধ্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে বলে এই গবেষক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যমুনা দিয়ে যে পানিটা আসছে সেটি নানা শাখা প্রশাখা নদীর মাধ্যমে টাঙ্গাইল এলাকা এবং ঢাকার আশুলিয়া এলাকাকে প্লাবিত করবে- এমন ঈঙ্গিত পূর্বাভাসগুলো দিচ্ছে।

গবেষক মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের মাত্র বর্ষা শুরু হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রবাহ শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। বাংলাদেশের বর্ষা মৌসুম এখন অক্টোবর পর্যন্ত গড়ায়। তিনি বলেন, লা নিনা’র কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত এবং বন্যা হয়। বৃষ্টিপাতের সঙ্গে মেডেন জুলিয়ান ওসিলেশন’ (গ্রীষম্মন্ডলীয় আবহাওয়ার ওঠানামা)এর সম্পর্ক আছে। বর্তমানে ‘মেডেন জুলিয়ান ওসিলেশন’ দুর্বল অবস্থায় আছে। জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহে এটির সক্রিয় দশা হবে। তখন এটি অবস্থান করবে ভারত মহাসাগরের উপরে। এতে বঙ্গোপসাগরে প্রচন্ড মেঘ এবং জলীয় বাস্প তৈরি হবে। বাতাস এই মেঘের পুরোটাই আমাদের বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসে। তখনই মেঘালয় এবং আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু হবে। সেই বিবেচনায় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আরেকটি বন্যার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা নানা বিষয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জন্য সুপারিশ উপস্থাপনা করছে। সরকারের উচিৎ সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ