জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে জামায়েত ও বিএনপির নেতারা স্থান করে নিলেন! তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১

জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগে জামায়েত ও বিএনপির নেতারা স্থান করে নিলেন! তৃণমূলে ক্ষোভ

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট যিনি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তিনিই আবার ২০২১ সালে হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা। তবে এবার বিএনপির নয় খোদ ক্ষমতাসীন দলের ।
জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নব গঠিত কমিটির এ চিত্র। নতুন কমিটিতে একজন নয় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে স্থান পেলেন বিএনপির ৪ জন এবং জামায়াতের রাজনীতি করা একজন। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপর।
দলীয় সূত্র জানায়, বিগত ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর দীর্ঘ ১৫ বছর পর জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু কাউন্সিল ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনকে সভাপতি ও মাসুক আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি নেছার আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান।
সম্মেলনে সরাসরি ভোট না দিয়ে চাপিয়ে দেওয়া কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ছিলো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তখন ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে উপজেলা কমিটিতে রাখা হবে বলে কথা দিয়েছিলেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। তাদের আশ^াসে তখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ এপ্রিল রাতে জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সদ্য ঘোষিত কমিটিতে ২০০৪ সালের আহবায়ক কমিটির অনেক সদস্য বাদ পড়েন। তাছাড়া উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী, ভাতিজা,শ্যালকসহ সরাসরি বিএনপি -জামায়াতের রাজনীতির সাথেযুক্ত কয়েকজন স্থান পান।
জামায়াতে,বিএনপি, যুবদল থেকে যারা কমিটিতে এসেছেন তাদের অতীতের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সরব হয় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
ফেসবুকে নব্বই দশকের ছাত্রলীগ নেতা, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলার শিকার হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া মাসুদ রানা লিখেন, ‘৯০ দশকে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শিকড় মজবুত করতে গিয়ে যে সকল ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে জুড়ীর রাজপথে মুখোমুখি হতাম। মারামারি করতাম। হামলা মামলার শিকার হয়েছিলাম তাদেরকে দেখি জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে। জুড়ীর রাজপথে ছাত্রলীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে যারা রক্ত দিলো হামলা মামলার শিকার হলো তাদের কোন খোজ খবর নাই।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের নব গঠিত কমিটির সদস্য আনফর আলী কমেন্টে লিখেন, ‘বিএনপি থেকে ৪ চারজন ” গণফোরাম থেকে ১জন ” হাইব্রিড ৭জন ” পারিবারিক সদস্য ৯জন “সুবিধা ভুগিদলের ২৩জন।’ তিনি আরও লিখেন, ‘২০০১এর নির্বাচনের রাত্রে আমাদের উপর যারা হামলা করেছিল। তারাই আজ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা।’
হোসাইন মোহাম্মদ শাহজাহান নামের একজন লিখেছে, ‘জুড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগের অভাব দেখা দিয়েছে তাইতো বি এন পি থেকে এনে নেতা বানানো চলছে।’
কমিটির তালিকায় দেখা যায়, ২০১৩ সালের জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজল বাউরিকে করা হয়েছে ৬৩ নং সদস্য, আর ফুলতলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য কামাল উদ্দিনকে করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৪ নং সদস্য,পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ৩৭ নং সদস্য জাহেদ হোসেন তাজিনকে করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৯ নং সদস্য।
তবে ২০১৭ সালে তিনি ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদের স্ত্রীর বড় ভাই শাহীন আহমদ, যিনি ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তাকে ও করা হয়েছে আওয়ামীলীগের সদস্য।
ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজল বাউরি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যে বিএনপির কমিটিতে আছি এটা আমার জানা নেই,এখন ফেসবুকে দেখে জানার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি।
মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান বলেন, উপজেলা থেকে যে তালিকা দেয়া হয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী আমরা কমিটির অনুমোদন দিয়েছি। নতুন কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত কেউ থাকলে এবং তার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন বলেন, জুড়ী উপজেলার কমিটির বিষয়ে জেলা কমিটিই ভালো বলতে পারবেন। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ