জৈন্তাপুরে তৃতীয় দফায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপদ সীমার উপরে সারী নদীর পানি

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

জৈন্তাপুরে তৃতীয় দফায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপদ সীমার উপরে সারী নদীর পানি
শাহজাহান কবির খান জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় গত দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট আকস্মীক বন্যায় উপজেলার সীমান্ত ঘেষা ৩ ইউনিয়ন সহ সবকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদ সীমার .২১ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে দেখা যায়নি। আকস্মীক পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়েছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীন জনপথ স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ এবং বীজতলা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতি গ্রস্থের স্বীকার হয়েছে নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবার গুলো। গ্রামের দরিদ্র পরিবার গুলোর বসত বিটা কাঁচা থাকায় বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। আকস্মীক বন্যায় বাড়ী-ঘর তলিয়ে যাওয়ার কারনে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে গ্রামীন জনপদে বসবাসকারীরা। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এতে পানির মধ্যে আটকে পড়া হাওর অঞ্চলের পরিবার গুলো, বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। বিকাল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বন্যায় আটকে পড়া পরিবার গুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বা বিশুদ্ধ পানির কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি উপজেলা প্রশাসন। বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের লোকজন নিজ উদ্যোগে নৌকা অথবা বেলায় করে বিশুদ্ধ পানির জন্য উচু জায়গায় দিকে ছুটে আসতে দেখা যায়। এ দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যা কবলিত এলাকা উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই।
জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, নলজুরী হাওর ও শেওলারটুক। চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অপর দিকে বেশ কয়েকদিন থেকে দরবস্ত ইউনিয়নের কাঞ্জর, গর্দনা, সেনগ্রাম, মোহাইল, ছাতারখাই, শুকইনপুর। ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু, লামাশ্যামপুর, বালীপাড়া, হরিপুর এবং চিকনাগুল ইউনিয়নের কাটুয়াকান্দি, কাপনা কান্দি, শিখার খাঁ, কহাইঘর সহ উপজেলার বেশির ভাড় নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এদিকে সারী নদী, বড়গাং নদী এবং নয়া গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদ সীমার .২১ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়ী বাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোঃ আলা উদ্দিন। তিনি আরও বলেন বৃষ্টি থামলে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হবে। বন্যার খবর জানতে জৈন্তাপুর পানি উন্নয়ন অফিসে গেলে কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ